কোন পাঁচটি ইস্যু কর্ণাটক বিধানসভা ভোটে বিজেপি-কংগ্রেসের ভাগ্য নির্ধারণ করবে
কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর রয়েছে সারা দেশের। কোন কোন ইস্যুর উপরে ভিত্তি করে এবারের নির্বাচনে দলগুলির ভাগ্য নির্ধারণ হবে, তা দেখে নেওয়া যাক।
কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর রয়েছে সারা দেশের। কংগ্রেসের হাতে এটাই সবচেয়ে বড় রাজ্য বেঁচে রয়েছে। দক্ষিণ ভারত তো বটেই সারা ভারতে কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে পঞ্জাব ও কর্ণাটক। এবার এই রাজ্য হাতছাড়া হওয়া মানে আগামী বছর লোকসভা ভোটের আগে সহায় সম্বলহীন অবস্থা হবে রাহুল গান্ধীর দলের। আবার উল্টোদিকে বিজেপি কাছে এটা মর্যাদার লড়াই। সারা দেশে কংগ্রেসকে কুপোকাত করার পরে লোকসভা ভোটের আগে কর্ণাটকে ভালো ফল করা বিজেপির জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই অবস্থায় আগামী ১২ মে নির্বাচন রয়েছে। ১৫ মে ফলাফল ঘোষণা। কোন কোন ইস্যুর উপরে ভিত্তি করে এবারের নির্বাচনে দলগুলির ভাগ্য নির্ধারণ হবে, তা দেখে নেওয়া যাক।

কন্নড় গৌরব
সরকার বাঁচাতে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া কন্নরদের নিজেদের নিয়ে গৌরবান্বিত হতে বলেছেন। ঘটনা হল, বিজেপি জাতীয়তাবাদের কথা বলায় ঘুরিয়ে নির্বাচনের কয়েকমাস আগে রাজ্যের পতাকা ও ভাষা নিয়ে রাজনীতির আমদানি করে কংগ্রেস। যাতে পরে যোগ দিয়েছে সব বিরোধী দল। কারণ ভোট পেতে হলে কন্নড় ভাবনাকে এড়িয়ে গেলে চলবে না তা সব দলই বুঝতে পেরেছে।

কৃষি সঙ্কট
দেশের অন্যান্য অংশের মতো কর্ণাটকেও কৃষি সঙ্কট রয়েছে। ২০১৪-২০১৬ সালের মধ্যে ২৭২৯জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। এনসিআরবি রেকর্ড সেকথাই বলে। এই ইস্যু নিয়ে বিজেপি রাজ্য জুড়ে সিদ্দারামাইয়া সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার করেছে। ২০১৪ সালে ৩২১ জন, ২০১৫ সালে ১১৯৭জন ও ২০১৬ সালে ১২১২জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।

জলসঙ্কট
বেঙ্গালুরু সহ গোটা কর্ণাটকে জলসঙ্কট একটা বড় সমস্যা। ২০১১ সালের সুমারী মোতাবেক বেঙ্গালুরু শহরের ৮৫ লক্ষ মানুষের জন্য জল প্রয়োজন ছিল ১৮ হাজার মিলিয়ন কিউবিক ফুট। অথচ জলের অভাব ছিল ৫.৮ টিএমসি। যা ২০৩১ সালে বেড়ে ১০.৭ টিএমসি হয়ে যাবে। এছাড়াও সারা রাজ্যে জল মাফিয়ার রমরমা রয়েছে। মানুষকে পানীয় জল অনেক চড়া দামে কিনতে হয় যা আদতে সহজলভ্য হওয়ার কথা।

স্বজনপোষণ
কর্ণাটক নির্বাচনে স্বজনপোষণ একটি বড় ইস্যু। বিজেপি এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। সিদ্দারামাইয়া চামুণ্ডেশ্বরী ও বাদামী আসন থেকে লড়ছেন। আর তাঁর পুত্র যতীন্দ্র বরুণা আসন থেকে লড়ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডি ও তাঁর মেয়ে সৌম্যা রেড্ডি ও আইনমন্ত্রী টিবি জয়চন্দ্র ও তাঁর পুত্র সন্তোষও এবারের ভোটে লড়ছেন। এর বিরুদ্ধেই বিজেপি সুর চড়িয়েছে। এদিকে বিজেপিও পাল্টা একই পথে হাঁটছে। মাইন ব্যারন জনার্দন রেড্ডির পরিবারে সাতটি টিকিট বিজেপি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শহরের রাস্তাঘাট
বেঙ্গালুরু শহরে ২২৪টি আসনের মধ্যে ২৮টি বিধানসভা আসন রয়েছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, রাস্তাঘাট, ট্রাফিক ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বেঙ্গালুরু শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে ২০৩০ সালের মধ্যে। খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, যত্রতত্র ময়লা, নানা প্রান্তের খালগুলি থেকে মারাত্মক দূষণ নিকাশির সমস্যা শহরকে ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। এগুলিই এবারের ভোটে সবচেয়ে বড় ইস্যু হতে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications