লিডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট বাঁচানোর লড়াইয়ে ভারত, রোহিত ছুঁলেন গাভাসকর ও বিজয়কে
লিডসে টেস্ট বাঁচানোর অতিমানবীয় লড়াই চালাচ্ছে বিরাট কোহলির ভারত। যদিও শেষরক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইতিমধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন দুই ওপেনার। দ্বিতীয় সেশনে রোহিত শর্মা ও চেতেশ্বর পূজারার জুটি ইংল্যান্ডের পেসাররা ভাঙতে পারেননি। কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু চা বিরতির পর তিনি আউট হয়ে গিয়েছেন। এদিন অবশ্য সবচেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চেতেশ্বর পূজারা।

লাঞ্চের আগে
প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রানে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। ওপেনিং জুটি টিকে ছিল ১৯ ওভার অবধিষ লাঞ্চের ঠিক আগে ক্রেগ ওভার্টনের ওভারের শেষ বল লোকেশ রাহুলের ব্যাট ছুঁয়ে স্লিপের দিকে চলে যায়। যেমন অসাধারণ বল তেমনই অসাধারণভাবে বাঁ হাতে ক্যাচ ধরেন জনি বেয়ারস্টো। সুনীল গাভাসকর যা দেখে বলে ওঠেন, লোকেশ রাহুল কোনও ভুল করেননি। তবে অসাধারণ বলে ম্যাজিক্যাল ক্যাচ। একজন উইকেটকিপারের পক্ষে স্লিপে দাঁড়িয়ে এমন ক্যাচ তালুবন্দি করা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন লেগেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ৫৪ বলে ৮ রান করে আউট হন রাহুল। ভারতের লাঞ্চে স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৩৪।

রোহিত-পূজারার দ্বিতীয় সেশন
দ্বিতীয় সেশনে ভারত কোনও উইকেট হারায়নি। রোহিত শর্মার সুবিধা হয়ে যায় চেতেশ্বর পূজারা পজিটিভ ব্যাটিং শুরু করায়। স্বভাববিরুদ্ধ ঢঙেই এদিন কেরিয়ারের মরণ-বাঁচন ইনিংস খেলতে শুরু করেন ভারতের তিন নম্বর পজিশনের বড় ভরসা পূজারা। তাঁর স্ট্রাইক রেটও এদিন ছিল কার্যত একদিনের আন্তর্জাতিকের মতো। চা বিরতিতে ভারতের স্কোর ছিল ৪২ ওভারে ৪২ ওভারে ১২০। যদিও এরই মধ্যে ৩২ তম ওভারে ভাগ্যের সহায়তা পান রোহিত শর্মা। ৩২ তম ওভারের বল করছিলেন অলি রবিনসন। পঞ্চম বলটি রোহিতের প্যাডে লাগে। আম্পায়ার আউট দেননি। রুট ভেবেচিন্তে রিভিউ নেওয়ার আগেই বরাদ্দ সময় শেষ হয়ে যায়। কাউন্টডাউন শূন্যে পৌঁছানোর পর রুট রিভিউয়ের আবেদন করলে তা নাকচ করেন আম্পায়ার। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি উইকেটে লাগছিল। চা বিরতিতে রোহিত শর্মা অপরাজিত ছিলেন ৫৯ রানে এবং পূজারা ৪০ রানে।
|
রোহিতের নজির
রোহিত এদিন কেরিয়ারের চতুর্দশ অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ১২৫ বলে, ৬টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে। এদিন ব্যাটিংয়ের ফাঁকে তিনি স্পর্শ করেন সুনীল গাভাসকর ও মুরলী বিজয়ের কীর্তিও। ইংল্যান্ড সফরে চলতি সিরিজে এই নিয়ে চারবার ভারতীয় ওপেনার হিসেবে রোহিত ১০০ বলের বেশি খেললেন। সুনীল গাভাসকর ২৮টি ইনিংসে ইংল্যান্ডে ১৩ বার ১০০-র বেশি বল খেলেছেন। সানি ছাড়া রোহিতের মতো চারবার ১০০ বল খেলার নজির কোনও ভারতীয় ওপেনারের নেই। কোনও টেস্টের দুই ইনিংসে ১০০ বল খেলার নিরিখে রোহিত রইলেন তৃতীয় স্থানে। গাভাসকর তিনবার এই নজির গড়েছেন। ২০১৪ সালে ট্রেন্টব্রিজে দুই ইনিংসেই ১০০ বল খেলেছিলেন মুরলী বিজয়। ভারতের ১১৬ রানের মাথায় রোহিত ও পূজারার জুটি ভাঙেন অলি রবিনসন। ১৫৬ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৫৯ রান করে লেগ বিফোর হন রোহিত। রিভিউ নিলে রিপ্লেতে দেখা যায় আম্পায়ার্স কল। ফলে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় রোহিত শর্মাকে। লর্ডস টেস্টের পর এদিন তিনি সিরিজের দ্বিতীয় অর্ধশতরান করলেন।
|
স্বস্তিতে পূজারা
রোহিতের পর অর্ধশতরান পূর্ণ করেন চেতেশ্বর পূজারাও। গত ফেব্রুয়ারিতে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭৩ রান করেছিলেন। তারপর ত্রয়োদশ ইনিংসে অর্ধশতরান এল দলের প্রয়োজনীয় সময়ে। এই ইনিংসে রানা না পেলে বাদ পড়তেও পারতেন। পূজারা নিজে কতটা মরিয়া ছিলেন তা প্রমাণ হয় তাঁর স্ট্রাইক রেট দেখলেও। ৯টি চারের সাহায্যে ৯১ বলে টেস্ট কেরিয়ারের ৩০তম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন পূজারা। খারাপ ফর্ম ও তাঁর কম স্ট্রাইক রেটের জন্য চাপে ছিলেন পূজারা। কিন্তু এদিনের ইনিংস তাঁকে অক্সিজেন দিল। হাফ সেঞ্চুরির পর বিরাট কোহলি তাঁকে উৎসাহিত করতে গেলে পূজারার মুখে স্বস্তির হাসি দেখা যায়। কোচ রবি শাস্ত্রীও পূজারার ইনিংসে নিজের খুশি গোপন রাখেননি। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়ার সময় শাস্ত্রীর মুখেও ছিল হাসি।

ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস
এদিন ৪৩২ রানে শেষ হয় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় দিনের শেষে রুটের দলের রান ছিল ৮ উইকেটে ৪২৩। আজ ক্রেগ ওভার্টনকে আউট করেন মহম্মদ শামি। ৩২ রানে লেগ বিফোর হন ওভার্টন। অলি রবিনসন বোল্ড হন জসপ্রীত বুমরাহ-র বলে। ২৮ ওভারে আটটি মেডেন-সহ ৯৫ রানের বিনিময়ে চারটি উইকেট নেন শামি। বুমরাহ, সিরাজ ও জাদেজার ঝুলিতে দুটি করে উইকেট। এরই মধ্যে পরের টেস্টে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে খেলানো হতে পারে। হেডিংলির নেটে জোরকদমে অনুশীলন চালাচ্ছেন অশ্বিন।
The desire to ignite something different every day never burns out. 🤜 🔥🔥🤩 pic.twitter.com/6U9s7LZpP6
— Mask up and take your vaccine🙏🙏🇮🇳 (@ashwinravi99) August 26, 2021












Click it and Unblock the Notifications