Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

রামরাজাতলার আবেগে জড়িয়ে রামচন্দ্র! কীভাবে এল সেই নাম, ইতিহাস কী বলছে

রামরাজাতলা হাওড়ার এক অতি পরিচিত জনপদ। তবে এই পরিচিতি সাধারণভাবে হয়নি। হাওড়ায় রামরাজাতলা নামের আলাদা কোনও এলাকা আজ থেকে তিনশো বছর আগে ছিল না । এখানকার বিখ্যাত রামপুজো প্রচলিত হওয়ার পর থেকে রামমন্দিরের সন্নিহিত এলাকা রামরাজাতলা নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়রা অবশ্য সংক্ষেপে এই এলাকাতে রামতলা বলে থাকেন।

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে সারা দেশে রামভক্তদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে নব্বই-এর দশক থেকেই, তবে উত্তর ভারতীয়দের মধ্যে রামকে দেবজ্ঞানে পুজো করার প্রচলন বহুদিনের। তবে সারা দেশে রাম-সীতা-হনুমানের যে ধরণের মূর্তি, ছবি দেখা যায় রামরাজাতলা-র রাম-সীতার গঠন তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রূপের । রামরাজাতলা-র রাম-সীতা সম্পূর্ণ বাঙালি গড়নের । বাস্তবে মোটা গোঁফওয়ালা রাম-মহাদেব-ব্রম্ভার মূর্তি গোটা ভু-ভারতে সম্ভবত আর কোথাও নেই ।

রামরাজাতলার আবেগে জড়িয়ে রামচন্দ্র

জেলার ইতিহাসবিদরা বলেন, রামরাজাতলা-র খ্যাতি মাত্র ২৫০-৩০০বছরের । সাঁতরাগাছি-র প্রখ্যাত জমিদার অযোধ্যারাম চৌধুরী রাজবেশধারী রাম-সীতার পুজো প্রবর্তন করার কিছুদিন পর থেকেই রামমন্দির সন্নিহিত এলাকা রামরাজাতলা নামে পরিচিতি লাভ করে ।

কথিত আছে রামভক্ত অযোধ্যারাম চৌধুরী স্বপ্নাদেশে শ্রী রামচন্দ্রের পুজো করার নির্দেশ পান । সেই স্বপ্নাদেশের রূপায়নে তিনি উদ্যোগী হন বিশালাকারে এবং বারোয়ারি পুজোর আদলে রাম-সীতার পূজার্চনা করতে । কিন্তু সেই সময় এই এলাকায় বারোয়ারি সরস্বতী পুজোর খুব খ্যাতি ছিল। স্থানীয়রা এই পুজোয় মেতে উঠতো। ফলে একদল গ্রামবাসী বারোয়ারি রাম পুজোর বিরোধিতা করলেন।

দুদলের ধারাবাহিক আলোচনায় শেষমেষ এই সিদ্ধান্ত হলো যে , রাম-সীতার পুজোই বড় করে হবে, কিন্তু সরস্বতী পুজোর দিন প্রতিমা নির্মাণের সূচনা হবে বাঁশ কাটা এবং প্রারম্ভিক পুজোর মধ্য দিয়ে । আর রামসীতার মূর্তির উপরের দিকে অবস্থান করবেন দেবী সরস্বতী । শুধুই তাই নয় , এও স্থির হয় যে , সরস্বতী পুজোর দিন নন্দীপাড়ার একটি বাঁশবাগান থেকে বাঁশ কেটে এনে খুঁটি পুজোর মাধ্যমে প্রতিমা নিমার্ণের সূত্রপাত হবে । সেই নিয়ম আজও চলেছে।

সাম্প্রতিক মন্দির উন্নয়ন কমিটি গঠন করে মন্দির এবং মেলাপ্রাঙ্গণ-এর সংস্কার করা হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছে আরও প্রশস্ত ও ঝকঝকে , তৈরি হয়েছে পুরাতন মন্দিরের ঠিক উল্টোদিকে আরও একটি মন্দির । এই মন্দিরে সারাবছর পূজিত হচ্ছেন উত্তর ভারতীয় শৈলীতে গড়া পাথরের রাম-সীতা। পুরনো রাম-সীতার গঠনের সাথে নতুন মন্দিরের পাথরে নির্মিত দেবমূর্তির কোন মিলই নেই । বরং তা অনেকটাই হিন্দি বলয়ের মন্দিরের দেবমূর্তির গঠনযুক্ত ।

বর্তমানে প্রতিবছর সরস্বতী পুজোর দিন ষষ্ঠীতলার নন্দীপাড়ার নির্দিষ্ট বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটার পরে চৌধুরীপাড়ায় শিবমন্দিরে বাঁশ পুজোর মাধ্যমে রামসীতার মূর্তি গড়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয় । এর অল্প কিছুদিন পর থেকেই রামরাজাতলা বাজারের আটচালায় কুমারটুলির প্রতিমা শিল্পী গৌর পালের বংশধর-রা প্রতিমা নির্মাণ শুরু করে দেন ।

আড়াইশো বছরেরও বেশী প্রাচীন এই পুজো প্রথমে তিনদিন ,তারপর পনের দিন , আরও পরে একমাস ধরে চলতো । বর্তমানে চৈত্র বা বৈশাখ মাসে রামনবমী তিথিতে শুরু হয়ে শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবার পর্যন্ত রাম পুজো ও সেই উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মেলা চলতে থাকে । আগে এই পুজো চলাকালীন প্রতি শনি ও রবিবার যাত্রাপালার আসর বসতো ! সেসব এখন আর হয়না ঠিকই ,তবে প্রতিদিন পুজো ,ভোগ নিবেদন ,সন্ধ্যারতি ইত্যাদি চালু আছে ।

রাবণবধের পরে সপারিষদ রাজা রাম ও সীতার মূর্তি এখানে পূজিত হয় । সঙ্গে আছেন মহাদেব ,ব্রম্ভ্রাসহ মোট ২৬ টি প্রতিমা । অবশ্যই রামসীতার মাথার উপরের দিকে অবস্থান করছেন পাঁচটি সরস্বতী প্রতিমা । এছাড়া আছেন দেবী জগদ্ধাত্রী-র দুটি মূর্তি,এক্কেবারে উপরে বসুদেব, রামের দুইপাশে লক্ষণ ,ভরত ,শত্রুঘ্ন ,বিভীষণ ,হনুমান ,জাম্বুবান ,শিবের অনুচর নন্দী-ভৃঙ্গি ইত্যাদি । পাশে আলাদা ভাবে আছে মহাবীর হনুমানের মূর্তি ; সাবিত্রী-সত্যবান এবং বিষ্ণুর বামন অবতারের মূর্তির আলাদা মন্দিরকক্ষ ।

রামসীতার পুজো উপলক্ষে প্রায় চারমাসের মেলা কেবলমাত্র রামমন্দির চত্বরেই বসে , অন্য তিনটি মন্দিরে নিত্যপুজো হলেও মেলা বসে না । শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবার চারটি বিশাল প্রতিমা ও তাঁদের অনুচরদের নিয়ে , ব্যান্ডপার্টি ও আলোকসজ্জা নিয়ে বিশালাকার শোভাযাত্রা শুরু হয় । সবার আগে থাকেন শমী চণ্ডী , তারপর দুই নরনারী এবং সবার শেষে রামচন্দ্র ।

রামরাজাতলা থেকে গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত কয়েকলক্ষ লোকের সমাগম হয় রামবিজয়ার মেলা উপলক্ষ্যে । সমস্ত যান-বাহন চলাচল বন্ধ থাকে ওইদিন । রামরাজাতলার মেলা সমগ্র ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মেলা । এই মেলায় মূলতঃ আকর্ষণ ছিলো বাদামভাজা , জিলিপি আর কাঁচের চুড়ি । কালের নিয়মে সেইদিন অস্তমিত । টিমটিম করে চলছে গোটা তিনেক কাঁচের চুড়ির দোকান।

রামরাজাতলার রাম ঠাকুরের মেলা একসময়ে সারা দেশের দীর্ঘতম মেলা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছিল। পুরানো আটচালা উধাও হয়েছে, তারপর মেলাও এখন আর সেভাবে বসে না। ফলে মেলা তার কৌলীন্য হারিয়েছে । চারমাসের মেলা তাই এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে ।

১৯০৯ সালে রামকৃষ্ণের শিষ্য নবগোপাল ঘোষের বাড়িতে আসার সময় মা সারদা এই মন্দিরে আসেন রামচন্দ্রের দর্শনে । মন্দিরের পাশের পুকুরে পা ধুয়ে তিনি রামমন্দিরে প্রবেশ করেন ও শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি দর্শন করেন। সেই পুকুরের অবশ্য অস্তিত্ব নেই বর্তমানে ।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+