ICC CWC 2023: বিশ্বকাপে সিএবি-র একচোখামি! বঞ্চনা ইস্টবেঙ্গলকে, অসন্তোষ বাড়ছে সাংবাদিকদের
মেঝেতে গর্ত ছিল...। লোপামুদ্রা মিত্রর জনপ্রিয় গানটিই যেন কানে ভাসছে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে চলা ইডেন গার্ডেন্সে। চাকচিক্যে পাঁচতারা হোটেলের মতো সাজসজ্জা। কিন্তু মেঝের গর্ত কার্পেট পেতেও ঢাকতে পারছে না সিএবি।
হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ, কিন্তু সিএবির মিডিয়া ম্যানেজারের ভূমিকা মনে করাচ্ছে ফুটবলকে। এ ওকে, ও তাকে পাস দিচ্ছে। একঝাঁক সংবাদমাধ্যমের পরিচিত সাংবাদিকদের যেখানে বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে না, সেখানে বাদ গেল না ইস্টবেঙ্গলও।

বিশ্বকাপ কভারেজের জন্য অনুমতি দিয়েছে আইসিসি। তবু ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থেকে প্রায় এক যুগ ধরে প্রকাশিত জনপ্রিয় পত্রিকা ইস্টবেঙ্গল সমাচারকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিচ্ছে না সিএবি। এতে আপত্তি নাকি রয়েছে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের। অন্তত তেমনটাই জানানো হয়েছে ইস্টবেঙ্গল সমাচারের সাংবাদিককে।
সূত্রের খবর, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এক শীর্ষকর্তা সিএসজেসির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যেখানে আইসিসি বিশ্বকাপের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের অনুমতি দিয়েছে, তারপরও তৃতীয় পক্ষ সিএসজেসির কী ভূমিকা থাকতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইস্টবেঙ্গল সমাচারের কার্ড আটকানো হলে তার ফল যে ভালো হবে না, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইস্টবেঙ্গল সমাচারের প্রতিটি এডিশন সিএবির বিভিন্ন পদাধিকারীদের ঘরে নিয়মিত পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এমন একঝাঁক সংবাদমাধ্যমকে কার্ড দেওয়া হচ্ছে যাদের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। কোনও কাগজ বাড়িতে বসে ডিজিটাল প্রিন্ট করানো হয়েছে বিশ্বকাপের আগে, কিংবা পিডিএফ রয়েছে। আরএনআই তো দূরের কথা।

এখানেই শেষ নয়। আইসিসিতে আবেদনের সময় যে সব সংবাদমাধ্যম ভুল তথ্য দিয়েছে তারাও কার্ড পেয়ে গিয়েছে। যেমন- কোনও ডিজিটাল মিডিয়া থেকে আবেদনে প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আইসিসি পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই না করে তাদের কার্ড দিয়েছে। দেশের প্রথমসারির জনপ্রিয় ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিকদের কার্ড আসেনি।
সেই সব সাংবাদিকদের কাছে আবেদন প্রত্যাখ্যানের ই-মেল পাঠানো হলেও বাতিলের কারণ জানানো হয়নি। আইসিসি সরকারিভাবে জানায়নি ডিজিটাল মিডিয়াকে কার্ড দেওয়া হবে না। অবশ্য কলকাতার কয়েকটি ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়েছেন। শাস্তি হয়নি, উল্টে তাঁদের কার্ড দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
এক-দুটি মিডিয়া ভুল তথ্য দিতে পারে, কিন্তু একঝাঁক ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, অস্তিত্বহীন সংবাদমাধ্যম কলকাতা থেকেই কীভাবে ক্যাটাগরি বদলে আবেদন করল এবং কার্ড পেল, সেই মিডিয়াকে এই জালিয়াতি করতে কে বা কারা উৎসাহিত করল তা তদন্তসাপেক্ষ বলে মনে করা হচ্ছে। কার্ড সংক্রান্ত এই জালিয়াতির তথ্য গিয়েছে আইসিসির কাছে।
যারা ভুল তথ্য দিয়ে কার্ড পেয়েছে সেই ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলকে ম্যাচ কভারেজের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আইসিসির মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার ক্লেয়ার ফার্লং। তবু সিএবির মিডিয়া দেখভালের দায়িত্বে থাকা টিম বৈধ নথি না দেখেই অবৈধ উপায় নেওয়া সংবাদমাধ্যমকে কার্ড দিয়ে চলেছে।
সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে যেমন জরুরি আরএনআই, তেমনই বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের জন্য জরুরি কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের লাইসেন্স, যা গ্রাউন্ড চ্যানেলগুলির কাছে নেই। তবুও পাড়ার কেবল চ্যানেলও আইসিসি বিশ্বকাপ কভারেজের কার্ড পেয়ে গিয়েছে। অস্তিত্বহীন কাগজ, যা কস্মিনকালে কেউ দেখেননি তাদেরও দেওয়া হয়েছে।
যদিও আচমকাই ইস্টবেঙ্গল সমাচারের সাংবাদিককে কার্ড নেওয়ার জন্য আরএনআই সার্টিফিকেট দিতে বলা হয়েছে। অন্য কারও ক্ষেত্রে এমনটা না হলেও কেন শুধু ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রেই এমনটা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইস্টবেঙ্গল আইসিসির কাছে প্রয়োজনীয় নথি দিতে তৈরি, কিন্তু সিএসজেসি বা সিএবিকে না দেওয়ার অবস্থানে অনড় বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এক প্রতিনিধির সিএবির সচিব হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি ছিটকে যান। তারপর ইস্টবেঙ্গলের সেই এই বঞ্চনার অভিযোগ। অবৈধভাবে যারা কার্ড পেয়েছে তাদের পর্যাপ্ত নথি দেখানোরও দাবি উঠেছে। কারও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির কারণেই এই নোংরা খেলা চলছে কিনা, যার জেরে সিএবি কালিমালিপ্ত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠছে।
সিএবির এক প্রাক্তন শীর্ষকর্তার দাবি, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সিএবিই আইসিসির সঙ্গে কথা বলে সমাধানসূত্র বের করতে পারতো। সিএবি মিডিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে আগে ওই ভূমিকায় থাকা একজনকে জুড়েছে বিশ্বকাপের আগে। কিন্তু তাঁর দাবি, যা হওয়ার আগেই হয়েছে। তিনি লিস্টের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
আইসিসি যেখানে অনুমোদন দিয়েছে তাদের কার্ড সিএসজেসির সঙ্গে কথা বলে আটকানো হয়েছে। আইসিসি বা বিসিসিআইকে টপকে এমনটা হয় কিনা তা বড় প্রশ্ন। এমনকী অবৈধভাবে কার্ড পাওয়াদের কথা জেনেও সিএবি মিডিয়া ম্যানেজার নীরব কেন? ঝুলি থেকে বিড়াল বেরনোর আশঙ্কায়? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সিএবির অন্দরে।
শুভবুদ্ধিসম্পন্নরা বলছেন, যদি আইসিসি ডিজিটাল মিডিয়াকে কার্ড না দেয় তাহলে তা মেনে নিতে আপত্তি নেই। কিন্তু ডিজিটাল মিডিয়ার একাংশ ভুল নথি দিয়ে জালিয়াতি করবেন এবং সব কিছু জেনেও সিএবি মিডিয়া ম্যানেজার কোনও পদক্ষেপ করছেন না, বা সদুত্তর দিচ্ছেন না, তা অবাক করার মতো। নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি সুভেন রাহা দিল্লি থেকে জানান, সিএবি আমাদের পরামর্শ চাওয়ায় আমরা বলেছিলাম আইসিসির গাইডলাইন মেনে কাজ করতে। রোজ কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। ফলে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের কথা শোনা হয়নি। আমাদের অবস্থান একই রয়েছে। সিএবির মিডিয়া ম্যানেজার প্রবল ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রশ্নের উত্তর এড়িয়েছেন। বেশিরভাগ সময় ফোনও ধরেননি।
(ছবি- ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল ফেসবুক ও পিটিআই)












Click it and Unblock the Notifications