এটিকে মোহনবাগান গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য মাতৃহারা, করোনা চিকিৎসা নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ
আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসের পরদিনই মাতৃহারা হলেন এটিকে মোহনবাগানের গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য। গত বছর হারিয়েছিলেন বাবাকে। এক বছরের মধ্যেই মাকে হারালেন অরিন্দম। বেশ কয়েকদিন ধরেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল অরিন্দমের মায়ের। নানা হয়রানি পেরিয়েও শেষরক্ষা হলো না।

করোনা আক্রান্ত মা
দিন তিনেক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিন্দম জানান তাঁর মা করোনা আক্রান্ত, চিকিৎসা চলছে। সকলকে তাঁর মায়ের জন্য প্রার্থনারও আর্জি জানান অরিন্দম। এএফসি কাপ খেলতে তাঁর পক্ষে যাওয়া সম্ভব ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। পরে এটিকে মোহনবাগানের দুই ফুটবলার করোনা আক্রান্ত হতে সবুজ মেরুনও সিদ্ধান্ত নেয় টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার। পরে টুর্নামেন্ট স্থগিতও করে দেওয়া হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে।

অরিন্দমের মাতৃবিয়োগ
আজ সকালে মাতৃবিয়োগের খবর সোশ্যাল মিডিয়াতেই জানিয়ে অরিন্দম এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন, বড্ড তাড়াতাড়ি মা তুমি চলে গেলে। তবে জানি তুমি খুব ভালো জায়গায় ভালোভাবেই রয়েছো। বাবার যত্ন নিও, আমার আর দাদার তরফে বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিও। আবার আমাদের দেখা হওয়া অবধি তোমরা ভালো থেকো। হাসপাতালে সপ্তাহ দুয়েক ধরে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে শেষ কথা হয় অরিন্দমের। ভালোও হয়ে উঠছিলেন। তবে গতকাল থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

হাসপাতালে ভর্তি করাতে হিমশিম
তবে করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে যে ঝক্কি অরিন্দমকে সামলাতে হয়েছে সে কথা জানিয়েছেন আইএফএ-র কর্মী শিবম দাস। তিনি জানিয়েছেন, দিন দশ-বারো আগে তাঁকে এটিকে মোহনবাগানের প্রীতম কোটাল ফোন করে বলেন, একটা নার্সিংহোম জোগাড় করতে হবে। অরিন্দমদার মা ভালো নেই। আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রীতম, শিবমরা একের পর এক কনফারেন্স কল করতে থাকেন। কেউ ফোন ধরেন, কেউ ধরেননি। অক্সিজেন জোগাড় করতেও সমস্যা হয়েছে। এক রাজনীতিবিদের সৌজন্যে এরপর একটি নার্সিংহোমের ব্যবস্থা হয়। এবার দরকার অ্যাম্বুল্যান্স। প্রথমে যে অ্যাম্বুল্যান্সটা আসে সেটার থেকে অরিন্দমের গাড়ির অবস্থা ভালো। অরিন্দম তখনই সিদ্ধান্ত নেন তিনি ও তাঁর দাদা মিলে মাকে নিজেরাই গাড়ি করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

চিকিৎসার গাফিলতি
প্রথম দিন দুই একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেখে শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অরিন্দমের মাকে। সেই হাসপাতাল পেতেও আরও বড় সোর্স প্রয়োজন হয়েছিল সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া অরিন্দমকে। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। রোগী ফিরলেন না, অথচ বিল লাখ লাখ টাকার। অভিযোগ, করোনা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় যে দামি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় তা নিয়েও চলেছে চাপানউতোর, সামনে এসেছে দুরকম কথা। প্রথম নার্সিংহোম বলে ইঞ্জেকশম দেওয়া হয়েছে। আবার চিকিৎসক নাকি বলেছেন, ইঞ্জেকশন নেই তাই দেওয়া হয়নি। কে সঠিক কথা বলছেন জানেন না অরিন্দম। অবস্থা খারাপ হতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছিল বারবার। প্রথম দিন চার লিটার আর শেষ দিন উনিশ লিটার।

চিকিৎসার ভঙ্গুর পরিকাঠামো
শিবমের দাবি, প্রথম হাসপাতালে বিল হয় তিন দিনে তিন লাখ। হাসপাতাল বলে, অধিকাংশ ক্যাশে দিতে হবে। স্বাস্থ্যসাথী বা মেডিক্লেম চলবে না! অরিন্দম একজন তারকা ফুটবলার। তিনি সেটাও মেটাতে পেরেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে কতটা অসহায় সেটা অনুমেয়। গতকাল সকালে নার্সিংহোমের রিসেপসন থেকে ফোন করে জানানো হয়, রোগীকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে বহু বার ফোন করা হয়েছিল চিকিৎসককে। কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অথচ এর আগের দিনই অরিন্দম ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন, মা আগের থেকে ভালো আছেন। ১৪ দিনেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় ভেবে সকলে আশায় ছিলেন। কিন্তু মা আর ফিরলেন না অরিন্দমের কাছে। আঙুল উঠছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ভঙ্গুর দশার দিকেই।












Click it and Unblock the Notifications