তৃণমূল নেতাকে খুনের জন্য দেওয়া হয়েছিল সুপারি? কার পথের কাঁটা ছিলেন তিনি?
জয়নগরে তৃণমূল নেতা শ্যুটআউট। তারপর থেকেই এলাকা কার্যত শুনশান। মানুষজনের চোখেমুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে রয়েছে। তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর খুনে শাহরুল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে ধরা হয়েছে। এদিন তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
পুলিশ ও তদন্তকারীদের অনুমান, ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই খুন করানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, রীতিমতো এলাকা আগে রেইকি করেছিল হামলাকারীরা। তৃণমূল নেতাকে গুলি করেই তারা পালিয়েছিল। পরে শাহরুল শেখ নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিন আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃত এই ব্যক্তিকে জেরা করে একাধিক তথ্য পাওয়া যাবে। এমনই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে খুনের দিন সকালে অকুস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। রীতিমতো হাড়হিম করা ছবি দেখা যাচ্ছে কয়েক মিনিটের ফুটেজে। তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর খুনের দিন কাকভোরে নমাজ পড়ার জন্য মসজিদ যাচ্ছিলেন। সেইসময় তিনি পথেই খুন হন।
শুরু থেকেই তদন্তকারীদের মনে হয়েছে এটি রাজনৈতিক কারণে খুন নয়। কোনও ব্যক্তিগত কারণ লুকিয়ে আছে এই খুনের পিছনে। সেজন্য অনেক হিসাব করে তাকে খুন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, খুনের আগে ভালো করে ওই এলাকা রেইকি করা হয়েছিল।
তিন - চারদিন ধরে বিভিন্ন সময় ঘোরাফেরা করেছিল ওই আততায়ীরা৷ তৃণমূল নেতার গতিবিধিও তারা সম্পূর্ণ নখদর্পনে নিয়ে ফেলে। সকালে নমাজ পড়তে যাওয়ার সময়ই হল মাহেন্দ্রক্ষণ। সেইসময় রাস্তাঘাটও ফাঁকা থাকে। কোনও সমস্যা হবে না। এমনটাই মনে করা হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে খুনের সুপারি হিসেবে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। দেখা গিয়েছে, তৃণমূল নেতা হেঁটে যাচ্ছেন ভোরবেলা। হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ি চলাচল। তার মধ্যেই দুটি বাইকে আততায়ীরা ছিল। গুলি করে তারা পালায়।
ওইসব এলাকার রাস্তা তাদের চেনা ছিল। সেজন্য অত দ্রুত তারা পালাতে পেরেছিল অকুস্থল ছেড়ে। ধানজমিতে বাইক চালাতেও তাদের সমস্যা হয়নি! পুলিশি জেরায় ধৃত জানিয়েছে, তার বাড়ি উস্তি এলাকায়। তাকে ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
প্রশ্ন একটাই, কার সঙ্গে এমন শত্রুতা ছিল? একেবারে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করল কে বা কারা?












Click it and Unblock the Notifications