Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

East Bengal Sarani: ইস্টবেঙ্গল সরণির সূচনায় চাঁদের হাট, জলপাইগুড়ির সঙ্গে কেন নিবিড় যোগ লাল হলুদের?

East Bengal Sarani: ইস্টবেঙ্গল সরণি এবার জলপাইগুড়িতে। জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যালিটির উদ্যোগে জলপাইগুড়ির থানা মোড় থেকে বাবুপাড়ার স্বর্গীয় দাজু সেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির ইস্টবেঙ্গল সরণি নাম রাখা হলো।

এদিন জলপাইগুড়ি শহর রঙিন হয়ে উঠেছিলো লাল হলুদ পতাকায়। আট থেকে আশি সমাজের নানা ক্ষেত্রের মানুষজন, জেলার সমস্ত ক্রীড়া সংগঠনকে নিয়ে বের হয় বিরাট শোভাযাত্রা। ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে মিশল ইস্টবেঙ্গলের থিম সং।

East Bengal Sarani: ইস্টবেঙ্গল সরণির সূচনায় চাঁদের হাট

রাস্তার নামকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, বিধায়ক প্রদীপ কুমার বর্মা, জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল, ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জী, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সহ সচিব রূপক সাহা, ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায়, কর্মসমিতির সদস্য দেবব্রত সরকার, রজত গুহ, সঞ্জীব আচার্য, সুমন দাশগুপ্ত।

ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন অধিনায়ক আলভিটো ডি'কুনহা, রহিম নবি। এই তারকাদের সঙ্গে ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের অনূর্ধ্ব ১৭ দলের ফুটবলার দেবোজিত রায়, প্রজ্জল সাহা, আশিস রায়, যাঁরা সকলেই জলপাইগুড়ির বাসিন্দা।

ইস্টবেঙ্গল সরণির ঠিক পাশের রাস্তায় বাড়ি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কিংবদন্তি গোলরক্ষক মণিলাল ঘটকের। ১৯৪৯-৫৪, ইস্টবেঙ্গল দুর্গের শেষ প্রহরী ছিলেন তিনি। জলপাইগুড়ি টাউনের বিখ্যাত উকিল দুর্গাপ্রসন্ন ঘটকের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন মণিলাল। পঞ্চপাণ্ডবের সেই সময়কালে স্বর্ণালী ইস্টবেঙ্গলে গোলরক্ষককে একটি আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মণিলাল। ২০১০ সালে ক্লাব মণিলাল ঘটককে জীবনকৃতি সম্মানে সম্মানিত করে।

১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠার পিছনে শৈলেশ বসুর বিরাট ভূমিকা ছিল। ১৯২৪ সালে তিনি ব্যবসায়িক কাজে দিনাজপুর চলে যান। সেখানে দিনাজপুর ক্লাবে ক্রিকেট খেলাও চালু করেন। শৈলেশ বসু এর পাশাপাশি কোচবিহার মহারাজার ক্রিকেট দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। চার বছর দিনাজপুরে কাটিয়ে ১৯২৮ সালের শেষের দিকে তিনি ঢাকার মালখাননগর ফিরে আসেন।

১৯২৫ সালে কলকাতা ফুটবল লিগের প্রথম সাক্ষাতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ১-০ গোলে পরাজিত করে মোহনবাগানকে। ওই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন প্রখ্যাত ফরওয়ার্ড নেপাল চক্রবর্তী। তিনি তাঁর শেষ জীবনটা কাটিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি শহরে। ১৯৬৭-৭৩, পরিবার নিয়ে তাঁর ঠিকানা ছিল জলপাইগুড়ি পুলিশ কোয়ার্টারের পাশের সরকারি আবাসন।

১৯২০ সালে জলপাইগুড়ি শহরে জন্ম মোজাম্মেল হকের। ১৫ বছর বয়সে জলপাইগুড়ির পল ওয়েন স্কুলের হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন। কিছুদিন খেলেছিলেন বেঙ্গল ডুয়ার্স রেল (বি.ডি.আর.) দলের হয়েও। ১৯৩৮ সালে জলপাইগুড়ির টাউন ক্লাবে যোগ দিলেন। ১৯৩৮ সালেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাব একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এলো জলপাইগুড়িতে। টাউন ক্লাবের সাথে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সেই খেলায় মোজাম্মেল হক টাউন ক্লাবের হয়ে ডিফেন্স অসাধারণ ফুটবল খেলেন।

সেদিন একটি ১৯ বছরের ছেলের দুরন্ত রক্ষণের জন্যই ইস্টবেঙ্গল ক্লাব গোলের মুখ খুলতে পারেনি। তাঁর খেলা দেখে তৎক্ষণাৎ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের খ্যাতনামা ফরওয়ার্ড দুলাল গুহ ঠাকুরতা তাঁকে একপ্রকার জোর করেই কলকাতা নিয়ে আসেন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪১, এই তিন বছর মোজাম্মেল হক ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন। পরবর্তীতে আবার ফিরে যান জলপাইগুড়ির টাউন ক্লাবে। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এই জলপাইগুড়ির টাউন ক্লাবের হয়েই ফুটবল খেলে অবসর নেন মোজাম্মেল হক।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ২০১৯ এ ক্লাবের শতবর্ষের মঞ্চে "শতাব্দীর সেরা কোচের" সম্মানে সম্মানিত করেছিল কিংবদন্তি প্রশিক্ষক পি.কে.ব্যানার্জিকে। গত ১০৩ বছরে ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব পি.কে.ব্যানার্জির। সেই কিংবদন্তি প্রশিক্ষকের জন্ম ২৩ জুন, ১৯৩৬ সালে জলপাইগুড়িতে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকেই তিনি তাঁর প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে জলপাইগুড়িতে জন্ম আরেক প্রখ্যাত ফরওয়ার্ড সুকল্যাণ ঘোষ দস্তিদারের। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি ইয়ং মেনস অ্যাসোসিয়েশন এবং জলপাইগুড়ি টাউন ক্লাবে তাঁর ফুটবল খেলা শুরু। ১৯৭৫ এ খেলেছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে। প্রখ্যাত প্রাক্তন ক্রিকেটার মন্টু সান্যাল ও এই জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা

অতীতের মতো বর্তমানেও বহু খেলোয়াড় উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে আসছে এবং ইস্টবেঙ্গল তথা ভারতের বিভিন্ন টিমে কৃতিত্বের সাথে খেলছে। যাঁদের মধ্যে মনোজ মহম্মদ, সমীক মিত্র, সুজিত সিংহ, রূপম রায় উল্লেখযোগ্য।

সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছে রাজগঞ্জ ইস্টবেঙ্গল ওয়েলফেয়ার ফুটবল আকাদেমি। প্র্যাক্টিসের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের থাকার যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তাঁর জন্য তৈরি করেছে "পল্টু দাস ভবন"।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+