জরুরি অবস্থার ৪৮ বছর: দু-বছরেই ভারতের ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী
অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল ভারতে। সেই জরুরি অবস্থার ৪৮ বছর পূর্তি হয়ে গেল। জরুরি অবস্থার ৪৮ বছরে এসে উপলব্ধি এই যে, দু-বছরই বদলে দিয়েছে ভারতের ইতিহাসের অনেক কিছু।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনে জরুরি অবস্থায় মন্ত্রীদের গণ গ্রেফতারের অনুমতি দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন, এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ঘোষণা করা হয়েছিল, আমি নিশ্চিত যে আপনারা সকলেই গভীর এবং ব্যাপক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত আছেন। তা ভারতে সাধারণ পুরুষ এবং মহিলার জন্য কিছু প্রগতিশীল সুবিধা প্রবর্তন করার পক্ষে জরুরি।
অল ইন্ডিয়া রেডিওতে এই বার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘোষণা করেছিলেন। স্বাধীনোত্তর ভারতীয় ইতিহাসের অন্ধকারতম সময় ধরা হয় এই সময়কে। দুই বছরের দীর্ঘ সময়কাল চলছিল সেই জরুরি অবস্থা।
জরুরি অবস্থা ছিল সম্ভবত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিবর্তনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ কর্তৃক 'দ্য ম্যাট্রিয়ার্চ' হিসাবে উল্লেখ করছেন এই পর্বকে। উল্লেখ করা হয়, ইন্দিরা গান্ধীর গণতন্ত্রের সঙ্গে এক অস্বস্তিকর সম্পর্ক ছিল, যা তার বেশ কয়েকটি কথোপকথন থেকে প্রমাণিত। সেগুলি উল্লেখও করেন ইতিহাসবিদ।

ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ তাঁর লেখা বই 'ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী'-তে ১৯৬৩ সালে ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর বন্ধুর মধ্যে একটি কথোপকথন উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, "গণতন্ত্র কেবল মধ্যম ব্যক্তিকে নিক্ষেপ করে না, বরং তাদের জ্ঞান এবং বোঝার অভাব যতই হোক না কেন, গণতন্ত্র সবথেকে শক্তি দেয় কণ্ঠস্বরকে।"
কংগ্রেস সভাপতির ভূমিকায় ইন্দিরা গান্ধীর উত্থান এবং তারপরে প্রধানমন্ত্রীর পদে তাঁর আসীন হওয়া, সরকার এবং দলের উপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ অর্জনের জন্য তিনি সমস্তরকম প্রচেষ্টা করে গিয়েছেন। তাঁকে দলে এবং সরকারে কর্তৃত্ববাদী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করে তাঁর ক্যারিশ্মাটিক আবেদন।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে নিম্নবিত্তদের মধ্যে যাঁরা তাঁকে অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে উদ্ধার করতে পারেন এমন একজন বলে মনে করেছিল, তাঁদের মধ্যে তাঁর ক্যারিশ্মা বলবৎ ছিল। জরুরী অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধীর তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর বন্ধ করতে।
তিনি চেয়েছিলেন নিজেকে কর্তৃত্ববাদী করে তুলতে। সেজন্য জরুরি অবস্থাকে আঁকড়ে ধরে তিনি সবথেকে শক্তিশালী হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই জরুরি অবস্থা জারির পর তাঁর পতন হলেও, তিনি ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। আবার তিনি ফিরেছিলেন ক্ষমতায়।
ইন্দিরা গান্ধী বারতের একচ্ছত্র ক্ষমতা কায়েম করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীই ভারত, ভারতই ইন্দিরা গান্ধী- এই ধারণার জন্ম দিতে। অনেক ক্ষেত্রে তিনি পেরেছিলেন। আর সেটাই প্রমাণ করে বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ভারতের কুর্সিতে তাঁর ফিরে আসা।
-
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন












Click it and Unblock the Notifications