৬০ বছর আগে প্রাদুর্ভাব হয়েছিল এক রোগের, তারপর থেকে এ গ্রামের অধিকাংশই বামন

বিশ্বে ২০ হাজার জনের মধ্যে এক জন বামন হয়ে থাকেন। কিন্তু সেই হিসেব বদলে দিচ্ছে চিনের ইয়াংসি গ্রাম। ৬০ বছর আগে এখানে প্রাদুর্ভাব হয়েছিল এক রোগের। তারপর থেকে এ গ্রামের অধিকাংশই বামন। চিনের এই বামন গ্রাম ইয়াংসি অবস্থিত সিচুয়ান প্রদেশে।

আপাত অখ্যাত এই ইয়াংসি গ্রামকে বিশ্ব চেনে বামন গ্রাম হিসেবেই। ভারতেও রয়েছে এমনই এক বামন গ্রাম। সে গ্রামের নাম 'আমার'। অসম প্রদেশে অবস্থিত। কিন্তু সেই বামন গ্রাম গড়া এক মহৎ উদ্দেশ্যে। কিন্তু চিনের ইয়াংসি নিয়ে বিজ্ঞানীরা খুবই উৎসুক হয়ে উঠেছেন।

চিনের বামন গ্রাম ইয়াংসি

চিনের এই গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮০ জন। তার মধ্যে অর্ধেকই বামন বা খর্বকায়। ৬০ বছর আগে এক রোগ খর্বকায় শিশু জন্মানোর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। সেই রোগের প্রভাবে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি আটকে যায় ইয়াংসি গ্রামে, বিশেষজ্ঞদের তেমনই ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা ইয়াংসি গ্রামকে নিয়ে খুবই চিন্তিত। কী কারণে এমনটা ঘটছে তা বুঝতে পারছেন না কেউ। রোগের প্রাদু্র্ভাব যদি হয়ে থাকে, তো তা হয়েছিল ৬০ বছর আগে। তার প্রভাব এখনও কী করে চলবে। পরীক্ষার মাধ্যমে নানারকম কারণ বিশ্লেষণ করে চলেছেন তাঁরা।

চিনের বামন গ্রাম ইয়াংসি

চিনের বিখ্যাত এই গ্রামে ৮০ জন মানুষের মধ্যে ৪০ জন একেবারেই খর্বকায়। কেন এত বামন এ গ্রামে, তা নিয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রামটিতে এত সংখ্যক বামন জন্ম নেওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় কিছু কিছু মানুষের জিনগত কারণে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। ফলে স্বাভাবিক উচ্চতাও কম হয়।

বিজ্ঞান বলছে, হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়াই এ জন্য দায়ী। জিনগত ও জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটিকে এসব ক্ষেত্রে দায়ী করে থাকে বিজ্ঞান। একজন স্বাভাবিক মানুষের উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চির কম হয়ে থাকলে তাকে খর্বাকায় বা বামন বলে গণ্য করা হয়।

ইয়াংসি গ্রামের সর্বাপেক্ষা লম্বা মানুষের উচ্চতা ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি। আর সর্বাপেক্ষা খাটো মানুষের উচ্চতা ২ ফুট ১ ইঞ্চি। ১৯৫১ সালের পর থেকেই এই গ্রামের অধিবাসীদের নিয়ে কানাঘুষো শোনা যেত। বিজ্ঞানীরা সরেজমিনে তদন্তও শুরু করেন তারপর।

চিনের বামন গ্রাম ইয়াংসি

১৯৮৫ সালে ইয়াংসি গ্রামে একটি সমীক্ষা হয়। সেই সমীক্ষায় জানা যায়, রোগের প্রাদুর্ভাবের আগে ১১৯ জনের বাস ছিল গ্রামে। তারপর এক গ্রীষ্মের অজানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। ৫-৭ বছর বয়সি শিশুরা আক্রান্ত হয়, তাদের দৈহিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

অনেকে বলেন, অশুভ কোনো ছায়া পড়েছে এই গ্রামে। তা নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন অতৃপ্ত আত্মার অভিশাপ। আবার কেউ বলেন, ওয়াং নামে এক ব্যক্তি কালো রঙের একটি কচ্ছপ দেখতে পান। কচ্ছপটিকে পুড়িয়ে আগুনে ঝলসিয়ে খাওয়ার পরই ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করা হয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+