Kiss During World Cup: বিশ্ব ফুটবলে চর্চায় রুবিয়ালেসের কিস-সা, সময়ের সরণিতে ফিরে দেখা ঘটনা প্রবাহ
গোটা ফুটবল বিশ্বে এখন চর্চায় লুই রুবিয়ালেস। মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে চুম্বন কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। এরপর দুই সপ্তাহের বেশি সময় কেটে গেলেলও বিতর্কের রেশ কমছে না। বরং প্রতিদিনই তা বাড়ছে। স্পেন ফুটবল কর্তার কিস-সায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিশ্ব ফুটবল। এই ঘটনার জেরে ফিফার শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে রুবিয়ালেসকে। গত দুই ঘটনাক্রম এক নজরে ফিরে দেখা যাক।
২০ অগাস্ট(রবিবার)ঃসিডনিতে মহিলা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন স্প্যানিশ ফুটবল সংস্থার প্রধান। দলের মিডফিল্ডার জেনিফার হারমোসো জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু দেন স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) প্রধান।

এই ঘটনা ভালোভাবে নেননি হারমোসো। সাজঘরে ফিরে জানান, রুবিয়ালেসের এই ব্যবহার তার ভালো লাগেনি। হারমোসোর সেই মন্তব্যের পরেই শুরু হয় বিতর্ক। যদিও পাল্টা রুবিয়ালেস বলেন,'এটি অত্যন্ত বোকা মন্তব্য। আমি সেলিব্রেশনের অঙ্গ হিসাবেই তাঁকে চুম্বন করি।'
২১ অগাস্ট(সোমবার)ঃ স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয় রুবিয়ালেসের কাজের। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি জারি করা হয়।যেখানে বলা হয়, বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দেই এই ঘটনা ঘটেছে।
যাঁকে চুমু খাওয়া নিয়ে এত বিতর্ক সেই ফুটবলার হারমোসোও প্রথমটায় বলেছিলেন, তিনি ভাল ভাবে নেননি ব্যাপারটা। পরে অবশ্য বলেছিলেন রুবিয়ালেস তাঁদের স্নেহ করেন। এই চুম্বন আসলে স্নেহের প্রতিফলন।
২২ অগাস্ট(মঙ্গলবার)ঃ এই ঘটনায় মুখ খোলে স্পেন সরকারও। স্পেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। রুবিয়ালেসকে কড়া বার্তা পাঠানো হয় স্পেনের সরকারের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক বৈঠকে স্যাঞ্চেজ বলেন, ''রুবিয়ালেস যে ক্ষমা চেয়েছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু ক্ষমা চাইলেই শুধু হবে না। তাঁকে আরও স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে যে কেন তিনি এই কাজ করেছেন। এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা যায় না।''
২৩ অগাস্ট(বুধবার)ঃ গ্লোবাল ফুটবলারর্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। চাপে পড়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন একটি জরুরি সভা ডাকে।
২৪ অগাস্ট (বৃহস্পতিবার)ঃ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফাও তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে। অযাচিত চুম্বনের জন্য স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে।
২৫ অগাস্ট (শুক্রবার)ঃ পদত্যাগের জল্পনা উড়িয়ে দেন স্প্যানিশ ফুটবল প্রেসিডেন্ট। নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইলেও পদ ছাড়তে নারাজ তিনি । শোনা গিয়েছিল তিনি ইস্তফা দেবেন। কিন্তু দু'দিন আগেই রুবিয়ালেস স্পষ্ট করে দেন, তিনি পদত্যাগে রাজি নন।

তার পরেই স্পেনের মহিলা দলের ৮২ জন ফুটবলার জানান, তাঁরা জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না। প্রধান কোচ জর্জ ভিলদা বাদে বাকি কোচিং স্টাফেরা পদত্যাগ করেছেন। এত কিছুর পরেও রুবিয়ালেসের দাবি, এরমোসোর সঙ্গে তাঁর চুম্বন সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছে। এরফলে বিষয়টি নিয়েও আরও জটিলতা তৈরি হয়। স্পেন সরকারের তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারী তদন্ত শুরু করে।
২৬ অগাস্ট(শনিবার)ঃ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয় কীভাবে রুবিয়ালেস নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। কিন্ত এই দিনেই ফিফার পক্ষ থেকে শাস্তি ঘোষণা করা হয়। ৯০ দিনের জন্য বহিষ্কার করা হয় রুবিয়ালেসকে।একইদিনে মহিলা দলের কোচ সহ ১১ জন কোচিং স্টাফ পদত্যাগ করেন।

২৭ অগাস্ট (রবিবার)ঃ স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ আন্ত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয় সভাপতির কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে।
কিন্তু বিভিন্ন জায়গা থেকে ধেয়ে আসা সমালোচনার প্রক্ষিতে রুবিয়ালেস ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে রুবিয়ালেস বলেন, 'আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এরপর থেকে ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্ব করার সময় আমাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্যই আমি ভুল করেছি। আমাকে তা স্বীকার করতেই হবে।'
একইসঙ্গে তিনিন উল্লেখ করেন, ' জয় উপভোগ করার চরম মুহূর্তে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়াই এইরকম পরিস্থিতির হয়েছে। আমি গোটা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছি। তবে বাইরে এই ঘটনাটা কে নিয়ে একটা বিতর্কের সৃষ্টি করা হচ্ছে।' কিন্তু তাতেও বিতর্ক মিটছে না।












Click it and Unblock the Notifications