'কাগজ আমরা দেখাব না', সিএএ-এনআরসি বিরোধিতায় ভিডিও বাংলার শিল্পীদের
'কাগজ আমরা দেখাব না', সিএএ-এনআরসি বিরোধিতায় ভিডিও বাংলার শিল্পীদের
কাগজ আমরা দেখাবো না। এভাবেই সিএএ ও এনআরসি-র প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন বাংলার শিল্পীরা। একঝাঁক নবীন ও প্রবীণ তারকা সিএএ-এনআরসির বিরোধিতা করে একটা ভিডিও পোস্ট করলেন। সেখানে ১২ জন তারকার 'কাগজ আমরা দেখাব না' ভিডিওটি ইতিমধ্যে সোশ্যাল সাইটে সাড়া ফেলেছে। দেখা গিয়েছে পোস্টের কয়েকঘন্টার মধ্যেই লাইক ও শেয়ারের বন্যায় ভেসেছে এই ভিডিওটি।
|
দেড় মিনিটের ভিডিও
ভিডিওটি প্রায় দেড় মিনিটের। সেটিতে রয়েছেন টলিউডের সব্যসাচী চক্রবর্তী, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সুমন মুখোপাধ্যায়, চিত্রাঙ্গদা চক্রবর্তী-সহ গায়ক-সুরকার রূপম ইসলামকে দেখা গিয়েছে। বলিউড থেকে আছেন কঙ্কনা সেন শর্মা, তিলোত্তমা সোম, নন্দনা দেব সেন।

দীর্ঘ বিরোধিতা
সংসদে সিএএ পাশ হওয়ার পরেই এই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে জমা পড়েছিল ৬০টি পৃথক আবেদন। দেশজুড়ে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন। পাশাাপশি অনেকগুলি অ-বিজেপি শাসিত রাজ্য ইতিমধ্যে জানিয়েও দিয়েছে তারা এই আইনের পাশাপাশি এনআরসিও প্রণোয়ন করবে না। এদিকে রাজনীতির উত্তাপ ছড়িয়েছে রাস্তায় ও দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই অবস্থায় বাংলার শিল্পীরাও এবারে এই আইনের বিরোধিতায় গর্জে উঠলেন।

কঙ্কনা সেন শর্মা
কঙ্কনা সেন শর্মা বলেছেন, মানুষে মানুষে বিভেদ করে, আমরা বাঁচতে পারব না। তাই কাগজ আমরা দেখাব না। সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেছেন, শাসক আসবে, শাসক যাবে। কিন্তু কাগজ আমরা দেখাব না। এই ভিডিওতে নাট্যকার সুমন মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ১৫০ কোটি ভারতবাসী মৌলিক চাহিদার মুখাপেক্ষী। তাঁরা জাত-ধর্মে আগ্রহী না। তাই কাগজ আমরা দেখাব না।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বলেন, 'বুকে ভালোবাসা আর বিদ্রোহ নিয়ে ভয়ের সামনে মাথা নোয়াবো না। তাই কাগজ আমরা দেখাবো না। ভিডিও শেষ হয়েছে একাধিক কণ্ঠের কোরাস ও ভাষার জিঙলে। যেখানে লেখা, 'নো সিএএ, নো এনআরসি, রেসিস্ট নাও।' এই ভিডিও প্রসঙ্গে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, গত একমাস ধরে আমরা এই ভিডিওর বিষয়ে আলোচনা করেছি। অবশেষে সোমবার সকালে এটা প্রকাশ্যে আনা হল। দেখে ভাল লাগছে অনেক নতুন মুখ, এভাবে এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছে।

কী এই নতুন আইন?
নতুন এই আইনের শর্ত, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ বা তার আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে যে সমস্ত অমুসলিম শরণার্থীরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, পারসি বা জৈন ধর্মের যেই লোকেরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকে ভারতে বসবাস করেছেন, তারা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। বিলটি গত সপ্তাহের সোমবার ৩১১-৮০ ব্যবধানে পাশ হয়। বুধবার রাজ্যসভায় এটি পাশ হয় ১২৫-৮২ ব্যবধানে। তবে এই আইন বিভেদমূলক অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications