সিট শুধু মাপজোক করে আর চলে যায়! লাই ডিটেক্টরে যেতে নারাজ আনিসের বাবা
হাওড়ার আমতায় ছাত্রনেতা আনিস খানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম দিন থেকে সিবিআই দাবি করছেন বাবা সালেম খান। তাঁর বিশ্বাস নেই সিটের তদন্তে। যেখানে রাজ্য পুলিশের দিকেই অভিযোগের তির, সেখানে কী করবে সিট।
হাওড়ার আমতায় ছাত্রনেতা আনিস খানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম দিন থেকে সিবিআই দাবি করছেন বাবা সালেম খান। তাঁর বিশ্বাস নেই সিটের তদন্তে। যেখানে রাজ্য পুলিশের দিকেই অভিযোগের তির, সেখানে কী করবে সিট। এখন রামপুরহাট-কাণ্ডে সিবিআই হওয়ার পর তিনি ফের একই প্রশ্ন তুলেছেন। তাই সিটের তদন্তে সহযোগিতা করছেন না আনিসের বাবা সালেম খান।

সিট এখন সালেম খানকে দিল্লিতে নিয়ে যেতে চায় লাই ডিটেক্টর টেস্টের জন্য। কিন্তু তিনি যেতে নারাজ। সিটের প্রস্তাবে সালেম খান তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। শনিবার সিটের ছয় সদসয গিয়েছিলেন আমতার সারদা গ্রামে আনিস খানের বাড়িতে। এক চিত্রগ্রাহকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলে তাঁরা। তাঁরা ঘণ্টা দুয়েক আনিসের বাড়িতে ও এলাকায় তদন্ত চালান। বিভিন্ন জায়গায় মাপজোক করেন।
সালেম তখন তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন। তিনি তদন্তকারীদের দেখিয়েছেন কোথা থেকে কীভাবে পড়েছে আনিসের দেহ। সিট ফের আনিসের বাবার বয়ান রেকর্ড করে। তারপর সিটের সদস্যরা তাঁকে প্রস্তাব দেন লাই ডিটেক্টর টেস্টের জন্য তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে। সালেম খান সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমি ওই পরীক্ষা করতে গেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ব।
আদালতের নির্দেশের পর সিটের তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও আনিসের বাবা প্রশ্ন তুলতে ছাড়ছেন না। তিনি বলেই চলেছেন সিটের তদন্তে তাঁর বিশ্বাস নেই। তিনি মনে করেন, একমাত্র সিবিআই হলেই তিনি সুবিচার পাবেন। সিট এই নিয়ে মোট সাতবার এল তাঁর বাড়িতে। প্রতিবারই এসে মাপজোক করে আর চলে যায়। কী তদন্ত হচ্ছে, তার কিছুই জানতে পারছি না।
আনিসের বাবা বলেন, রামপুরহাট-কাণ্ডেও রাজ্য সরকার সিট গঠন করেছিল। তারপর সেখানে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমার ছেলের মৃত্যুর তদন্তে কেন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে না? প্রশ্ন তোলেন আনিসের বাবা সালেম খান। তিনি বলেন, আমি এখনও বলছি, সিটের তদন্তে আমার ভরসা নেই। আমরা সিবিআই তদন্ত চাইছি।
এদিন সিটের প্রধান ডিআইজি-সিআইডি জ্ঞানবন্ত সিংকে কটাক্ষ করেন সালেম খান। তাঁকে ইডি-তলব নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। সিট এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী বাদে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি, এই ঘটনার কিনারা তো দূর অস্ত। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিট গঠন করে নিজে জানিয়েছিলেন ১৫ দিনের মধ্য সত্য সামনে আনবেন। সিট আদালতের নির্দেশের ১৫ দিনের মাথায় হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আরও এক মাস সময় চেয়েছে আদালতের কাছে।












Click it and Unblock the Notifications