Independence Day 2023: স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষদের পাশাপাশি এই মহীয়সী নারীদের নাম আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা
২০০ বছর ধরে ব্রিটিশদের অতাচারে অত্যাচারিত হয়েছিলেন দেশবাসীকে। তবে ভারতবাসীকে মুক্তি দিতে নিজেদের প্রাণের মায়া ত্যাগ করতে পিছু হটেননি স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তবে সাহসী সংগ্রামীরা যে শুধু পুরুষ ছিলেন তা কিন্তু নয়, দেশবাসীকে পরাধীনতা থেকে উদ্ধার করতে বীরের মতোন এগিয়ে এসেছিলেন নারীরাও।
তাঁদের অদম্য সাহসকে আজও স্যালুট জানান সকলে। কেউ কেউ পুরুষদের পাশাপাশি বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন, কেউ বা আবার আড়ালে থেকেই সাহায্য করতেন বিপ্লবীদের। সেই সব নারীদের গুরুত্ব আজও অপরিসীম। চলতি বছর ভারতবাসী ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করবেন। সেই মহীয়সী নারীদের কথা জানুন।

রানি লক্ষ্মী বাই
ভগত সিং, চন্দ্রশেখর আজাদের মতো বিপ্লবীদের নাম ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয়। কিন্তু যে কোনো নারী বিপ্লবীর নাম জিজ্ঞেস করলে প্রথমেই মাথায় আসে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাইয়ের নাম। দেশের প্রথম নারী বিপ্লবী রানি লক্ষ্মী বাই। এক নারীর হাতে ধারালো তলোয়ার নিয়ে পিঠে শিশুকে বহনকারী শত শত ব্রিটিশ সৈন্যের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ রাজ ও ব্রিটিশদের উদ্ধার করতে গিয়ে শহীদ হন তিনি।
সরোজিনী নাইডু
ভারতের নাইটিঙ্গেল হিসাবে জনপ্রিয় ছিলেন সরোজিনী নাইডু। দেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তাঁর অবদান অপরিসীম। স্বাধীনতা সংগ্রামী ছাড়াও তাঁর আরও একটা পরিচয় আছে, তিনি হলেন একজন কবি। ভারতছাড়ো আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি, সেই সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসেও কাজ করেছিলেন তিনি।
বেগম হজরত মহল
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহে আওধে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই গড়ে তুলেছিলেন বেগম হজরত মহল। বিদ্রোহী বাহিনীকে এক করেছিলেন তিনি। এক নির্ভীক স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন তিনি।
কস্তুরবা গান্ধী
মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা সংগ্রামে অহিংসার পথ অবলম্বন করে দেশকে স্বাধীন করার সংগ্রাম চালিয়ে যান। কিন্তু কস্তুরবা গান্ধী প্রতি পদে পদে তাঁর সঙ্গে হাঁটতে থাকেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য ভুলে গিয়েছিলেন যে মহাত্মা গান্ধী তাঁর স্বামী। নিজেই স্বামীর শক্তি হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে সংগ্রাম করার সাহস জুগিয়ে যান। এক সচ্ছল পরিবারের মেয়ে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আশ্রমে থাকতে এসেছিল। গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন, কিন্তু খুব কম লোকই জানেন যে এতে কস্তুরবার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কস্তুরবা আওয়াজ তুললে তাকে তিন মাসের জেল হয়। জেলে গিয়েও থেমে থাকেননি তিনি।

বিজয়া লক্ষ্মী পন্ডিত
বিজয়া লক্ষ্মী পন্ডিত একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি জওহরলাল নেহরুর বোন ছিলেন। কিন্তু তিনিও দেশের স্বাধীনতার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছিল, তবুও কিন্তু তিনি দমে যাননি। বিজয়া লক্ষ্মী পণ্ডিত ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম মহিলা মন্ত্রী হন। শুধু তাই নয়, তিনি জাতিসংঘের প্রথম মহিলা প্রধান এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রদূতও হয়েছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। জাতীয় কংগ্রেসে অনেক অবদান রেখে গেছেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের কারণে তাঁকে অনেকবারই জেলে যেতে হয়ছিল।
অরুনা আসাফ আলি
অরুনা আসাফ আলি ছিলেন এক গুণ সম্পন্না ব্যক্তি। তিনি যে শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক নেত্রীও। ১৯৪২ সালে ভারতছাড়ো আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৩২ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি, আর সেই কারণেই তিনি গ্রেপ্তার পর্যন্ত হন, তাঁকে নয়মাস কারাগারে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, তবুও অদম্য সাহস কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য কমেনি।
ম্যাডাম ভিকাজি কামা
ভারতীয়রা কীভাবে ব্রিটিশ শাসন থেকে নিজেদের অধিকার রক্ষা করবেন তাঁর জন্য একটি আন্দোলন হয়েছিল, নাম 'হোম রুল আন্দোলন’। যেখানে ম্যাডাম ভিকাজি কামার গুরুত্ব অপরিসীম।
সাবিত্রী বাই ফুলে
সাবিত্রীবাই ফুলে ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি সমাজে মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও মেয়েদের শিক্ষিত করার ব্রত নিয়েছিলেন। তবে শুধু যে শিক্ষা তা কিন্তু নয়, জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধেও লড়াই করেছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications