অনুব্রতহীন বীরভূমে ভাঙন তৃণমূলে! পঞ্চায়েতের আগে দলে দলে যোগদান কংগ্রেসে
অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমে নেই। গরুপাচার-কাণ্ডে তিনি জেলে। এই অবস্থায় বাংলায় হতে চলেছে পঞ্চায়েত ভোট। সেই পঞ্চায়েত ভোটের মুখে বড়োসড়ো ভাঙন ধরল তৃণমূলে। খোদ কেষ্টর গড়ে এই ভাঙনে চিন্তিত তৃণমূল। তবে শুনলে অবাক হবেন, তৃণমূল ভেঙে কেষ্ট-গড়ে বাড়ছে কংগ্রেস। দলে দলে যোগদান হচ্ছে কংগ্রেসে।
দিন কয়েক ধরেই দফায় দফায় তৃণমূলে ভাঙন ধরছে। তৃণমূল ভেঙে বাড়ছে কংগ্রেস। আবার অনেকে সিপিএমেও যোগ দিচ্ছেন। এর ফলে বীরভূমের রাজনীতিতে পট পরিব্রতন ঘটতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড়ো অংশ। বিজেপির জায়গায় বাম-কংগ্রেসের এই বাড়বৃদ্ধিও তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুব্রতহীন বীরভূম জেলায় শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেছেন প্রায় ৫০০ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক। বীরভূমের হাঁসন বিধানসভার শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধখেলায় ভাঙনের মুখে পড়ে তৃণমূল। তৃণমূল ছেড়ে তারা কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেয়।
শনিবার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৃণমূলত্যাগীদের য়োগদান করানো হয় কংগ্রেসে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী, বীরভম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মিল্টন রশিদের উপস্থিতিতে তাঁরা কংগ্রেসে যোগদান করেন। তৃণমূলে এই ভাঙন ও কংগ্রেসে যোগদান আসন্ন পঞ্চায়েত ও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুব্রতহীন বীরভূম জেলায় বিরোধী দলগুলি এখন তৎপর হয়েছে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে। বিজেপি থেকে শুরু করে কংগ্রেস ও সিপিএমও বীরভূমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়েছে। তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের ভাঙিয়ে ভিত শক্ত করতে শুরু হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। সিপিএমও কিছু ক্ষেত্রে শক্তিশালী হয়েছে। আর বিজেপিও শুরু করেছে যোগদান কর্মসূচি। তবে কিছু ক্ষেত্রে আবার বিজেপি ছেড়েও বাম-কংগ্রেসে যোগদান করেছেন কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এটাই তৃণমূল ভেঙে কংগ্রেসের বেড়ে ওঠা।
মুর্শিদাবাদের খড়দগ্রামে কয়েক দিন আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন পঞ্চায়েত সমিতি পুর্ত কর্মাধ্যক্ষ, জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাক্ষ্যক্ষের ছেলে-সহ প্রায় ৬ হাজার কর্মী ও সমর্থক। তার কয়েকদিন পরেই হরিহরপাড়ায় পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য-সহ ৫০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেয়।

তারপর শুক্রবার মালদহের রতুয়ায় তৃণমূল নেতা প্রদীপ সাহা, রতুয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য টিপু সুলতান, বাহারাল গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ সদস্য ও দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ সদস্য-সহ কয়েকশো নেতা-কর্মী ও সমর্থক তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই রেস রাটতে না কাটতেই বীরভূমে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান হল।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয় কংগ্রেসকে অক্সিজেন দিয়েছেন। কংগ্রেস আবার হারানো জমি ফিরে পেতে চাইছে। গোটা রাজ্যজুড়েই কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা এখন উৎসাহিত। হাত শিবিরকে ফের প্রাসঙ্গিকতা ফেরানোর রাস্তায় জোর তৎপরতা শুরু করেছেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications