ISL 2024-25: ইস্টবেঙ্গলের স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের রহস্য ফাঁস অস্কারের, দিয়ামান্তাকসকে নিয়েও খুশির খবর
ISL 2024-25: বিরতিতে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে কোনও গোল হজম না করে ৪-২ গোলে জেতা। গতকাল বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের জয় টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সেরা কামব্যাকগুলির অন্যতম।
লিগের পয়েন্ট তালিকায় লাল হলুদের অবস্থান না বদলালেও এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল অনেকটাই। হেড কোচ অস্কার ব্রুজো ম্যাচের পর ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য ফাঁস করলেন।

প্রথমার্ধে দলের খেলা মোটেই খুশি করতে পারেনি অস্কারকে। বিরতিতে ড্রেসিংরুমে তা ফুটবলারদের সরাসরি জানিয়ে দেন। তিনি যেভাবে তাতিয়ে দিলেন গোটা দলকে, তাতেই দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলকে দেখা গেল অন্য চেহারায়।
অস্কার ম্যাচের শেষে বলেন, প্রথমার্ধের শেষে খুব হতাশ লাগছিল। কিছুই ঠিকঠাক চলছিল না। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে লড়াই করতে পারছি না, এটা মোটেই ভালো বিষয় নয়। বিরতিতে প্লেয়ারদের তাই বলি, দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথমার্ধের মতো খেললে ৯০ মিনিট দাঁড়ানোই সমস্যা হবে। যদিও প্রথমার্ধে যা ঠিকঠাক চলেনি, তা ঠিক হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।
আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা ও মানসিকতায় সমস্যা হচ্ছিল বলে উপলব্ধি অস্কারের। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধে ছেলেরা সিংহবিক্রম দেখিয়েছেন। যে পরিবর্তনগুলি করেছি সেগুলোও কাজে দিয়েছে। যাঁরা নিয়মিত ভালো অনুশীলন করেও ম্যাচে নামার সুযোগ পান না, তাঁরাই এদিন বাজিমাত করেছেন।
পাঞ্জাব এফসি ম্যাচে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া এই জয় লাল হলুদের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে আশা ব্রুজোর। ইস্টবেঙ্গল ২১ মিনিটের চার-চারটি গোল করে। রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে পিভি বিষ্ণু মাঠে নামতেই বদলে যায় গোটা ছবি।
অস্কার ব্রুজো জানিয়েছেন, নওরেম মহেশ মাথায় বল লেগে সামান্য সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাই ঝুঁকি না নিয়ে বিষ্ণুকে নামাই। ভালোই হয়েছে। কামব্যাকে অবদান রেখেছেন বিষ্ণু। তবে মহেশের চোট গুরুতর কিছু নয়।
ব্রুজোর কথায়, প্রথমে উইংয়ে যে সমস্যা হচ্ছিল একদিক ধরে নিয়ে বিষ্ণু সেই সমস্যা মিটিয়ে দেন। ক্লেটন সিলভাও আক্রমণে যাওয়ার পাশাপাশি মাঝমাঠে দায়িত্ব নেওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে পাঞ্জাবের চেয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পাঞ্জাবের চেয়ে বেশি ছিল ইস্টবেঙ্গলের।
অস্কার নিজে আক্রমণাত্মক ফুটবল পছন্দ করেন। চান প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করুক তাঁর দল। ব্রুজোর আশা, একদিন তাঁর দল ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল দখলে রাখতে পারবে। এখনই সেটা কঠিন। রক্ষণ আগলে যতটা সম্ভব কম ঝুঁকি নিয়েও আক্রমণে যেতেই হবে। বাড়াতে হবে আত্মবিশ্বাস।
দিমিত্রি দিয়ামান্তাকসকে নিয়ে অস্কার বলেন, পাঞ্জাব ম্যাচেই তাঁকে নামাতে পারতাম। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে তার দরকার পড়েনি। আগামী দুটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। তাতে দিমিকে নামাব। শনিবার জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে খেলে ২৮ জানুয়ারি হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল।












Click it and Unblock the Notifications