টানা দুদিন শেয়ার বাজারে ধস, সেনসেক্স ৪৬১ কমে বন্ধ হল ৬১৩৮৮-তে, পতন নিফটিতেও
টানা দুদিন শেয়ার বাজারে ধস, সেনসেক্স ৪৬১ কমে বন্ধ হল ৬১৩৮৮-তে, পতন নিফটিতেও
সপ্তাহভর শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর শেষ দুদিন ধস নামল। সোমবার খেকেই মার্কেট চড়তে শুরু করেছিল। তারপর মঙ্গলবার সিপিআই রিপোর্ট অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান সামনে আসার পর শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। কিন্ত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফের ধস নামে বাজারে।

সেনসেক্স ও নিফটি
শুক্রবার সেনসেক্স ৪৬১ পয়েন্ট কমেছে। তা বন্ধ হয়েছে ৬১৩৮৮-তে। একইসঙ্গে পতন হয়েছে নিফটিতেও। শেয়ার মার্কেট বন্ধের সময় নিফটি ছিল ১৮২৭০। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত পড়েছে। যেভাবে এই সপ্তাহে চড়তে শুরু করেছিল শেয়ার, তার শেষ যে এভাবে হবে ভাবেননি বিনিয়াগকারীরা।

বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েও পতন
সম্প্রতি খুচরো মূল্যস্ফীতি ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্থানে নেমে এসেছে। আর পাইকারি মূল্যস্ফীতি ২১ মসের মধ্যে সর্বনিম্ম হয়েছে। এই দুয়ে মিলে শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করে শেয়ার বাজারেও। মঙ্গলবার ও বুধবার শেয়ার বাজারে খুশির আমেজ ধরা পড়ে। একলাফে অনেক পয়েন্ট বাড়ে সেনসেক্স ও নিফটিও।

মঙ্গলে উষা, বুধে পা
আবার তার বিপরীতমুখী অবস্থান দেখা যায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। যা বেড়েছিল, তার থেকে বেশি কমে যায় শেয়ার মার্কেটের সূচক। ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিএসই সেনসেক্স সূচক মঙ্গলবার ৪০২.৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬২,৫৩৩.৩০-এ বন্ধ হয়। তার পরদিনও বৃদ্ধির হার জারি থাকে একইরকম।

লক্ষ্মীলাভ হল না লক্ষ্মীবারে
বুধবার প্রায় ৬৩ হাজারের কাছে চলে যায় সেনসেক্স। বৃহত্তর এনএসই নিফটি সূচকও ১১০.৮৫ পয়েন্ট বেড়ে বা ১৮,৬০৮-এ শেষ হয় মঙ্গলবার। তা আরও বাড়ে বুধবার। বৃহস্পতি ও শুক্রবার তা কমে যায় অনেকটাই। সেনসেক্স প্রায় দেড় হাজার পয়েন্ট পড়েছে। আর নিফটিও পড়েছে প্রায় ৫০০ পয়েন্ট।

মূল্যস্ফীতি সর্বনিম্ন হলেও...
সোমবার প্রকাশিত ডেটায় খুচরো মুল্যাস্ফীতি নিয়ে যে তথ্য সামনে আসে তাতে শেয়ার মার্কেট দারুণ চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। আর পরদিন পাইকারি মূল্যস্ফীতিও ছিল সর্বনিম্ন। খুচরো মূল্যস্ফীতি ১১ মাসের সর্বনিম্ন ৫.৮৮ শতাংশে নেমে যায়, আর পাইকারি মূল্যস্ফীতি ২১ মাসের সর্বনিম্ন হয়ে নেমে যায়। তা নভেম্বরে নেমে আসে ৫.৮৫ শতাংশে।

হতাশা গ্রাস করেছে শেয়ার মার্কেটে
ডিসেম্বর ২০২১ থেকে প্রথমবার আরবিআইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ থেকে ৬ শতাংশের উপরের প্রান্তের নীচে নেমে গিয়েছে। এর ফলে আরবিআই ভবিষ্যতের হার বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেবে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এই বছর মূল্যস্ফীতির সর্বনিম্ন স্তরের রেকর্ড করবে এমন প্রত্যাশা সত্ত্বেও, মার্কিন সূচক ফিউচার এবং ইউরোপীয় শেয়ারগুলি স্থিতিশীল ছিল। তার ফলে ভারতীয় শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়। সেনসেক্স ও নিফটিও বাড়তে শুরু করে। বাজার বন্ধ হয় আশাব্যাঞ্জক রেজাল্ট দিয়ে। কিন্তু পরের দুদিন যেভাবে বাজার পড়ল, তাতে হতাশা গ্রাস করেছে শেয়ার মার্কেটে।












Click it and Unblock the Notifications