মুকুলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসে! জবাব পুরভোটের ব্যস্ততার মাঝেই
মুকুলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসে! জবাব পুরভোটের ব্যস্ততার মাঝেই
বিজেপিতে সাড়ে তিন বছর কাটিয়ে অবশেষে তৃণমূলে ফিরেছেন প্রাক্তন সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দিয়েই তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত। এরই মাঝে চড়ল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার পারদ। তিনি স্বয়ং তার জবাব দিলেন স্বকীয় ভঙ্গিতে।

মমতার ডাকে এক মঞ্চে মুকুল, তারপরই জল্পনা
মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘদিন পত্নীবিয়োগ ও শারীরিক সমস্যার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছেন। মাঝে তাঁর বেফাঁস মন্তব্যে অস্বস্তি বেড়েছিল তৃণমূল। এখন তিনি শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে কৃষ্ণনগরে এক মঞ্চে উপস্থিতও ছিলেন। ঠিক তারপরই উঠেছে প্রশ্নটা।

মুকুল রায়ের বিধানসভার ভবিষ্যৎ অধ্যক্ষের হাতে
মুকুল রায় তো সুস্থ হয়ে উঠছেন, এবার তাঁর বিধায়ক পদের ভবিষ্যৎ এবং পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদের ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট বিধায়ক পদ খারিজ মামলায় যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধানসভার অধ্যক্ষকে নিতে বলেছেন। সেইমতো বিধানসভার অধ্যক্ষ বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মর্মে ধার্য হয়েছে শুনানির দিন।

ভোটের কাজে ব্যস্ত মুকুল সময় চাইলেন ফের
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৪ ডিসেম্বের অর্থাৎ আর দু-সপ্তাহ পরেই মুকুল রায়ের মামলা উঠবে বিধানসভার অধ্যক্ষের 'এজলাসে'। সেইমতো মুকুল রায়কে চিঠি পাঠানোর হয়। চিঠির পত্রপাঠ জবাব দিয়েছেন মুকুল রায়। মুকুল রায় চিঠিতে জানান, তাঁকে যেন কিছুটা সময় দেওয়া হয়। কারণ তিনি বর্তমানে ভোটের কাজে ব্যস্ত।

বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল যোগে অনিশ্চিত মুকুল
মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর এক মাস কাটতে না কাটতেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তারপর পিএসি চেয়ারম্যানও হন। তাতেই বিতর্ক দানা বাঁধে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়া শুভেন্দু অধিকারী মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের মামলা করেন। হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও হয়।

মুকুল রায়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্য-রাজনীতিতে এই ইস্যুতে সরগরম হয়ে উঠেছে। এখন দেখারা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নেন মুকুল রায়কে নিয়ে। মুকুল রায়ের ভবিষ্যৎই বা কোন দিকে যায়। মুকুল রায় বিধায়ক থাকতে পারেন কি না, কিংবা তিনি পিএসি র চেয়ারম্যান থাকেত পারেন কি না, তা এখন প্রেস্টিজ ফাইট হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গে অবশ্য মুকুল রায়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব কতটা থাকে সে প্রশ্নও জড়িত।

বিধায়ক মুকুল রায়ের পিএসি চেয়ারম্যান পদ নিয়ে জল্পনা
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট জানায়, বিধায়ক মুকুল রায়কে পিএসি চেয়ারম্যান রাখা হবে কি না সে সিদ্ধান্ত নেবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। ৭ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভার অধ্যক্ষকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায় কলকাতা হাইকোর্ট। ঠিক তার দুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বিধানসভার অধ্যক্ষ। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হয়। সেই শুনানিতেও বিধানসভার অধ্যক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয় সপ্তাহে ফের শুনানি। তার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিধানসভার অক্ষ্যকে।

সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন মুকুল, এবার কী দায়িত্ব
আর বিধানসভার অধ্যক্ষের চিঠি পেয়ে মুকুল রায় যে জবাব দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট, তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চলেছেন। আসন্ন পুরভোটে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সময় চেয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে। এখন দেখার তিনি কতটা ব্যস্ত থাকেন পুরভোটে। আসন্ন পুরভোটে তাঁকে কী দায়িত্ব সামলাতে হয়!

সামনে পুরভোট, ব্যস্ততাও বাড়বে মুকুল রায়ের
সম্প্রতি তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গেল নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ফোন করে তাঁকে উপস্থিত থাকতে বলেন। তারপর মমতার সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করেন তিনি। সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, তিনি এখন অনেক ভালো আছেন। এবার তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। সামনে পুরভোট। তাই ব্যস্ততাও বাড়বে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তর-পূর্ব ভারত সফরে তিনি সঙ্গী হতে পারেন। কেননা মুকুল রায়ের দখল রয়েছে উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরায়। ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে তৃণমূল বাড়তে শুরু করেছে সম্প্রতি।












Click it and Unblock the Notifications