বিরাট কোহলির উপর রেগে লাল বঞ্চিত বাংলাদেশ, কারণ জানতে দেখুন ভিডিও! কী বলছে আইসিসির নিয়ম?
বিরাট কোহলিকে কি বাড়তি সমীহ করেন আম্পায়াররা? অ্যাডিলেডে ভারতের কাছে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ৫ রানে হেরে গিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও আম্পায়াররা যদি সঠিকভাবে আম্পায়ারিং করতেন তাহলে বাংলাদেশ গ্রুপশীর্ষে চলে যেত বলে দাবি করছেন উইকেটকিপার নুরুল হাসান। বিরাট কোহলিকে নিশানাও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আইসিসির নিয়ম মানা হলে বাংলাদেশকে হারতে হতো না।
|
বিরাট বিতর্ক
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশ ইনিংসের সপ্তম ওভারে। লিটন দাস তখন ঝড়ের গতিতে ব্যাট করছেন, ক্রিজে রয়েছেন ২৪ বলে ৫৬ রানে। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলটি অফ সাইডে খেলেন লিটন। অক্ষর প্যাটেল বল ধরে তা উইকেটকিপার দীনেশ কার্তিকের কাছে ফেরত পাঠানোর আগে তিনি দুই রান নেন। কোহলি ফিল্ডিং করছিলেন পয়েন্ট অঞ্চলে। বল তাঁর কাছেও যায়নি। কিন্তু টিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, অক্ষর বল ধরে কার্তিকের কাছে পাঠানোর সময়, বিরাট নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে বল ছোড়ার অভিনয় করেন। আর এই ফেক ফিল্ডিংই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
|
৫ রান থেকে বঞ্চিত
বিরাট এভাবে বল ছোড়ার অভিনয় করলেও তার জেরে কোনও ব্যবস্থা নেননি আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস ও ক্রিস ব্রাউন। ঘটনাটি বাংলাদেশ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তও আম্পায়ারদের দৃষ্টিগোচরে আনার চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশের উইকেটকিপার নুরুল হাসান শেষ অবধি মরিয়া লড়াই চালিয়েছিলেন দলকে জেতানোর জন্য, কিন্তু পারেননি। ম্যাচের শেষে তিনি বলেন, মাঠ ভিজে থাকার পাশাপাশি ফেক থ্রো-র কথাও বলতেই হবে। এতে বাংলাদেশের পাঁচ পেনাল্টি রান পাওয়া উচিত ছিল। সেটা হলে ম্যাচে আমরাই জিততাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি।
|
ক্রিকেটের নিয়মে নুরুল ঠিক
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী ৪১.৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার এমন চেষ্টা করা হলে আম্পায়ার সেই বলটিকে ডেড বল ঘোষণা করে ব্যাটিং দলের স্কোরে পাঁচ রান যোগ করতে পারেন। রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে বিরাট কোহলি বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছিলেন। অর্শদীপের ছোড়া বলটি তাঁর ডান দিকেই আসছিল। যদিও বিরাটের থেকে কিছুটা দূরেই ছিল বলটি। বিরাট এমন ভাব করেন যে, অর্শদীপের পাঠানো বলটি ধরে তিনি নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে থ্রো করছেন। এটিকে রিলে থ্রো হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন বিরাট।
|
আম্পায়ারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা
তবে এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিংয়ের সময়ও বিরাট কোহলি আম্পায়ারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলে মনে করছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ১৬তম ওভারে বল করার সময় দ্বিতীয় বাউন্সার দেন। বিরাট কোহলি পুল মেরে স্কোয়্যার লেগ অঞ্চলে বল পাঠিয়ে আম্পায়ার এরাসমাসের দিকে নো বল ডাকার ইশারা করেন। এরাসমাস তারপর নো বল ডাকলে তা মানতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক শাকিব আল হাসান। কভার অঞ্চল থেকে তিনি আম্পায়ার ও বিরাটের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন। যদিও এই জল বেশিদূর গড়ায়নি। বিরাট ও শাকিব পরস্পরকে আলিঙ্গনও করে নেন।
|
অসন্তোষ বাংলাদেশ শিবিরে
আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে অসন্তোষ আরও রয়েছে। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধের সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে তখন বাংলাদেশ এগিয়ে ১৭ রানে। খেলা শুরুর আগে শাকিব আম্পায়ারদের দেখানোর চেষ্টা করছিলেন মাঠ কতটা ভিজে রয়েছে। সেখানে হাজির হন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। বাংলাদেশ চাইছিল মাঠ যাতে আরও কিছুটা শুকিয়ে নিয়ে খেলা শুরু হয়। কিন্তু তা হয়নি। এর পরের দুই বলেই রান নিতে গিয়ে পিছলে যান লিটন দাস। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তিনি রান আউট হয়ে যান। শাকিবকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আম্পায়ারের সঙ্গে কথোপকথন হচ্ছিল কত ওভার খেলা হবে, কী টার্গেট, কী নিয়ম এইসব নিয়েই। আম্পায়ারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা আমাদের নেই। দুই দলই ২০ ওভার খেলতে চেয়েছিল। বৃষ্টির উপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। স্পিরিট মেনেই আমরা ভালো ম্যাচ খেলেছি। যে পরিস্থিতিতে ছিলাম সেখান থেকে টার্গেটে পৌঁছানো সম্ভবও ছিল। ২০১৬-র টি ২০ বিশ্বকাপের পর ফের খুব কাছে গিয়ে হারলাম। তবে ভারতের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে খেলছি তাতে অদূর ভবিষ্যতেই ফলাফল নিজেদের দিকে আনতে পারব।












Click it and Unblock the Notifications