'পদ্মাবত'একাই মাত করলেন 'খিলজি' রণবীর! কেমন হল ফিল্ম জেনে নিন
দীপিকা পাড়ুকোন, শাহিদ কাপুর , রণবীর সিং অভিনীত এই ছবি থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে ২৫ জানুয়ারি। তার আগে জেনেনিন, শত বিতর্কের পর তারকাখচিত এই ছবি আশা-আকাঙ্খার মানদণ্ডে কতটা উত্তীর্ণ হল।
বিতর্ক , ভাঙচুর, মৃত্যু, আইন-আদালত; সব পেরিয়ে দর্শকের দরবারে হাজির সঞ্জয় লীলা বনশালীর 'পদ্মাবত'। এক প্রাচীন সাহিত্যের ওপর নির্ভর করে , রাজস্থানের রাজপুত ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে এই ছবি। মালি মুহম্মদ জয়সির লেখা 'পদ্মাবত' কবিতা অবলম্বনে এই ছবি। দীপিকা পাড়ুকোন, শাহিদ কাপুর , রণবীর সিং অভিনীত এই ছবি থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে ২৫ জানুয়ারি। তার আগে জেনেনিন, শত বিতর্কের পর তারকাখচিত এই ছবি আশা-আকাঙ্খার মানদণ্ডে কতটা উত্তীর্ণ হল।

প্রেক্ষাপট ঘিরে কয়েকটি তথ্য
১৫৪০ সালে সুফি কবি জয়সির লেখা 'পদ্মাবত'-এ নিজের মতো করে বেশ কিছু উপাদান যোগ করেছেন পরিচালক বনশালী। 'দেবদাস' ছবিতে যেভাবে 'বনশালী-য়ানা' যোগ করেছিলেন সেভাবেই 'পদ্মাবত'-এও একই ফর্মুলা প্রয়োগ করেছেন তিনি। তবে যে ক্যানভাসে এই রাজপুত গাথার ছবি এঁকেছেন তিনি , তা তাক লাগানোর মতো! রাজপুত শৌর্যের ঔজ্জ্বল্য, খিলজির অন্ধ দম্ভ, আর পদ্মিনীর রূপ-যৌবনের চাকচিক্য সমস্ত রক্ষ মিলিয়ে এক অনবদ্য জাঁকজমকের প্রেক্ষাপট দর্শককে উপবার দিয়েছেন পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালী।

কাহিনি বিন্যাস
এই ছবি একই সঙ্গে দুটি দিককে তুলে ধরছে ক্রামন্বয়ে। একটি দিক, পদ্মিনী-রতন সিং এর প্রেম, অন্যদিকে, খিলজি আর তার ক্রূঢ় দম্ভ। ছবিতে দেখানো হয়েছে,শিকারে বেরিয়ে ভুল বশত রাজা রতন সিং(শাহিদ) কে আঘাত করে ফেলেন পদ্মিনী(দীপিকা)। তারপর থেকেই এক অপরের প্রেমে ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। সুদুর বেলাভূমিতে যখন এরককম প্রেম প্রস্ফুটিত হচ্ছে, তখন রাজধানী দিল্লিতে চড়ছে আলাউদ্দিন খিলজির স্পর্ধা। তুতো বোন মেহেরুন্নিসা (আদিতি রাও হয়দরি)কে বিয়ে করে কাকা জালালউদ্দিনকে হত্যার পর দিল্লির তখতে খিলজি অধিষ্ঠিত হন। এরই মধ্যে , দিল্লির সম্রাট খিলজির কাছে হাজির হয়ে এক পণ্ডিত। যিনি পদ্মিনীর রূপের গুণগান খিলজির কাছে করেন। এরপরই পদ্মিনীকে কেড়ে নিতে আক্রমণের ছক কষেন এই তুর্কী আফগান সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজি। কিন্তু কেন সেই পণ্ডিত খালিজির কাছে গেলেন, বা খিলজি শেষ পর্যন্ত কী করতে পারলেন পদ্মিনীকে নিয়ে, তা দেখতে হলে পৌঁছে য়েতে হবে থিয়েটারে।

অভিনয়
পদ্মাবত-এর পদ্মিনী দীপিকা পাড়ুকোন হতে পারেন, তবে এ ছবির যাবতীয় লাইমলাইট একা কেড়েছেন রণবীর সিং। কিছুটা পরিচালনার দৌলতে, কিছুটা ছবিতে তাঁর চরিত্রে লিপ্ত সুযোগের দৌলতে আর বাকিটা তাঁর অসম্ভব বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয় ক্ষমতার দৌলতে এছবিতে একাই একশো রণবীর সিং। পদ্মীনির চরিত্রে দীপিকা পাড়ুকোনকে সুন্দরী লাগলেও তাঁর ঔজ্জ্বল্য সেভাবে প্রভাব ফেলেনি ছবিতে। তাঁর সংলাপ দিয়ে ছবিতে কিছুটা অভিনয় দক্ষতার চেষ্টা করলেও, দীপিকা কয়েকটি ক্ষেত্রে হতাশ করেছেন তাঁর দর্শককূলকে। অন্যদিকে, নিজের অভিনয় সীমারেখার মধ্যে থেকে দাপটে অভিনয় করেছেন শাহিদ।

পরিচালনা
সাহিত্যকে ৭০ এম এম ধরে রাখার কাজ নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে এবিষয়ে পটুহস্ত সঞ্জয়লীলা বনশালী। এছবিতেও সেই ঘরানাই বজায় রেখেছেন পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালী। তবে , ছবি বেশ খানিকটা জায়গায় ধীর গতিতেত অগ্রসর হয়েছে। যা দর্শকের ধৈর্যকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছে! ছবির প্রথমার্ধের এই ধীর গতি যদিও পরের অর্ধে আর পাওয়া যায়নি।

প্রযুক্তিগত দিক
সুদীপ চট্টোপাধ্য়ায়ের ক্ষুরধার ক্যামেরার কাজ এই ছবির বড় সম্বল। এছাড়াও ছবির সম্পাদনার কাজ যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক।

গান
ঘুমর গানটি মুক্তির পর থেকেই জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। তবে 'এক দিল হ্যায়' গানটিও ইন্টারনেটে বেশ পিরিচিত পয়েছে। এছাডা় গোটা ছবিতে যেভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সম্পাদনা করা হয়েছে , তা তাক লাগানোর মতো।

সবশেষে
ছবির গতি খানিকটা একঘেয়েমি তৈরি করলেও। এই ছবিতে রণবীর সিং এক অন্যভাবে আবিষ্কার করাটাই দর্শকের কাছে বড় পাওনা। সবমিলিয়ে এই উইকেন্ডের বক্সঅফিসে দাপট দেখানোর ক্ষমতা রাখে 'পদ্মাবত'।












Click it and Unblock the Notifications