IPL 2023: ইডেনের প্রেস বক্সে ড্রাইভার! স্নেহাশিসের কড়া নির্দেশের পরও কেন বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো?
ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় পেয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। তার আগে অবশ্য আরও এক প্রস্থ নাটক ইডেনের প্রেস বক্সে। প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডের পর বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ করেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।
কিন্তু তাতেও ইডেনের প্রেস বক্সে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কোথায়? কলকাতা-লখনউ ম্যাচ দেখতে প্রেস বক্সে কার্ড ছা়ড়াই ঢুকে পড়লেন এক ব্যক্তি। প্রেস বক্সের টিকিট তাঁর কাছে ছিল। পরে জানা যায়, তিনি একটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ির চালক।

দেশ-বিদেশে ক্রিকেট ম্যাচ কভার করা প্রথিতযশা সাংবাদিকরাও একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় স্তম্ভিত। শাস্তি দেওয়ার মতো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হয় না বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে মনে করা হচ্ছে। গতকালের ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই সিএবি পুরোপুরি দায়ী নয়। তবে সিএবির একাংশের জন্যই বারবার মুখ পুড়ছে।
বিশ্বকাপের কোন কোন ম্যাচ ইডেন পাবে, তা জানা যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। কিন্তু ৮ মে কলকাতা-পাঞ্জাব ম্যাচের পর গতকাল কলকাতা-লখনউ ম্যাচে যে ঘটনা ঘটল তাতে বড়সড় অঘটনের আশঙ্কা থাকছে। কঠোর হাতে কড়া পদক্ষেপ না করলে বিশ্বকাপের আসরেও মাথা হেঁট হতে পারে সিএবির। দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম কখনও তা চাইবে না।

ইডেনে প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাকের ঘটনা সামনে আসার পর সাংবাদিকদের ম্যাচ ডে টিকিট বিলির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি হয়। কোন সাংবাদিক কত নম্বরের টিকিট পাচ্ছেন সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য লিখে রাখার যে নির্দেশ সিএবি সভাপতি দিয়েছিলেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন সিএবির কর্মীরা। তাতেই গতকাল দোষীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে।
সিএবি সভাপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেস বক্সে যাঁরা ঢুকবেন তাঁদের কার্ড ও টিকিট যেন পরীক্ষা করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। যে বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীরা সেই দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা যে সেই নির্দেশ পালন করেননি, তা বোঝা গিয়েছে কার্ড ছাড়াই এক সংবাদমাধ্যমের গাড়ির চালক ৫১ নম্বর টিকিট নিয়ে ইডেনের প্রেস বক্সে গিয়ে বসে পড়ায়।

সিএবির কর্মীরাই ওই ব্যক্তির কার্ড দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। তবে তাঁর কাছে টিকিট ছিল। সিএবির তরফে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রিপোর্টার জানান, তিনি ইডেনে যেতে পারেননি বলে ড্রাইভারকে পাঠিয়েছেন। সূত্রের খবর, ওই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ড্রাইভারকে পাঠানোর মতো অপরাধের দায়ে ওই তথাকথিত ছোট সংবাদমাধ্যম সিএবির শাস্তির মুখে পড়লে কিছু বলার নেই। কিন্তু প্রায় ২ সপ্তাহ হয়ে গেলেও যে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে টিকিট ব্ল্যাকের অভিযোগ উঠেছে এবং সিএবি নিশ্চিত হয়ে কিছু পদক্ষেপ করেছে, কোন জাদুমন্ত্রে ওই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাত কাঁপছে সিএবির?

ইডেনে প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডে অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির সেলফিতে দেখা গিয়েছে সিএবির মিডিয়া ম্যানেজারকে। এতে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি তাঁর মাথায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত থাকার কথা বলে টিকিট ব্ল্যাক কাণ্ডে কোনও তদন্ত বা শাস্তি হবে না বলে দাবি করে চলেছেন।
সিএবির অন্দরমহল তো বটেই সংবাদমাধ্যমের একাংশও গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ। ইডেনে প্রেস বক্সের টিকিট ব্ল্যাক হয়ে থাকলে সিএবির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি শুভেন রাহা।

যে সংবাদমাধ্যমের নাম এসেছে তাদের সম্পর্কে অনেক সাংবাদিকই ওয়াকিবহাল নন। এমনকী জানা গিয়েছে, ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি শুভেন রাহা নিজে প্রেস বক্সে ঢোকার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের কার্ড ও টিকিট পরীক্ষা করতে বলেন। যদিও পরে দেখা গিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীরা খেলা দেখতেই ব্যস্ত ছিলেন। যার জেরে ফের বিপত্তি।
সিএবিতে আগে কোন সাংবাদিক কোন টিকিট পেতেন তা লিখে রাখা হতো। নতুন মিডিয়া ম্যানেজার এসে সেই নিয়ম কেন তুলে দেন সেই প্রশ্ন থাকছে। তদন্তের আওতায় তা আনার সওয়াল উঠছে। আইপিএলে ইডেনে শেষ ম্যাচে সেই পুরানো নিয়মেই ফিরেছে সিএবি। তাতে গতকালের ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করাও সহজ হয়েছে।

কেলেঙ্কারির এখানেই শেষ নয়। গতকাল এক চিত্র সাংবাদিক আইপিএল ম্যাচ চলাকালীন এআইএফএফের কার্ড গলায় ঝুলিয়েও ইডেনের বহু জায়গায় ঘুরঘুর করেছেন। সিএবির দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিষয়টি নজরে আসতেই তাঁকে সতর্ক করা হয়। তিনি বলেন, ভুল করে ফুটবলের কার্ড পরেই ক্রিকেট মাঠে এসেছেন। প্রশ্ন, তিনি ঢুকলেন কীভাবে?
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো। এতে অবাধে কোনও জঙ্গি বা জুয়াড়ি মাঠে ঢুকে পড়তে পারেন। প্রেস বক্স পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে সেখানকার ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কোনও জুয়ায় যদি তিনি অংশ নেন তাঁকে চিহ্নিত করাও তো কঠিন হবে।

বিসিসিআইয়ের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে ফেসবুক বা ইউটিউব চ্যানেল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পেয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। মিডিয়া ম্যানেজার দায় এড়াতে পারেন কি? ওয়ানইন্ডিয়া-সহ অনেক সংবাদমাধ্যম বিশ্বাস করে, সৌরভ বা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় তাঁদের নাম ভাঙিয়ে কোনও অপকর্মকে প্রশ্রয় দেবেন না।
যে ধরনের ঘটনা ঘটছে তাতে সিএবির দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ ও দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া উচিত বলেই মত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজনের। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যদি প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে বর্তমান প্রশাসনকে দিশা দেখান তাহলে দ্রুতই সিএবি বিশ্বকাপ আয়োজন সুষ্ঠুভাবে করতে পারবে বলে ধারণা সকলের।
একের পর কেলেঙ্কারি সংবাদমাধ্যমে সামনে আসছে। যা দেশে তো বটে, বিদেশেও নজিরবিহীন। তারপরও উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন সিএবি নিচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। সর্ষের মধ্যেই ভূত নেই তো? বড় কেলেঙ্কারি ঢাকতে ধামাচাপা দিতে কোনও মহল থেকে অদৃশ্য পর্দা টাঙানো হচ্ছে না তো? যদিও সকলের আস্থা থাকছে স্নেহাশিসের উপরেই।
আইপিএলের সব খবরের আপডেট, স্কোর, স্ট্যাটিসটিক্স, ছবি, ভিডিও একনজরে












Click it and Unblock the Notifications