ডোকলামে সুবিধা করতে না পেরেই কি ব্রহ্মপুত্রের জল আটকাতে তৎপর চিন
এবছরের শুরু থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদীর উপরে বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চিন।
কূটনৈতিক ইস্যুতে বারবার ভারতকে পিছনের পায়ে ঠেলার চেষ্টা করে আসছে চিন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ চিনের। তার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো হওয়ায় চিন বরাবরই দ্বিপাক্ষিক মঞ্চে হোক অথবা বিশ্ব মঞ্চে, ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা জারি রেখেছে।

সিন্ধুর পাল্টা ব্রহ্মপুত্র
গতবছরে ভারতে উরি হামলা ও পরবর্তীকালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরে পাকিস্তানের সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়েছে ভারত। ভারত সিন্ধু নদীর জল নিয়ে কড়া মনোভাব দেখানোর পরই ব্রহ্মপুত্র নদীর জল না দেওয়ার ফন্দি আঁটতে শুরু করেছে চিন। উদ্দেশ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবল প্রতিপক্ষকে যেভাবেই হোক চাপে রাখা।

তিব্বতের উপরে প্রভাব
সেই প্রেক্ষিতেই এবছরের শুরু থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদীর উপরে বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চিন। ইয়ারলাঙ্গ ঝাঙ্গবো (তিব্বতে এই নামেই পরিচিত ব্রহ্মপুত্র নদী) নদীর উপনদীর উপরে বেজিং একটি বাঁধ তৈরি করবে। লালহো নামে এই প্রকল্পে ব্রহ্মপুত্রের উপনদী জিয়াবুকুকে আটকে বাঁধ গড়বে চিন।

শিজিয়াংয়ে জল চাইছে চিন
ব্রহ্মপুত্র নদের জল আটকাতে তিব্বতের মধ্য দিয়ে ভারতে বয়ে আসা ব্রহ্মপুত্রের জলকে ১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল তৈরি করে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে চিন। তিব্বত থেকে তা অপেক্ষাকৃত শুকনো এলাকা শিজিয়াং প্রদেশে নিয়ে যেতে চাইছে।

হতে পারে বন্যা বা খরা
এখন ঘটনা হল, ব্রহ্মপুত্রের উপরে বাঁধ দেওয়া নিয়ে চিন আলোচনায় বিশেষ রাজি নয়। লুকিয়ে কাজ সারতে চাইছে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারত যেমন শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমন বাঁধের জল হঠাৎ ছেড়ে দিলে অরুণাচল প্রদেশ সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিপুল এলাকা বন্যায় ভেসে যেতে পারে। একই অবস্থা হতে পারে বাংলাদেশেরও।

ডোকলামের পাল্টা
২০১৩ সালে যবে থেকে এই বাঁধের বিষয়টি সামনে এসেছে তবে থেকে ভারত চিনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। জল নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। তারপরে এবছরের মাঝামাঝি থেকে ডোকলামের তরাই এলাকার দখল নিয়ে চিন-ভারত দ্বন্দ্ব চলেছে। সেখানে চিনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেনা পিছিয়ে নিতে হয়েছে। তারই বদলা হিসাবে নতুন টানেল তৈরির কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত চিন নিয়েছে কিনা সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications