Tamim Iqbal: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার প্রস্তাব পেয়েও দ্বিতীয়বার অবসর ঘোষণা তামিমের, বাংলাদেশে শোরগোল
Tamim Iqbal: বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে শোরগোল ফেলে দিল আজ রাতে তামিম ইকবালের ফেসবুক পোস্ট। যাতে তিনি কেরিয়ারে দ্বিতীয়বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা জানালেন।
২০২৩ সালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছিলেন। এবারও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার প্রস্তাব পান। কিন্তু তা নাকচ করেছেন তামিম।

ফেসবুক বার্তায় তামিম লিখেছেন, "আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি অনেক দিন ধরেই। সেই দূরত্ব আর ঘুচবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ। অনেক দিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম। এখন যেহেতু সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় একটি আসর সামনে, আমি চাই না আমাকে ঘিরে আবার অলোচনা হোক এবং দলের মনোযোগ ব্যাহত হোক।
এটা অবশ্য আগেও চাইনি। চাইনি বলেই অনেক আগে নিজেকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরিয়ে নিয়েছি। যদিও অনেকেই বলেছেন, অনেক সময় মিডিয়ায় এসেছে, আমিই নাকি ব্যাপারটি ঝুলিয়ে রেখেছি। কিন্তু বিসিবির কোনও ধরনের চুক্তিতে যে নেই, এক বছরের বেশি সময় আগে যে নিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, তাকে পরিকল্পনায় রাখা বা তাকে নিয়ে আলোচনারও তো কিছু নেই।
তার পরও অযথা আলোচনা হয়েছে। অবসর নেওয়া বা খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একজন ক্রিকেটার বা যে কোনো পেশাদার ক্রীড়াবিদের নিজের অধিকার। আমি নিজেকে সময় দিয়েছি। এখন মনে হয়েছে, সময়টা এসে গেছে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আন্তরিকভাবেই আমাকে ফেরার জন্য বলেছে। নির্বাচক কমিটির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আমাকে এখনও উপযুক্ত মনে করার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে আমি নিজের মনের কথা শুনেছি।
২০২৩ বিশ্বকাপের আগে যা হয়েছে, আমার জন্য তা বড় ধাক্কা ছিল, যেহেতু ক্রিকেটীয় কারণে আমি দলের বাইরে যাইনি। তার পরও আমি যেখানেই গিয়েছি, ক্রিকেট ভক্তদের অনেকে বলেছেন, আমাকে আবার জাতীয় দলে দেখতে চান। তাদের ভালোবাসার কথা ভেবেছি আমি।
আমার ঘরেও একজন অনুরাগী আছে। আমার ছেলে কখনও আমাকে সরাসরি বলেনি, কিন্তু তার মাকে বারবার বলেছে, বাবাকে আবার দেশের জার্সিতে খেলতে দেখতে চায়। ভক্তদের হতাশ করার জন্য আমি দুঃখিত। ছেলেকে বলছি, তুমি যেদিন বড় হবে, সেদিন বাবাকে বুঝতে পারবে।"
উল্লেখ্য, বছর দেড়েক আগে তামিম সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেন। এরপর একদিনের আন্তর্জাতিকে নেতৃত্ব ছেড়ে দেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তামিম বাংলাদেশের হয়ে দুটি ওডিআই খেলেন। সেই সময় মিনহাজুল আবেদিনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলী তামিমকে ওডিআই বিশ্বকাপে রাখার ভাবনাচিন্তা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি বিশ্বকাপের ১৫ দলের ঠাঁই পাননি তামিম।
সেই সময় বিসিবির ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তামিম। তাঁর বক্তব্যকে শিশুসুলভ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক শাকিব আল হাসান।
তামিম ৭০টি টেস্টে ১০টি শতরান ও ৩১টি অর্ধশতরান-সহ ৫১৩৪ রান করেছেন। ২৪৩টি ওডিআইয়ে করেছেন ৮৩৫৭ রান, ১৪টি শতরান ও ৫৬টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। ৭৮টি টি২০ আন্তর্জাতিকে তামিমের রান ১৭৫৮, ১টি সেঞ্চুরি ও সাতটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। ২০২৩ সালে মীরপুরেই শেষ টেস্ট খেলেন আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের পর টি২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি।












Click it and Unblock the Notifications