ব্যক্তিগত পোস্টেও সতর্কতা! সোশাল মিডিয়ায় কড়া নিয়ন্ত্রণ, কাদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করল লালবাজার? জানুন
সমাজ মাধ্যম ব্যবহার নিয়ে এবার আরও সতর্ক অবস্থানে কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের তরফ থেকে জারি হয়েছে নতুন নির্দেশিকা। সেই নির্দেশিকায় যেখানে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে পুলিশ বাহিনীর পক্ষে অফিসিয়াল সমাজ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকরাই বিবৃতি দিতে পারবেন। সাধারণ পুলিশ কর্মীরা নিজেদের মতো করে কোনও সরকারি বক্তব্য আর প্রকাশ করতে পারবেন না।

নতুন নিয়ম অনুসারে, কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল সমাজ মাধ্যম হ্যান্ডেলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এবং অনুমোদিত অফিসাররাই বক্তব্য রাখার অধিকারী। অর্থাৎ, বাহিনীর অন্য কোনও সদস্য ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের অবস্থান অথবা মত প্রকাশ করতে পারবেন না। লালবাজারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল, তথ্যের সঠিক ভাবে ব্যবহার এবং বিভ্রান্তি এড়ানো।
নির্দেশিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনও চলতি তদন্ত অথবা কোনও সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য কোনওভাবেই সমাজ মাধ্যমে দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র প্রকাশ্য পোস্টই নয়, মেসেজিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট অথবা অন্য কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও এ ধরনের তথ্য ভাগ করা যাবে না।
এমনকি সমাজ মাধ্যমে এমন কোনও পোস্টও করা চলবে না, যেখান থেকে তদন্তের অগ্রগতি, সম্ভাব্য দিকনির্দেশ অথবা প্রমাণ সংক্রান্ত ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। কারণ, এতে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে এবং প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
লালবাজার স্পষ্ট করেছে যে, সমাজ মাধ্যমে এরকম কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যা জনসাধারণের আস্থায় চোট দেয় এবং আচরণবিধির পরিপন্থী হয়।
নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে যে, অন্য কোনও দপ্তর, সহকর্মী, ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বা নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও অসন্তুষ্ট মন্তব্য করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মসূচি অথবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও জনসমক্ষে সমালোচনা করা যাবে না।
এছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে পরিদর্শন অথবা কোনও সংবেদনশীল সফরের ছবি বা তথ্য ব্যক্তিগত সমাজ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লালবাজারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নির্দেশিকা যদি অমান্য করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সোশাল মিডিয়ায় শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন এই গাইডলাইন কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ কর্মীদের অনলাইন উপস্থিতিতেও নজরদারি বাড়বে, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications