কোটিপতিরাও থাকেন কাঁচা বাড়িতে, ধর্মীয় বিশ্বাসে আজব এই রীতি চলে আসছে এ গ্রামে
এ গ্রামে কোটিপতিরাও থাকেন কাঁচা বাড়িতে। আজব এক রীতিতে ভর করে কাঁচা বাড়িতেই থাকা দস্তুর মনে করেন কোটিপতিরা। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উন্নতমানের জীবনধারণের পথে হাঁটে না েই গ্রামের বাসিন্দারা। এমনকী কোটিপতিরাও সেই সাহস করেন না।
কোটিপতি হয়েও সাধারণ মাটির বাড়িতে তাঁদের বাসে। এমন আজব গ্রাম রয়েছে ভারতেই। রাজস্থানের আজমীর জেলায় দেবমালি গ্রামে রয়েছে এমনই রীতি। স্বচ্ছল অবস্থা হলেও কেউ পাকা বাড়িতে বাস করেন না। কোটিপতিদের কোনো ক্ষোভও নেই মাটির বাড়িতে বসবাস করার জন্য।

কিন্তু কেন এই রীতি? আসলে গ্রামের পুরো জমিটিই ভগবান দেবনারায়ণের নামে খোদাই করা রয়েছে। দেবনারায়ণের নামাঙ্কিত এই গ্রামে কোনো পাক ঘর করার কোনো রেওয়াজ নেই। গ্রামবাসীদের বিশ্বাসর, পাকা ছাদ তৈরি করলে গ্রামে বিপর্যয় নেমে আসবে।
সেই বিশ্বাস নিয়েই থাকেন এ গ্রামের মানুষেরা। এই বিশ্বাসের অমর্যাদা কেউ করেননি। তাই হাসতে হাসতে ভগবান দেবনারায়ণের এ গ্রামে মাটির বাড়িতেই থাকেন সকলে। আবার এ গ্রামের সবাই নিরামিষাশী। এ গ্রামে বসবাসের কিছু নিয়ম আছে, সেই নিময় মেনেই সবাই বসবাস করেন।
এই দেবমালি গ্রামের বাসিন্দারা ভোরবেলা গ্রামের পাহাড়ে খালি পায়ে যান। তার কারণ পাহাড়ে দেবনারায়ণের একটি মন্দির রয়েছে। গ্রামবাসীদের ভগবান দেবনারায়ণের প্রতি ভক্তি থেকেই এই রীতি। মনে করা হয়, দেবনারায়ণ এই গ্রামে এসেছিলেন একবার।

দেবনারায়ণ গ্রামবাসীদের সেবামূলক কাজের মনোভাব ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে বর দিতে চেয়েছিলেন। কিন্ত গ্রামবাসীরা কোনো বর চাননি। কথিত আছে, দেবনারায়ণ বলে গিয়েছিলেন এই গ্রামে কোনোদিন পাকা ছাদযুক্ত বাড়ি তৈরি কোরো না। তাহলেই তোমাদের শান্তিতে কেউ বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না।
সেই বিশ্বাস থেকেই এই গ্রামে কেউ পাকা বাড়ি তৈরি করেননি। পুরো গ্রামে পৌরাণিক বিশ্বাস বিরাজ করছে। দেবনারায়ণ বাক্য কেউ অমান্য করে না। মাটি ও পাথর দিয়ে কাঁচা ঘর তৈরি করে সেখানেই বসবাস করেন। সে সাধারণ স্বচ্ছ্বল পরিবার থেকে শুরু করে কোটিপতি সবাই।

কাঁচা বাড়িতেই সব পরিষেবা মেলে। শুধু বাড়িটা পাকা নয় এখানে। টিভি, ফ্রিজ, কুলার ও দামি বিলাসবহুল সমস্ত ব্যবস্থা যানবাহন থাকা সত্ত্বেও রয়েছে কাঁচা বাড়ি। এই বিশ্বাস আরও তীব্র হয়েছে, গ্রামে অনেকে পাকা ছাদ বসানোর চেষ্টা করলে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
এই গ্রামে কেউ মদ, মাংস ও ডিম স্পর্শ করে না। গ্রামে বিদ্যুৎ চলে গেলে কেরোসিনের ব্যবহারও করা হয় না। তিলের তেল দিয়ে এই গ্রামে জ্বালানো হয় প্রদীপ। ২০০০ জনসংখ্যার এই গ্রামে শান্তি বিরাজ করছে। কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। এই গ্রামে সমস্ত বাড়িতে দরজা খোলা থাকে।












Click it and Unblock the Notifications