ইমরানের জন্য চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ প্রাক্তন অধিনায়কদের, সমর্থন করলেন সৌরভও
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের প্রতি ন্যায্য আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসার দাবিতে অনেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের আবেদনকে সমর্থন করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর মতে, অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের প্রতি ইমরানের অবদানের জন্য তাঁর যত্ন নেওয়া উচিত।
সুনীল গাভাসকর ও কপিল দেবের মতো ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার-সহ ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, পাকিস্তান সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ এক অনুষ্ঠানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাক্তন অধিনায়কদের আবেদনকে "সঠিক" বলে মন্তব্য করে বলেন, "আমি আশা করি ইমরান খানের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হবে এবং তিনি সঠিক চিকিৎসা পাবেন। কারণ তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করিয়েছেন। অতএব তাঁর যত্ন নেওয়া উচিত।"
বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে থাকাকালীন কথিত চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে ইমরান খানের ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেই চিঠিতে সই করা অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন, অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড, নিউজিল্যান্ডের জন রাইট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিম হিউজ। এই তারকা ছাড়াও আবেদনে যোগ দিয়েছেন মাইকেল ব্রিয়ারলি, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেন এবং স্টিভ ওয়া।
প্রাক্তন অধিনায়করা চিঠিতে লিখেছেন, "আমরা, আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের সই করা প্রাক্তন অধিনায়করা, পাকিস্তানের বিশিষ্ট প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বিশ্ব ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ইমরান খানের প্রতি কথিত আচরণ ও কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।"
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক, যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, তাঁকে ২০২৩ সালে একটি দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তাঁদের আবেদনে, প্রাক্তন অধিনায়করা ইমরান খানের নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা দ্রুত চিকিৎসার ধারাবাহিক ব্যবস্থা চেয়েছেন। একই সঙ্গে মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আটকাবস্থার দাবি জানানো হয়েছে, যার মধ্যে পারিবারিক সদস্যদের নিয়মিত দেখা করার সুযোগও অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়াও, আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রবেশাধিকারও চেয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, "তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন - বিশেষ করে হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর দৃষ্টিশক্তির উদ্বেগজনক অবনতি - এবং গত আড়াই বছর ধরে তাঁর কারাবাসের পরিস্থিতি আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণ।" তাঁরা উল্লেখ করেছেন, "একজন সহ-ক্রিকেটার হিসেবে আমরা বুঝি যে সুষ্ঠু খেলা, সম্মান এবং শ্রদ্ধার মূল্যবোধ মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।"
প্রাক্তন অধিনায়করা বিশ্বাস করেন, ইমরান খানের মতো একজন ব্যক্তিত্বের প্রতি একজন প্রাক্তন জাতীয় নেতা এবং বিশ্বমানের ক্রীড়া তারকার উপযোগী মর্যাদা ও মানবিক বিবেচনা থাকা উচিত। চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরে জাতিগুলির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠেই শেষ হলেও শ্রদ্ধা টিকে থাকে। কর্তৃপক্ষকে "শালীনতা ও ন্যায়বিচার" সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে ইমরান খানের ক্রিকেট ও রাজনীতিতে অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই পাকিস্তান ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয় করে, যা দক্ষতা, সহনশীলতা ও ক্রীড়াপরায়ণতার এক দারুণ উদাহরণ স্থাপন করে। বহু ক্রিকেটার তাঁর বিরুদ্ধে খেলেছেন, তাঁর সঙ্গে মাঠ ভাগ করেছেন বা তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও ক্যারিশমার ভক্ত ছিলেন।
ইমরান খান শুধু ক্রিকেটেরই কিংবদন্তি নন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তিনি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্বিশেষে তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন। সম্পূর্ণ ক্রীড়াসুলভ মনোভাব এবং মানবতার চেতনায় এই আবেদন করা হয়েছে, কোনও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি বিদ্বেষ ছাড়াই।












Click it and Unblock the Notifications