কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি! ভারতে 'এল নিনো'র সম্ভাব্য প্রভাবে বাড়ছে উদ্বেগ

২০১৮-র পরে ফের ২০২৩। দেশে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচমনা শুরু হয়েছে। যদি এর প্রভাব এই বছরে ভারতের ওপরে পড়ে, তাহলে তা পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপরে।

শীত পেরিয়ে বসন্ত। তবে দেশের কোনও কোনো জায়গায় এখন পুরোপুরি গ্রীষ্মকাল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ছুঁয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশে জুনের আগে বর্ষা আসে না। সেই হিসেবে এখন তিন মাস বাকি। তার আগে প্রশ্ন উঠছে, এবার কি দেশে খরা কিংবা খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিতে আশঙ্কার কালো মেঘ। যদি তা হয়, তাহলে দেশে কৃষির উৎপাদন কমবে এবং মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে, এমনটাই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এস নিনোর পূর্বাভাস

এস নিনোর পূর্বাভাস

প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে এল নিনো এবং লা নিনা। লা নিনা যেমন ভারতের পক্ষে উপকারের, অন্যদিকে এল নিনো ভারতের পক্ষে ক্ষতিকারক। এল নিনো ভারতে বর্ষার ঘাটতি তৈরি করে। আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গবেষণায় ২০২৩-এর জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে এন নিনো ফিরে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে তা ভারতের বর্ষার ওপরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এব্যাপারে গত ২০ বছরে ভারতের খরার মূল্যায়ন করা হয়েছে।

 প্রভাব ফেলতে পারে কৃষির উৎপাদনের ওপরে

প্রভাব ফেলতে পারে কৃষির উৎপাদনের ওপরে

এল নিনোর প্রভাব যদি এবার পড়ে, তার প্রভাব সব থেকে বেশি হবে ভারতের কৃষির ওপরে। বৃষ্টির ঘাটতির জেরে কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে যাবে। ইতিমধ্যে দেশে কৃষিজাতপণ্যের সরবরাহ বেশ আঁটসাঁট। তার ওপরে যদি এল নিনোর প্রভাব পড়ে, সেক্ষেত্রে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়ে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে দেশের শস্য সংগ্রহের ক্ষমতার ওপরে। অন্যদিকে দেশে খাদ্যপণ্যের খুচরো মূল্যের দাম বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে এর ফলে। ফেব্রুয়ারিতেই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই গম উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।

 বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি

বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি

কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে গেলে বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার চিফ ইকোনমিস্ট মদন সবনাভিস বলেছেন, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের ৬-৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হয়েছে কৃষিতে ৩-৩.৫ শতাংশ সম্ভাব্য বৃদ্ধিকে ধরে। সেক্ষেত্রে বর্ষা স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন। সেখানে যদি এল নিনোর প্রভাব শুরু হয়, তাহলে তা কৃষির উৎপাদনের ওপরে প্রভাব ফেলবে। আর কৃষির উৎপাদন কমলে তা ধাক্কা দেবে মুদ্রাস্ফীতিতে। কেননা গত কয়েক বছর ধরে দেশে কৃষিজাতপণ্যের ভাল উৎপাদনের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে।

ভারতের এল নিনোর শেষ প্রভাব পড়েছিল ২০১৮-তে

ভারতের এল নিনোর শেষ প্রভাব পড়েছিল ২০১৮-তে

ভারতে শেষবারের মতো এল নিনোর প্রভাব পড়েছিল ২০১৮ সালে। সেবছর স্বাভাবিকের থেকে বৃষ্টি কম হয়েছিল। তারপর পরপর চারবছর দেশে ভাল বর্ষা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পঞ্চমবর্ষে ভাল বর্ষা আপাতত কম বলেই মনে হচ্ছে। সাধারণভাবে তা এপ্রিল-মে মাস থেকেই অনুভূত হতে শুরু করবে। আবহাওয়া দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্বভারতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩-৫ ডিগ্রি বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+