প্রশাসনের বিরোধিতা, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীকে গ্রেফতারের পর নির্মম অত্যাচার ইরান পুলিশের
প্রশাসনের বিরোধিতা, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীকে গ্রেফতারের পর নির্মম অত্যাচার ইরান পুলিশের
ইরানে হিজাব বিরোধী সাধারণ মানুষের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তার মধ্যেই ইরানের সরকার বিরোধী মন্তব্য ও বিক্ষোভকে সমর্থন করার জন্য একজন জনপ্রিয় গায়ক এবং কর্মী তোমাজ সালেহিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গায়কের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের পুলিশ স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সঙ্গীত শিল্পীর ওপর অকথ্য অত্যাচার করছে। সঙ্গীতশিল্পীর পরিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি
ইরান প্রশাসনের তরফে সঙ্গীতশিল্পী তোমাজ সাহিলকে অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের পশ্চিম সীমান্ত অবৈধভাবে অতিক্রম করার সময় তোমাজ সাহিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মিথ্যা কথা বলছে। যখন তোমাজ সাহিলকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তিনি দেশের দক্ষিণ পশ্চিমে চাহারমাহাল প্রদেশের বখতিয়ারিতে ছিলেন।

ইরানি সঙ্গীতশিল্পীর পরিবারের আবেদন
ইরানি সঙ্গীতশিল্পীর কাকু এঘবাল এগবালি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, তোমাজকে গ্রেফতারের পর ইরানের পুলিশ তাঁর ওপর নির্মম অত্যাচার করছে। তোমাজের জীবন বাঁচানোর জন্য ইরানের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলকে আহ্বান করেছেন। ইরান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে তোমাজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। তোমাজের পাশাপাশি ইরানের প্রাক্তন কূটনীতিক মোহাম্মদ মুসাভিয়ানওকে শাহিনশাহর শহরে হিজাব বিরোধী বিক্ষোভকে উৎসাহিত করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

সঙ্গীতশিল্পীর স্বীকারোক্তি
ইরানের সঙ্গীতশিল্পী তোমেজকে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান প্রশাসনের তরফে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, তোমাজের চোখ বাঁধা। তোমাজ হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। ভিডিওটিতে তোমাজ কাঁপা কাঁপা গলায় বলছেন তিনি ভুল করেছেন। তোমাজ বলছেন, 'আমি তোমাজ সালেহি। আমি যা বলেছিলাম তা ভুল করে বলেছিলাম। এই ধরনের কথা আমি বলতে চাইনি।' তোমাজের পরিবারের পাশাপাশি দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, জোর করে, অত্যাচার করে তোমাজের স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

ইরানের বিক্ষোভে গ্রেফতার বিশিষ্টজনেরা
পুলিশি হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুর মৃত্যু ঘিরে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। কঠোর হাতে ইরানের প্রশাসন এই বিক্ষোভকে দমন করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে ইরান পুলিশের গুলিতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের সাংবাদিক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক জগতের বহু ব্যক্তিত্বকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারপরেও এই বিক্ষোভ দমানো যায়নি। ইরান প্রশাসনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, এই বিক্ষোভকে পশ্চিমি দেশগুলো ইন্ধন দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications