ঈশান-হার্দিক-শ্রেয়সরা অনবদ্য, দিল্লিতে টি ২০-তে সর্বাধিক রান ভারতের, দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
পাঁচ ম্যাচের সিরিজের শুরুটা ভালোই করল ভারত। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তো বটেই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি ২০ আন্তর্জাতিকে সর্বাধিক রান তুলল মেন ইন ব্লু। ঈশান কিষাণ, হার্দিক পাণ্ডিয়াদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে জয়ের জন্য ২১২ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখল ঋষভ পন্থের ভারত। কিষাণ ৪৮ বলে সর্বাধিক ৭৬ রান করেন। ১২ বলে ৩১রানে অপরাজিত থাকেন হার্দিক।

ভালো শুরু
টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। পাওয়ারপ্লে-র ৬ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ভারত তোলে ৫১। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ঈশান কিষাণ। তাঁকে ভালোভাবেই সঙ্গত দিচ্ছিলেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে গায়কোয়াড়কে ফেরান ওয়েন পার্নেল। তিনি ২০১৭ সালের পর এদিনই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলছেন। ঋতুরাজ ফেরার পর জুটি বাঁধেন শ্রেয়স আইয়ার ও ঈশান কিষাণ। ৯.৪ ওভারে ভারত পেরিয়ে যায় ১০০ রান।

কিষাণ-শ্রেয়সের অনবদ্য জুটি
৩৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ঈশান কিষাণ। তিনি ত্রয়োদশ ওভারের শেষ বলে কেশব মহারাজের শিকার হন। তার আগের বলেই লেগ বিফোর আউটের সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচেন রিভিউ নিয়ে। কিন্তু আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন এই ম্যাচেই অভিষেক হওয়া ট্রিস্টান স্টাবসের হাতে। ১১টি চার ও তিনটি ছয়ের সাহায্যে কিষাণ ৪৮ বলে ৭৬ রান করলেন। আইপিএলে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হিসেবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু এদিন চেনা ছন্দে ব্যাট করে টি ২০ বিশ্বকাপে বিকল্প ওপেনারের দৌড়ে থাকলেন ভালোভাবেই। কিষাণ ও শ্রেয়সের জুটিতে যোগ হয় ৪০ বলে ৮০ রান। ১৬.১ ওভারে দলের ১৫৬ রানের মাথায় আউট হন শ্রেয়স আইয়ার। তিনি ডোয়েইন প্রিটোরিয়াসের বলে বোল্ড হন।
|
ফিনিশার হার্দিক
এরপর পন্থ ও হার্দিক ১৮ বলে ৪৬ রানের ঝোড়ো পার্টনারশিপ গড়েন। দুটি করে চার ও ছয় মেরে ভারতের নতুন টি ২০ অধিনায়ক পন্থ করেন ১৬ বলে ২৯। ১৯.১ ওভারে ২০২ রানে পড়ে চতুর্থ উইকেট। হার্দিক আইপিএলের দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত রেখে পাঁচে ব্যাট করতে নেমে অপরাজিত রইলেন ১২ বলে ৩১ রানে। মেরেছেন দুটি চার ও তিনটি ছয়। আনরিখ নরকিয়াকে যেভাবে মিড অফ দিয়ে ছক্কা মেরেছেন তার প্রশংসা করেছেন সুনীল গাভাসকর। তিন বছর পর ভারতীয় টি ২০ দলে কামব্যাক করা দীনেশ কার্তিক অপরাজিত থাকেন ২ বলে ১ রানে। কিষাণ বিরতিতে বলেন, প্রথম দিকে বল ব্যাটে সহজে আসছিল না। মনে হচ্ছিল, ১৫০ রান যথেষ্ট। সেই নিরিখে ২১১ অবশ্যই ভালো স্কোর। শেষ অবধি বলের দিকে লক্ষ্য রেখে শট খেলাতেই তিনি সফল হয়েছেন বলে জানান ঈষাণ কিষাণ। জানালেন, বোলারকে চাপে রাখাই লক্ষ্য ছিল বড় শট খেলে। যখন বাঁহাতি স্পিনার বল করছিলেন তখন শ্রেয়সকে বলি আমিই চালিয়ে খেলব।

বোলিং ছন্দহীন
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে ওয়েন পার্নেল ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। আনরিখ নরকিয়া ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। কেশব মহারাজ বোলিং ওপেন করতে গিয়ে ৩ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ১টি উইকেট পেয়েছেন। ডোয়েউন প্রিটোরিয়াস ৩ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ১টি উইকেট। তাবরেজ শামসি ২ ওভারে ২৭ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি।












Click it and Unblock the Notifications