বাবর ভাঙলেন হেডেনদের রেকর্ড! রিজওয়ানের অনন্য নজিরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তান তুলল ১৭৬
টি ২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১৭৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখল পাকিস্তান। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি ২০ আন্তর্জাতিকে এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে ১ হাজারের বেশি রান গড়ার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী হয়ে গেলেন মহম্মদ রিজওয়ান (৬ ম্যাচে ২৮১)। এদিন দুবাইয়ে টি ২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে তিনি চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পেলেন। পাকিস্তান ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৬ রান তুলেছে। সর্বাধিক ৬৭ রান রিজওয়ানের। ফখর জামান অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে।

টস জিতে ডিউ ফ্যাক্টরের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দশম ওভার অবধি অজিদের অপেক্ষা করতে হয় ওপেনিং জুটি ভাঙার জন্য। দশম ওভারের শেষ বলে অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হন পাক অধিনায়ক বাবর আজম। পাঁচটি চারের সাহায্যে ৩৪ বলে ৩৯ রান করে তিনি আউট হলে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৭১। এরই ফাঁকে ম্যাথু হেডেন, মাহেলা জয়বর্ধনের নজির টপকে যান বাবর। ২০০৭ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ম্যাথু হেডেন সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী হয়েছিলেন, চারটি অর্ধশতরানের সুবাদে ৬ ম্যাচে তিনি করেন ২৬৫ রান। পাকিস্তানের ব্যাটিং পরামর্শদাতা যখন ডাগ আউটে বসে, তখন তাঁরই সামনে তাঁর গড়া নজির টপকে যান বাবর আজম। আজকের ম্যাচের পর চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী বাবর আজম দাঁড়িয়ে ৬ ম্যাচে ৩০৩ রানে, চারটি অর্ধশতরান পেয়েছেন।
কোনও টি ২০ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড অবশ্য বিরাট কোহলির দখলে। ২০০৯ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার তিলকরত্নে দিলশান তিনটি অর্ধশতরানের সুবাদে সাত ম্যাচে করেন ৩১৭ রান। ২০১৪ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে সেই নজির ভেঙে বিরাট কোহলি ৬ ম্যাচে চারটি অর্ধশতরান-সহ ৩১৯ রান করেছিলেন। এ ছাড়া ২০১০ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন শ্রীলঙ্কারই মাহেলা জয়বর্ধনে, ৬ ম্যাচে ৩০২, একটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরান-সহ। ২০১২ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন ৬ ম্যাচে ২৪৯ রান করেন, তিনটি হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান করেছিলেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল, ৬ ম্যাচে ২৯৫, একটি শতরান ও অর্ধশতরানের দৌলতে।

বাবর আজম ফেরার পর পাকিস্তানের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মহম্মদ রিজওয়ান ও ফখর জামান। ১৭.২ ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিজওয়ান। তিনটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে ৫২ বলে ৬৭ রান করেন তিনি। রিজওয়ান ফেরার পরের বলেই বিশাল ছক্কা হাঁকান ফখর জামান। তারপরও চালিয়ে যেতে থাকেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ১৮.১ ওভারে আসিফ আলি শূন্য রানে কামিন্সের শিকার হন। পরের বলে ফখরের ক্যাচ ফেলেন স্টিভ স্মিথ। ১৯তম ওভারে প্যাট কামিন্স মাত্র ৩ রান দেওয়ায় তাঁর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪ ওভারে ৩০ রানে ১ উইকেট।
এদিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যাডাম জাম্পা, স্টিভ স্মিথরা বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিস করেছেন। ফর্মে থাকা পাক ব্যাটারদের বিরুদ্ধে স্বস্তিতে ছিলেন না অজি পেসাররাও। স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। ১৮.১ ওভারে আসিফ আলি শূন্য রানে কামিন্সের শিকার হন। পরের বলে ফখরের ক্যাচ ফেলেন স্টিভ স্মিথ। ১৯তম ওভারে প্যাট কামিন্স মাত্র ৩ রান দেওয়ায় তাঁর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪ ওভারে ৩০ রানে ১ উইকেট। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে শোয়েব মালিককে বোল্ড করেন মিচেল স্টার্ক। ১৫৮ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর পাকিস্তান চতুর্থ উইকেট হারায় ১৬২ রানে। তবে এই ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ফখর জামান। তিনিও তিনটি চার ও চারটি ছয় মেরে ৩২ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। মিচেল স্টার্ক ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট দখল করেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। জস হ্যাজলউড ৪ ওভারে ৪৯ রান দেন। মিচেল মার্শ ১ ওভারে দেন ১১।












Click it and Unblock the Notifications