সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় প্রয়াত জুবিন গর্গ, সংগীতের জগতে নক্ষত্রপতন
সংগীত জগতে নক্ষত্রপতন। জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ প্রয়াত। অসমের এই সংগীতশিল্পী বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তাঁর বহু হিট গানের মাধ্যমে।
সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়ল জুবিনের। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

অসম থেকে উঠে আসা জুবিন অল্প সময়ের মধ্যেই যুবসমাজের কাছে সংস্কৃতি জগতের আইকন হয়ে উঠেছিলেন। জানা যাচ্ছে, স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় পড়ার পর জুবিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল সিঙ্গাপুর পুলিশ। ইনটেনসিভ মেডিক্যাল কেয়ারে রাখা হলেও চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জুবিন।
নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন জুবিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সংক্রান্ত বার্তাও দিয়েছিলেন। আজকেই তাঁর মঞ্চে পারফর্ম করার কথা ছিল। তাঁর আচমকা মৃত্যু অনুরাগীদের কাছে বড় ধাক্কা। অসম তথা ভারতীয় সংগীত জগতেও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
জুবিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন অসমের স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও সেচমন্ত্রী অশোক সিঙ্ঘল। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণে গভীর শোকাহত। অসম শুধু তাঁর কণ্ঠস্বরকে হারাল না, অসমের হৃদস্পন্দনও থেমে গেল। জুবিন গর্গ শুধু একজন সংগীতশিল্পীই ছিলেন না, তিনি অসম ও ভারতের গর্ব। অসমের সংস্কৃতি, আবেগ, স্পিরিট তাঁর গানের মাধ্যমে পৌঁছে যেত বিশ্বের নানা প্রান্তে। অসম তার এক সন্তানকে হারাল, হারাল এক অসাধারণ কালচারাল আইকনকে।
অসমিয়া গানের পাশাপাশি বাংলা ও হিন্দিতে প্রচুর গান গেয়েছেন জুবিন গর্গ। তবে অন্তত ৪০টি ভাষা ও উপভাষায় তাঁর গান রয়েছে। মেঘালয়ের তুরায় অসমিয়া ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম জুবিনের। বাবা মোহিনী মোহন বড়ঠাকুর ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি ছিলেন গীতিকার এবং কবিও। মা ইলি বড়ঠাকুর ছিলেন সংগীতশিল্পী। সুরকার জুবিন মেহতার নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন তাঁরা। জুবিন গর্গের ছোট বোন জংকি বড়ঠাকুর অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী ছিলেন, ২০০২ সালে স্টেজ শো করতে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় গাড়ি দুর্ঘটনায়।
জুবিন গর্গ ২০০২ সালে অসমের গোলাঘাটের ফ্যাশন ডিজাইনার গরিমা সাইকিয়াকে বিয়ে করেন। গর্গ নিজেকে ধর্মীয় পরিচয় দিতে চাইতেন না। তিনি বলতেন, আমার কোনও জাত বা ধর্ম নেই। তিনি পৈতে পরতেন না। এমনকী ব্রাহ্মণদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছিল, পরে ক্ষমাও চান। গত বছর কৃষ্ণ দেবতা নন বলে জুবিন মন্তব্য করায় তাঁকে বয়কটের মুখেও পড়তে হয়েছিল মাজুলি জেলায়।
মায়ের কাছেই গান শেখা শুরু জুবিনের। পণ্ডিত রবিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ১১ বছর বয়সে তবলাও শিখতে শুরু করেন। গুরু রমণী রায়ের কাছে অসমের লোকসংগীত শেখেন। ছাত্রজীবন থেকেই গান কম্পোজ করতেন জুবিন। ১৯৯২ সালে ওয়েস্টার্ন সোলো পারফরম্যান্সের জন্য যুব উৎসবে সোনা পান জুবিন। অসমিয়া ভাষায় তাঁর প্রথম অ্যালবাম অনামিকা।
১৯৯৫ সালের মাঝামাঝি জুবিন মুম্বই চলে যান। বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে গান গেয়েছেন, সোলো অ্যালবামও রয়েছে। ২০০৩ সালে বাংলায় মন ছবিতে দুটি গান গেয়েছিলেন জুবিন। শুধু তুমি, প্রেমী ছবিতেও জুবিনের গান হিট হয়েছিল। তবে তাঁর খ্যাতি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় গ্যাংস্টার ছবির ইয়া আলি গানটি। বাংলায় মন না মানে না, চিরদিনই তুমি যে আমার, লাভ স্টোরি ছবিতেও তিনি গান গেয়েছেন। পিয়া রে পিয়া রে গানটিও জুবিনেরই গাওয়া।
জুবিন কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। টেলিভিশনে অনুরাধা সিরিয়ালেও অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অসমিয়া ছবি পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজক, চিত্রনাট্য তৈরির কাজও করেছেন। জি টিভি ও জি বাংলা সারেগামাপাতে অতিথি বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রেঙ্গনি চ্যানেলেও তিনি একটি অনুষ্ঠানে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন। যুক্ত ছিলেন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও।












Click it and Unblock the Notifications