সন্দেশখালি কাণ্ডে গ্রেফতার আরও এক বিরোধী নেত্রী! তোলা হবে বসিরহাট আদালতে
সন্দেশখালি কাণ্ডে গ্রেফতার আরও এক বিরোধী নেত্রী। শনিবার রাতে পুলিশ আইএসএফ নেত্রী আয়েশা বিবিকে গ্রেফতার করেছে মিনাখাঁ থেকে। আয়েশা বিবি মিনাখাঁর বাসিন্দা। পুলিশ তাঁকে রবিবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে চাইবে বলে জানা গিয়েছে।
গত জানুয়ারির পাঁচ তারিখ তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডির আধিকারিকরা। তারপর কিছুদিন এলাকা আপাত শান্ত থাকলেও, এই মাসের শুরু থেকে উত্তপ্ত হতে শুরু করে সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহানের কাছে বলে পরিচিত উত্তর সর্দার ও শিশু হাজরাদের বাড়ি ও পোলট্রিতে আক্রমণ করে আগুন ধরিয়ে দেয় গ্রামবাসী বিশেষ করে মহিলারা।

তারপরেই গ্রেফতার করা হয় এলাকার প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দার এবং বিজেপি নেতা বিকাশ সিনহাকে। অন্যদিকে পুলিশ প্রথমে তৃণমূলের উত্তর সর্দারকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতার করে শিবু হাজরাকে। তবে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ার ঘটনার দিন থেকে পঞ্চাশের বেশি দিন পার হয়ে গেলেও এখনও বেপাত্তা ওই নেতা। পাশাপাশি তার ভাই সিরাজুদ্দিনেরও কোনও হদিশ নেই।
সেই পরিস্থিতিতে শনিবারও উত্তপ্ত ছিল সন্দেশখালির একটি অংশ। ডিওয়াইএফ রাজ্য সভাপতি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে সন্দেশখালিতে ঢোকার সময় পুলিশ প্রথমে চিনতে না পারলেও, পরে তাঁর চলাচলে বাধা দেয় পুলিশ। অন্যদিকে স্থানীয় মহিলারা রাস্তা নেমে ঝাঁটা হাতে তেড়ে যান পুলিশের দিকে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা চান না, তাঁরা সম্মান চান বলেও জানান। সেই পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে আইএসএফ নেত্রী আয়েশা বিবিকে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে সন্দেশখালিতে গণ্ডগোল পাকানোর অভিযোগে বহু মামলা করেছে পুলিশ। ঠিক কোনও মামলায় আয়েশা বিবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা জানা না গেলেও, সন্দেশখালিতে গণ্ডগোল পাকানোর অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। দলের নেত্রী আয়েশা বিবিকে গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আইএসএফ।
এদিকে, সন্দেশখালিতে বসিরহাট পুলিশ জেলার তরফে অভিযোগ গ্রহণের যে ক্যাম্প করা হয়েছে, সেখানে শেষ শাহাজাহান ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এদিন সন্দেশখালির উদ্দেশে যাওয়া কেন্দ্রীয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের সদস্যদের বাধা দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে ভোজেরহাটে বাধা পাওয়ার পরে টিমের সদস্যরা প্রশ্ন করেন পুলিশ কী লুকোতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications