Buddhadeb Bhattacharjee: 'ও আলোর পথযাত্রী....' , কমরেড লাল সেলাম, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন শ্রীলেখা
শুধু যে মুখ্যমন্ত্রী বামপন্থী নেতা ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তা নয়। বাংলার শিল্প মহলে তাঁর পরিচিতি ছিল অন্য। তিনি ছিলেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাইপো। নিজে লেখালেখি করতেন। বাংলার সাহিত্য এবং সংস্কৃতি জগতেও তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীনও বারবার ছুটে যেতেন নন্দন-রবীন্দ্র সদন চত্ত্বরে। বাংলার শিল্প মহলের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ ছিল। নাটক দেখতে ভালবাসতেন। নিজে লিখতেন কবিতা, রচনা। বাংলার শিল্প মহলেও সেসময় বাম প্রভাব ছিল প্রকট। মৃণাল সেন থেকে সত্যজিৎ রায় সকলের মধ্যে বাম মানসিকতা দেখা যেত।

শ্রীলেখা মিত্র, সব্যসাচী চক্রবর্তী, ঊষসী সহ একাধিক শিল্পী এবং কলাকুশলীরা বামপন্থী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত। বুদ্ধবাবুর প্রয়াণের খবর পেয়ে উষসী আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন সেখানে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে মামা বলে ডাকেন তিনি। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসছে বললেন অভিনেত্রী। মা ছিলেন না বলে সব অনেক আগলে রাখতেন। ভালোও বাসতেন আবার ভুল করলে বকাবকিও করতেন। অভিভাবকের মতো ছিলেন বলেছেন ঊষসী।
টলিপাড়ার আরেক তারকা শ্রীলেখাও বামপন্থী মানসিকতার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেই বুদ্ধবাবুকে শেষ শ্রদ্ধা জনিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে শ্রীলেখা লিখেছেন, ও আলোর পথ যাত্রী.....এযে রাত্রি.... এখানে থেমো না। কমরেড লাল সেলাম। আপনি চলে গিয়ে বেঁচে গেছেন।' শ্রীলেখার এই বার্তার পিছনে যে গভীর একটা কষ্ট লুকিয়ে রয়েছে সেটা স্পষ্ট।
বুদ্ধ বাবুর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে এক সৎ অনাড়ম্বর রাজনৈতিক ব্যক্তিকত্বের অবসান হল। মুখ্যমন্ত্রী হলেও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন তিনি। কোনওদিন বিরোধীদের বিরুদ্ধে কোনও কুশব্দ ব্যবহার করেননি তিনি। এমনকী কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার সুযোগ নেননি তিনি। থাকতেন দক্ষিণ কলকাতার পাম অ্যাভিনিউ-র একতলায় ছোট্ট একটি দু কামরার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। স্ত্রী-কন্যাকে নিয়েই এই ফ্ল্যাটেই জীবনের শেষ দিনটাও কাটিয়ে দিয়েছেন বুদ্ধবাবু। ১১ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার পর কোনও ব্যক্তিগত সুবিধা তিনি নেননি। তাঁর উপরে কোনও দুর্নীতির কালি কেউ ছেটাতে পারেননি। এতোটাই সৎ এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ছিল তাঁর।












Click it and Unblock the Notifications