ভারতেই এমন রাজ্য রয়েছে যেখানে রেলপথ নেই, জানেন কোথায় আছে সেই রাজ্য
ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদূরপ্রসারী। লর্ড ডালহৌসী প্রথম মুম্বই থেকে থানে পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন করেছিলেন। তারপর গোটা ভারতজুড়েই তা বিস্তার লাভ করে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৭ বছর পরেও এমন রাজ্য রয়ে গিয়েছে, যেখানে রেললাইন পৌঁছয়নি। স্বভাবতই রেল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রাজ্য।
জানেন কোন সেই রাজ্য যেখানে রেললাইন নেই, রেল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ ট্রেনে চড়তে গেলে তাদের পাড়ি দিতে হয় ভিনরাজ্যে? ভারতে এমন একাধিক কেন্দ্রশাসিক অঞ্চলও রয়েছে, যেখানে কোনো রেলপথ প্রবেশ করেনি। রেল নেটওয়ার্ক চালু করার জন্য ইতিমধ্যে অবশ্য উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

এই মুহূর্তে সিকিম হল ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে রেলওয়ে স্টেশন নেই। এই রাজ্যটি এখনও রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত নয়। রাজ্যটি অন্যান্য পার্শ্ববর্তী রাজ্য এবং শহরগুলির সঙ্গে সড়কপথে সংযুক্ত। সিকিমের ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করেছে।
ভারতে মোট ২৯টি রাজ্য রয়েছে। তারমধ্যে একমাত্র সিকিমে রেললাইন নেই। সিকিম ব্যতীত ভারতে আরো কয়েকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও রেললাইনের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। ভারতে এমন চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে, যেখানে রেললাইন নেই। রেললাইন নেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ এবং লাক্ষাদ্বীপ।

রেলব্যবস্থাহীন সিকিমকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সিভোক-রাংপো রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। ২০২২ সালেই সিকিমে রেললাইন চালু হয়ে যাবে বলে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল। এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ইরকন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি। সিকিমের গ্যাংটক এই রেল এক্সটেনশনে যুক্ত হবে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রক পাস করেছিল এই প্রকল্পের। তারপর থেকে কাজ চলছে সিকিমের রেললাইনের। এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ রেললাইন পাতার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। গত কয়েক বছরে, রাজ্যে রেললাইন তৈরির অনেক পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তা এখনও পর্য্ন্ত সম্পূর্ণ করা যায়নি।

এই রাজ্যে রেলওয়ে স্টেশন না থাকার প্রধান কারণ হল সিকিমের প্রায় সব এলাকাতেই উঁচু পাহাড় অবস্থিত। তার ফলে এখানে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। সেই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রেললাই নির্মাণ হচ্ছে। এই বছরই রেললাইন চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিকিমে রেল নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন রেলমন্ত্রী ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের পর কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা থমকে যায় অচিরেই। তবে তা আবার শুরু হয় ২০১৬ সালে। নতুন রেললাইন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রাংপো পর্যন্ত।

এই রেলপথের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। রংপো, রিয়াং, তিস্তাবাজার এবং মেল্লিতে স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে। ১৩টি সেতু এবং ১৪টি টানেল কভার করবে। রেল প্রকল্পে ১৩৩৯ কোটি টাকা খরচ হবে। সিকিমে একটি রেললাইনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। ২০১৭ সালে চিন সীমান্তে ডোকলাম স্ট্যান্ড অফ এবং লাদাখে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পরে গতি পেয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications