বাংলাদেশে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভের মাঝে কাজল আগরওয়ালের ‘জাগো হিন্দুরা' বার্তা
বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হলেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি একটি বার্তা শেয়ার করে হিন্দু সমাজকে নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানান।
কাজল আগরওয়াল যে পোস্টারটি শেয়ার করেছেন, তাতে আগুনে দগ্ধ এক ব্যক্তির দেহের ছবি দেখা যায় যা কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সংঘটিত দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিওর প্রতি ইঙ্গিত করে বলে দাবি।

পোস্টারে লেখা ছিল, 'অল আইস অন বাংলাদেশ হিন্দুস' ও তার নিচে স্পষ্ট বার্তা জাগো হিন্দুরা! নীরবতা তোমাদের বাঁচাবে না।
এই ঘটনায় কাজল আগরওয়াল একাই নন, একাধিক ভারতীয় তারকাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর এই হত্যাকে 'বর্বর' আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় নিন্দা জানান। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রকাশ্য ও অমানবিক গণপিটুনি।
তিনি বলেন, "এই অমানবিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানুন, ভিডিও দেখুন, প্রশ্ন তুলুন। এত কিছুর পরও যদি কারও মনে ক্ষোভ না জাগে, তবে সেই ভণ্ডামিই আমাদের অজান্তেই ধ্বংস ডেকে আনবে।"
জাহ্নবী আরও যোগ করেন, "আমরা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের ঘটনায় অর্ধেক কাঁদি, অথচ আমাদের নিজেদের ভাইবোনদের প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। যে কোনও ধরনের উগ্রবাদকে সময় থাকতেই চিহ্নিত করে নিন্দা করা জরুরি নইলে আমরা আমাদের মানবিকতাই হারিয়ে ফেলব।"
জানা গিয়েছে, বিশের কোঠায় থাকা দীপু চন্দ্র দাস পেশায় ছিলেন বাংলাদেশের একটি গার্মেন্টস কারখানার কর্মী।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একটি উন্মত্ত জনতা তাঁকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বজরং দলসহ একাধিক হিন্দু সংগঠন দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সে দেশে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তারই পটভূমিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হাদি ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক দিন পর মারা যান।
এই সব ঘটনার জেরে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। দু'দেশই পরস্পরের দূতকে তলব করেছে। পাশাপাশি, ভারতে নিজেদের মিশনের সামনে বিক্ষোভের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ তিনটি ভারতীয় শহরে ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসও দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে বলেছেন, হিংসার কোনও স্থান নেই। তবু প্রতিবেশী দেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ভারতে ক্রমশ বাড়ছে।












Click it and Unblock the Notifications