আন্তর্জাতিক সীমান্ত বেড়ার বাইরে বাস ১৫০ টি ভারতীয় পরিবারের, পুর্নবাসন অসমে

আন্তর্জাতিক সীমান্ত বেড়ার বাইরে বাস ১৫০ টি ভারতীয় পরিবারের, পুর্নবাসন অসমে
করিমগঞ্জের কাছে ‌ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত বেড়ার বাইরে বসবাসকারী ১৫০ জনের বেশি ভারতীয় পরিবারকে অসমে পুর্নবাসন দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার তাঁদের জেলা ডেপুটি কমিশনারের কাছে রিপোর্ট করতে বলেছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত বেড়ার বাইরে বাস ১৫০ টি ভারতীয় পরিবারের

ন'‌টি সীমান্ত গ্রামের এই পরিবারগুলি ভারতীয় হলেও ভারতে প্রবেশ করতে হলে এঁদের বিএসএফ থেকে অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই ন'‌টি গ্রাম হল গোবিন্দপুর, লাটুকান্দি, ঝরা পাতা, লাফাসাইল, লামজুয়ার, মহিষাশান, কৌরনাগ, দিওতালি ও জোবাইনপুর। করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি চিঠি জারি করা হয়েছে প্রত্যেক পরিবারকে, যেখানে বলা হয়েছে ৩০ জুনের মধ্যে তাঁদের নথি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে।

অসম সরকারের শীর্ষে থাকা কর্মকর্তা দেব জ্ঞানেন্দ্র ত্রিপাঠি বুধবার এই বিষয় নিয়ে একাধিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন যে এই সমস্যাটি এই আর্থিক বছরের মধ্যেই সমাধান হবে এবং সরকারের এটা নিয়ে ২টি পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, '‌বৈঠকের পর আমরা উপলব্ধি করি যে দু'‌টি বিকল্প রয়েছে। আমরা নয় অতিরিক্ত বেড়া তৈরি করে গ্রামবাসীদের ভেতরে নিয়ে আসি বা আমরা এই পরিবারগুলিকে বিদ্যমান বেড়ার ভিতরে আসতে বলতে পারি। দ্বিতীয় বিকল্পে আমরা তাঁদের পুর্নবাসনের জন্য জমি দিতে পারি, যেটা আমাদের জন্য সহজ হবে।'

বিএসএফের (‌মিজোরাম ও কাছার ফ্রন্টিয়ার)‌ আইজি মৃদুল কুমার সোনওয়াল জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন যে তারা বেড়ার লাইন পরিবর্তন করে এই গ্রামগুলিকে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সোনওয়াল বলেন, 'আমরা আসল বেড়া স্থানান্তর করতে পারি বা অতিরিক্ত বেড়া দেওয়া যেতে পারে যা এই গ্রামবাসীদের রক্ষা করতে পারে।‌ নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে কারণ হাজার হাজার ভারতীয় বেড়ার ওপারে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের দিকের সীমান্ত উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেটা দিয়ে একাধিক অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে।'‌ এখানে উল্লেখ্য, এইসব গ্রামে বসবাসকারীরা ২০২০-২১ সালের কোভিড মহামারির সময় খাদ্য ও যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা পাননি, কিন্তু তাও তাঁদের ভারতের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিএসএফের কর্মীরা তাঁদের ওষুধ ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রমাবাসীদের খাবার সরবরাহ করেছে।

গত বছর অক্টোবরে, দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশে যখন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেয়, তখন এসব গ্রামের লোকজন বেড়ার ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। রিপোর্টে এও জানা গিয়েছে যে বাংলাদেশী পুলিশ এই গ্রামের কিছু যুবককে গ্রেফতার করে এবং এখনও এদের মধ্যে একজন প্রতিবেশী দেশের জেলে আটকে রয়েছে। গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মাখন নামাশুদ্রা জানান যে তাঁরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক চাহিদাগুলি থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেছিলেন যে তাদের গ্রামে একটি স্কুল ছিল যা ১২ বছর ধরে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান অব্যাহত রেখেছিল, কিন্তু অসম সরকার অনুদান দিতে অস্বীকার করেছিল। তিনি বলেন, '‌আমরা আমাদের সন্তানদের করিমগঞ্জে পাঠাই স্কুলে পড়াশোনার জন্য কিন্তু আমরা যদি আমাদের স্কুলে তাঁদের পড়াই তবে তারা সরকারি চাকরি পাবে না।'‌

অন্যান্য পরিবারের মতো মাখনও করিমগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি নোটিস পেয়েছেন। মাখন বলেন, 'অতীতে, সরকার আমাদের স্থানান্তরের জন্য বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা কখনও আমাদের ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এবার তারা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে কিন্তু আমরা আরও নিরাপত্তা চাই। সরকার আমাদের জমি ও উপযুক্ত পরিচয় দিলে সবাই এই এলাকা ছাড়তে রাজি হবে‌।'‌

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+