মমতার পদত্যাগ চাইছেন ফুটবলপ্রেমীরা, এআইএফএফ সভাপতি বললেন বিশ্ব ফুটবলের কালো দিন
Football Fans' Protest: ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিবাদ দমনে ফের পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। প্রথমে আগ্রাসী ব্যাটিং করেও অজানা কারণে পিছু হঠতে হলো পুলিশকে।
যদিও তারই মধ্যে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহমেডান স্পোর্টিংয়ের ভক্তদের তাড়া করে নির্বিচারে লাঠি চালাল পুলিশ। প্রিজন ভ্যানে কয়েকজনের আটক করার পরই ফুটবলপ্রেমীদের বিক্ষোভের কাছে নতিস্বীকার করে তাঁদের মুক্তি দিল পুলিশ।

এরপরই বদলে গেল প্রতিবাদকারীদের স্লোগান। উই ওয়ান্ট জাস্টিস থেকে জাস্টিস ফর আরজি কর স্লোগানের পাশাপাশি চলল দফা এক দাবি এক, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ স্লোগান। আর সেই স্লোগানে নজিরবিহীনভাবে মিশে এক ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহমেডানের ফুটবলপ্রেমীরা।
কারও পরনে লাল হলুদ জার্সি, কারও সবুজ মেরুন। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহমেডানের পাশাপাশি প্রতিবাদী ফুটবলপ্রেমীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। যাঁদের আটক করেও ছাড়তে বাধ্য হলো পুলিশ, তাঁরা প্রিজন ভ্যান থেকে নামার পরই পেলেন বীরের সম্মান।
ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে হাজির ছিলেন প্রতিবাদীদের মাঝে। তিনি বিজেপি নেতা হলেও আজ ফুটবলের স্বার্থেই তাঁর পথে নামা বলে জানালেন। কল্যাণের কথায়, আজ যা ঘটল তা বাংলা বা দেশের নয়, বিশ্ব ফুটবলের কালো দিন। পুলিশ যত সংখ্যায় আজ শান্তিপূর্ণ মিছিল দমাতে হাজির, তার চেয়ে অনেক কম পুলিশকর্মী দিয়েই আজকের ডার্বি করানো যেত।
কল্যাণের কথায়, পুলিশের কাজ দুষ্কৃতী দমন। শান্তিপূর্ণ, অরাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ করা নয়। অবিলম্বে পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের ভূমিকার।
ফুটবলপ্রেমীদের কথায়, এই পুলিশ আরজি করে হামলা চালানো দুষ্কৃতীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শৌচালয়ে গিয়ে লুকায়। আর এখানে ফুটবলপ্রেমীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ করে লাঠি চালাল। সেদিন এই ভূমিকা দেখালে তো আরজি করে হামলা ও ভাঙচুর, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ঠেকানো যেত।
ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিবাদ-আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকে ইএম বাইপাস। তবে তারই মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স। ময়দানের তিন প্রধানের কর্মকর্তা থেকে প্রাক্তন ফুটবলাররা মুখ্যমন্ত্রীর বিরাগভাজন হতে না চেয়ে তীব্র সমালোচিত হচ্ছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রথমে পুলিশ তাড়া করল, লাঠি চালাল। তারপর হঠাৎ ব্যাকফুটে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকল প্রতিবাদ। তবে কি শীর্ষমহলের নির্দেশেই এই পরিবর্তন? শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে এমন রণংদেহি হওয়ার নির্দেশই বা কে দিলেন? অবস্থা বেগতিক দেখে পিছু হঠায় লজ্জাই তো বাড়ল।












Click it and Unblock the Notifications