বড় বানের কারণে নদী-সমুদ্রের জল বাড়ার আশঙ্কা! প্লাবনের আশঙ্কায় সুন্দরবন এলাকাতে চলছে প্রচার
বড় বানের কারণে নদী-সমুদ্রের জল বাড়ার আশঙ্কা! প্লাবনের আশঙ্কায় সুন্দরবন এলাকাতে চলছে প্রচার
এখনও ইয়াসের ধাক্কা ভোলেনি সুন্দরবনের মানুষ! সরাসরি আঘাত না আসলেও সাইক্লোনের ধাক্কায় ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবন, ক্যানিং সহ বিস্তীর্ণ এলাকাগুলিতে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একের পর এক এলাকা। বাঁধ ভেঙ্গে জল ঢুকতে শুরু করেছে। এখনও বহু জায়গা নোনা জলের তোলাতে। খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন এলাকার মানুষজন। আর এই অবস্থার মধ্যে ফের আতঙ্ক। বড় বানের আশঙ্কা। নদী থেকে সাগরে জলের উচ্চতা অনেকটাই বেড়ে যাবে। ফলে সুন্দরবনের বহু নিচু এলাকা ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।

বড় বানে নিচু এলাকা প্লাবনের আশঙ্কা
আর এই আশঙ্কা থেকে ইতিমধ্যে সতর্ক জেলা প্রশাসন। পূর্ণিমা পড়ে গিয়েছে। আর এই সময়ে ভরা কোটালে সমুদ্র এবং নদীর জলের স্তর অনেকটা বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা। ফলে বহু নিচু এলাকা ফের জলের তোলাতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। ইতিমধ্যে ইয়াসের কারণে বহু বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। সবগুলি এখনও সারানোও হয়নি। ফলে এই অবস্থায় জল চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা জেলা প্রশাসনের। আর সে দিকে তাকিয়ে সুন্দরবন এলাকার উপকূল অঞ্চলে মাইকে সতর্কতামূলক প্রচার চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। মানুষকে সাবধানে থাকার কথা জানানো হচ্ছে।

মমতার নির্দেশে সুন্দরবনে মন্ত্রী
অন্যদিকে আজ শুক্রবার সুন্দরবনের বহু এলাকা ঘুরে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই মুহূর্তে এলাকাতে রয়েছেণ তিনি। বিপর্যয় রুখতে প্রশাসনের তরফে আগাম সতর্কতা নিচ্ছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে এদিন ছিলেন সেচ দফতরের আধিকারিকরা। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা বিশেষত উপকূল এলাকাগুলিতে সাইক্লোনের কারণে বহু বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধগুলির মেরামতি করা হলেও কি অবস্থা তা সরজমিনে খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। এছাড়াও জল বাড়লে কি অবস্থা হতে পারে টাও এদিন খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী।

বান নিয়ে আতঙ্কিত মমতা!
গত কয়েকদিন ধরে এই বান নিয়ে আতঙ্কিত খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি ফের একবার এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শনিবার বান আসছে। বড় বান আসছে। সাগরে ৬ মিমি-র মতো উচ্চতা থাকবে। সেই সময় সাগরে জলের উচ্চতা বেশি থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলছে। যেখানেই বেশ বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানকার জেলাশাসকদের সতর্ক করা হচ্ছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজ্য সরকার যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বন্যার আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রী
ওই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির কারণে দামোদরে জল ছাড়ার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর সঙ্গে বৃষ্টি হলে আরামবাগ, খানাকুল, আমতা, বাগনান, বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়ায় ক্ষতি হতে পারে। বাঁধের জল ছাড়ার ক্ষেত্রে সব দিক পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারও হাতে নেই। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর প্রস্তুত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications