কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগে গর্জে উঠলেন ফিফা সভাপতি, ৩ হাজার বছর ধরে ক্ষমা চাইতে বললেন কাদের?
কাতার বিশ্বকাপ শুরু কাল। তার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তুলোধনা করলেন ইউরোপের দেশগুলিকে। বিশেষ করে যারা আয়োজক কাতারের নানা বিষয়ে নিজেদের ক্ষোভ, প্রতিবাদের কথা ব্যক্ত করছে। সুইস-ইতালীয় ইনফান্তিনো ইউরোপীয় সমালোচকদের তিন হাজার বছর ধরে ক্ষমা চাওয়ারও নিদান দিলেন।

কাতার বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামগুলিতে অ্যালকোহল বিক্রি হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। আয়োজক দেশের অনুরোধ আসার পর আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। যদিও এতেও ফিফাকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর শোষণ ও অত্যাচার, সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী (LGBTQ+)-দের নিরাপত্তাহীনতা, পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা-সহ নানা ইস্যুতে বিশ্বকাপ আয়োজক কাতারের সমালোচনা করছে অংশগ্রহণকারী অনেক দেশ। বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সতর্ক রয়েছে ফিফা। আয়োজক দেশকে ফিফা ঢাল করছে বলেও অনেকে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে ফিফা ও কাতার প্রবলভাবে সমালোচিত, এই আবহেই বাঁশি বাজতে চলেছে বিশ্বকাপের।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইউরোপীয়রা গত তিন হাজার বছর ধরে যা করে চলেছি তার জন্য পরবর্তী তিন হাজার বছর ক্ষমা চাওয়া উচিত মানুষকে নীতিশিক্ষা দেওয়ার আগে। তাঁর এই কথায় বিস্মিত হয়ে যায় বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সামনেই ইনফান্তিনো বলেন, কাতার ও রাজধানী দোহা সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে প্রস্তুত। ইনফান্তিনো বৈষম্যের অভিযোগ ওড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে বলেন, আমার নিজেকে কাতারের নাগরিক, আরবের নাগরিক, আফ্রিকার নাগরিক, সমকামী, পরিযায়ী শ্রমিক মনে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা-মা ইতালির নাগরিক ছিলেন। কর্মসংস্থানের জন্য তাঁদের সুইৎজারল্যান্ডে যেতে হয়েছিল। ছোটবেলার সেই কথা মনে আছে ইনফান্তিনোর। বৈষম্যের ঘটনা তাঁর স্কুলজীবনেও ঘটেছিল, তাই এ ব্যাপারটি তিনি ভালোই বোঝেন বলে দাবি ফিফা সভাপতির। কাতারের তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের কথা ভেবে। কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা আইনি পথেই কর্মসংস্থানের জন্য কাতারে প্রবেশ করছেন। ইনফান্তিনো আরও বলেন, আমার কাতারের হয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই। কাতারই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে। আমি শুধু ফুটবল নিয়েই বলছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হব।
কাতারে স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় খাটিয়ে নেওয়া হয়েছে, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি, ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এমন নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। কাতারে শ্রম আইন সংশোধিত হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলেও অনেকের অভিমত। ফিফা সভাপতি বলেন, আমি এটা নিশ্চিতভাবেই বলছি কাতারে সকলেই স্বাগত। ইনফান্তিনো পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি কাতার-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি কোটি অর্থ আদায় করে। তাদের কেউই পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলে না। তাতে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু ওই সংস্থাগুলির তুলনায় অনেক কম অর্থ আদায় করেও ফিফা পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষায় নানাবিধ কাজ করে থাকে। কাতারের মতো বিভিন্ন বিধিনিষেধ অন্য অনেক দেশে রয়েছে বলে দাবি ইনফান্তিনোর।












Click it and Unblock the Notifications