বিরাট কোহলি মুখ খুললেন অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে! ক্যাপ্টেন্সি গেলেও থাকতে চান 'লিডার'
ভারতের টি ২০ দলের নেতৃত্ব নিজেই ছেড়েছিলেন। একদিনের অধিনায়কত্ব থেকে বিরাট কোহলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ পরাজয়ের পর টেস্ট ক্যাপ্টেন্সিও ছেড়ে দিয়েছেন বিরাট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজেই প্রথমবার তিনি খেলবেন রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে। এর আগে একটি বিজনেস ফোরামে অধিনায়কত্ব, নেতৃত্বের বিষয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।

স্পষ্ট ধারণার গুরুত্ব
বিরাট বলেন, কোনটা অর্জন করতে হবে এবং তা করা গেল কিনা কিংবা কতটা করা গেল সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা সর্বাগ্রে জরুরি। সব কিছুরই একটা মেয়াদ বা সময়সীমা থাকে। ফলে সে বিষয়ে সচেতন থাকতেই হবে। একজন ব্যাটার হিসেবে নিজেকে উজাড় করে দলকে সেরাটাই দিতে হবে। সেটা করতে পারলে তা নিশ্চিতভাবেই গর্বের।

লিডার ও ক্যাপ্টেন!
প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক এরপর বলেন, লিডার হতে গেলে ক্যাপ্টেন হওয়া জরুরি নয়। যখন মহেন্দ্র সিং ধোনি দলে ছিলেন, তখন এটা নয় যে তিনি লিডার ছিলেন না। সব সময় তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা ইনপুট আমরা নিয়েছি। হারা-জেতা কারও হাতে থাকে না। শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রচেষ্টা চালানো কিংবা প্রতিদিনই নিজেদের উন্নত করার প্রয়াস, এ সব কিছু স্বল্পমেয়াদি নয়। যখন এটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তখন খেলা বা দায়িত্ব ছাড়ার পরও তা অটুট থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর বিরাটের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন সিরিজ শুরুর আগে তাই এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
নিজেই নিজের লিডার
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কখন কোনও কিছু ছাড়তে হবে, এ সবই লিডারশিপের বড় গুণ বলে অভিহিত করেছেন বিরাট। ভূমিকা বদলালেও দলের প্রতি অবদান একইভাবে রাখা যায় বলে উপলব্ধি কোহলির। বিরাট বলেন, সমস্ত ধরনের ভূমিকা বা সুযোগকে আপন করে নেওয়াটা জরুরি। আমি ধোনির অধিনায়কত্বে খেলেছি। পরে আমি ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছি। আমার মানসিক গঠন একই থেকেছে। আমি সব সময়ই অধিনায়কের মতোই ভেবে এসেছি। যখন আমি সাধারণ ক্রিকেটার ছিলাম তখনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমি দলের জয়ই সব সময় চাই। আমি নিজেকেই নিজের লিডার মনে করি।

সংস্কৃতি বদল
স্ট্র্যাটেজির চেয়েও দলে ভালো সংস্কৃতি বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দেন বিরাট। তিনি বলেন, আমি যখনই অধিনায়ক হয়েছিলাম, আমার ফোকাস ছিল দলের সংস্কৃতি বদলানোর। আমি জানতাম আমাদের দলে দক্ষতার অভাব নেই, প্রতিভার সেরা বিচ্ছুরণটা নিশ্চিত করার উপরই জোর দিয়েছিলাম। আমার ভিশনটাকে সীমাবদ্ধ রেখে এর ব্যাপ্তি ঘটানোর দিকে নজর ছিল। তখনই জরুরি হয়ে পড়ে সংস্কৃতির। কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যে কোনও পরিস্থিতি থেকে জয় ছিনিয়ে আনার আত্মবিশ্বাসে ভর করেই দলের মধ্যে একটা অন্য ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করতে পেরেছিলাম।












Click it and Unblock the Notifications