Euro 2020: ইউরোর ইতিহাসে পিতা-পুত্রের গোলের নজির কোন পরিবারের জানুন
ইউরো কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই চলছে। প্রি কোয়ার্টারে হয়েছে নতুন এক নজির। ইউরোর ইতিহাসে আগে যা ছিল না। ইউরোর মূলপর্বে পিতা-পুত্রের গোল করার নজির গড়েছে ইতালির কিয়েজা পরিবার।

কিয়েজার গোল
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে রাউন্ড অব সিক্সটিনে ইতালি জিতেছে অতিরিক্ত সময়ে জোড়া গোল করে। পেসিনা আর কিয়েজা দুজনেই পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করেছিলেন। জুভেন্তাসে প্রথম মরশুম দারুণভাবে কাটিয়ে আসায় ইতালির ২৩ বছরের ফুটবলার ফেদেরিকো কিয়েজার উপর সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেকটাই রয়েছে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে কিয়েজাকে নয় বেরার্দিকেই সুযোগ দেন কোচ রবার্তো মানচিনি। ওয়েলস ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেলেও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও প্রথম একাদশে তাঁকে রাখেননি ইতালির কোচ। যদিও ৮৪ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামার পর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে নজির গড়ে ফেলেছেন কিয়েজা।

বাবার সতীর্থ কোচ
কিয়েজার বাবা ইতালির প্রাক্তন ফুটবলার। বর্তমান কোচ রবার্তো মানচিনি এনরিকো কিয়েজার সতীর্থও বটে। ১৯৯৫-৯৬ মরশুমে স্যাম্পদোরিয়ার হয়ে দুজনে খেলেছেন। আর্জেন্তিনার প্রাক্তন তারকা স্ট্রাইকার হার্নান ক্রেসপো বছর দশেক আগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, এনরিকোর পুত্র ফেদেরিকোও বড়় ফুটবলার হবেন। শৈশবে বাড়ির মাঠে তাঁকে খেলতে দেখেছি। বল নিয়ে নড়াচড়ায় ফেদেরিকো তাঁর বাবাকে মনে করায়। ক্রেসপোর সেই ভবিষ্যদ্বাণী যে কতটা সার্থক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জুভেন্তাসের হয়ে ভালো খেলার পর এখন জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ পেয়ে সদ্ব্যবহার করছেন ফেদেরিকো।

পিতার গোল
ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলিতে ইউরোতে প্রথম গোলটি করলেন ফেদেরিকো। তাঁর পিতাও তাঁরই মতো ইংল্যান্ডের মাটিতেই ইউরোয় গোল করেছিলেন। সেটা ১৯৯৬ সাল। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে পাভেল নেদভেদের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ইতালি সমতা ফিরিয়েছিল এনরিকো কিয়েজার গোলেই। যদিও লুইজি আপোলনি কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বেশ কিছুক্ষণ ইতালিকে ১০ জনে খেলতে হয় এবং ১-২ গোলে ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

লড়াই শেষ আটে
তবে ফেদেরিকো কিয়েজাদের সামনে এবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই। ইতালি খেলবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে। পরিবর্ত দুই ফুটবলারের গোলে শেষ আটে পৌঁছানোয় মানচিনির প্রথম একাদশ কেমন হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। কিয়েজার কথায়, প্রত্যেকেই সুযোগ পেলে নিজেদের সেরাটা দিতে তৈরি। তিনি বলেন, আমরা সকলেই মাঠে নেমে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরতে মুখিয়ে থাকি। দেশের হয়ে সেরাটা দিতে চাই। এটা আমাদের ছোটবেলার স্বপ্ন। আমাদের দলে ২৬ জনই প্রথম শ্রেণির ফুটবলার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে থেকেই কোচকে ১১ জন বেছে নিতে হয়। তবে আমাদের শক্তি কতটা তা অস্ট্রিয়া ম্যাচেও বুঝিয়ে দিয়েছি। কোচ বলেন, রিজার্ভ বেঞ্চে থেকেও ম্যাচের প্রতি মনোযোগী থাকতে। যাতে মাঠে নেমেই তফাত গড়ে দেওয়া যায়।
(ছবি- ফেদেরিকো কিয়েজার ইনস্টাগ্রাম)












Click it and Unblock the Notifications