'ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারলে তা সুইডেনকে বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জেতানোর মতো মুহূর্ত হবে আমার কাছে'
'ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারলে তা সুইডেনকে বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জেতানোর মতো মুহূর্ত হবে আমার কাছে'
মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ ভারতীয় মহিলা দল। রাত পোহালেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দেশ। কিছু উদ্দ্যোমী, লক্ষ্যে অনঢ় মেয়ের চোখে স্বপ্ন দেখছে গোটা দেশ। ১৪০ কোটির দেশবাসীকে যে এই স্বপ্ন দেখার সাহস দেখিয়েছেন তিনি থমাস ডেননার্বি, যাঁকে সমগ্র বিশ্ব চেনে মহিলা ফুটবলের 'মহিরূহো' কোচ হিসেবে।

ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি:
থমাসের অধীনে ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ২৭০টি সেশন কাটানো ভারতীয় যুব মহিলা দল ফেব্রুয়ারি থেকে ফিফা অনূুর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুশীলন শুরু করে। মাঝে মেয়েদের পড়াশুনা এবং পরীক্ষার জন্য কিছু সময় অনুশীলন বন্ধ থাকলেও দলকে বিশ্ব ফুটবলের মহারণের আগে সেরা স্তরে পৌঁছিয়ে দিতে কোনও কমতি রাখেননি সুইডেনকে মহিসা বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ এনে দেওয়া কোচ। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে ডেননার্বির কথাতেও ধরা পড়েছে সেই আত্মবিশ্বাস। দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "দলের প্রস্তুতি ভাল মতোই হয়েছে। আমরা ফেব্রুয়ারির শেষের দিক থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে বেশ কিছু ভাল ম্যাচও আমরা খেলেছি।ইউরোপীয় ফুটবলের হেভিওয়েটদের সঙ্গে খেলে মেয়েদের শক্তির পরীক্ষা হয়েছে। ওরা কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তা বোঝা গিয়েছে।"

সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার ক্ষমতা রাখে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলারা:
দুই সপ্তহ আগে স্পেনে এক্সপোজার ট্যুরে গিয়েছিল ভারতীয় মহিলা অনূর্ধ্ব-১৭ দল। সেখানে ওমেন সকার স্কুল বার্সেলোনা'কে গোলের মালা পরায় ভারত। ডেননার্বি বলছিলেন, "দুই সপ্তাহ আগে স্পেনে আমরা দেখিয়েছি এই দলটা সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলতে পারে। আমরা প্রথম ম্যাচের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। মেয়েকা তৈরি, আমরা তৈরি।" তবে, ডেননার্বি কি মনে করেন তাঁর দল গ্রুপ পর্যায়ে আমেরিকা, মরক্কো, ব্রাজিলের মতো দলের বাধা টপকে পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছতে পারে। প্রশ্নের জবাবে প্রত্যেয়ের সঙ্গে সুইডিশ কোচ বলেন 'অবশ্যই! অবশ্যই!' তাঁর কথায়, "অবশ্যই আমরা কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য কোয়ালিফাই করতে পারি। আমাদের অন্যান্য দলগুলিকে হারাতে হবে এবং এটাই আমাদের লক্ষ্য।"

সুযোগ কাজে লাগালে আমেরিকার বিরুদ্ধে জেতা উচিৎ:
ঘরের মাঠে খেলার ফলে সমর্থকদের পাশে থাকা অ্যাডভান্টেজ হলেও তা মেয়েদের উপর কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন হাইপ্রোফাইল কোচ। তাঁর কথায়, "ঘরের মাঠে খেলা বরাবরই বাড়তি সুবিধা দেয়। গ্যালারির উদ্দ্যম এবং সমর্থন খেলোয়াড়দের আরও বেশি মোটিভেট করে নিজেদের নিংড়ে দেওয়ার জন্য। সর্বস্য দিয়ে দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নয় যে এই অ্যাডভান্টেজটা কতটা ওরা (ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দল) কাজে লাগাতে পারবে। কারণ সমর্থকরা মাঠে থাকায় যেমন মেয়েরা বাড়তি তাগিদ অনুভব করবে তেমনই প্রত্যাশার চাপটাও থাকবে ওদের সঙ্গে। আমেরিকা অবশ্যই ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে। তবে ম্যাচ যখন শুরু হবে স্কোর লাইন ০-০ থাকবে এবং পুরোটাই নির্ভর করবে মাঠে ৯০ মিনিট কেমন খেলতে পারো তার উপর। আমরা যদি নিজেদের প্রাপ্ত সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পারি তা হলে আমেরিকার বিরুদ্ধে জেতাটা খুব একটা বড় বিষয় হবে না।

ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুললে তা সুইডেনকে বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জেতানোর মতোই হবে:
২০১১ সালে মহিলা বিশ্বকাপে সুইডেনকে ব্রোঞ্জ জিতিয়েছিলেন থমাস ডেননার্বি। 'মহিরূহ' কোচ বলেন, " ভারতীয় দল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলে তা আমাদের জন্য সাফল্য হবে এবং কোয়ার্টারে পৌঁছলে যে কোনও কিছু ঘটতে পারে, তখন এই দলকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে বাধ্য হবে অন্যান্যরাও। ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে তা সুইডেনকে বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জেতানোর মতো মুহূর্ত হবে আমার কাছে।"

চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে আমেরিকা:
এই ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ আমেরিকা প্রযুক্তিগত এবং ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে থেকে শুরু করবে ভারতের বিরুদ্ধে। ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৭ CONCACAF চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতে খেলতে এসেছে এই দলটি। আমেরিকার গ্রাস রুট ফুটবলের ডেভেলপমেন্টে প্রচুর অর্থ খরচ করেছে সেই দেশের ফুটবল সংস্থা এবং মহিলা ফুটবলের বিকাশে অনেক জোর দিয়েছে। ২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের রানার্স দল আমেরিকা।
ছবি: ফিফা সৌজন্যে (ফিফা ভায়া গেটি ইমেজেস)












Click it and Unblock the Notifications