Travel: বর্ষা আসার আগে পাহাড় ঘুরে নিন, গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন সিকিমের এই হেরিটেজ গ্রামে
উঁকি দিতে শুরু করেছে বর্ষা। ইতিমধ্যে বর্ষার আগমের একটা ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে তার আগে গ্রীষ্মের আগুনে ঝড়ের একটা ব্যাটিং চলবে রাজ্যে। ফের ৪০ ডিগ্রিতে চড়বে তাপমাত্রা। আবার সেই গরমের ধাক্কা খাওয়ার আগেই ব্যাগ পত্তর গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।
ডাকছে পাহাড়। অবশ্যই গরমে পাহাড়ের হাতছানি অমোঘ। তারপরে আবার সেটা যদি হয় সিকিমের কোনও জায়গা। বাঙালির কাছে সিকিম মিনিকাশ্মীরের চেয়ে কিছু কম সুন্দর নয়। আর সিকিমের কোনও অফবিট লোকেশন যদি হয় তাহলে তো কথাই নেই। ইয়কসাম। সিকিমের একেবারে অচেনা একটা জায়গা। এর আবার একটা ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে।

এখন সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক হলেও একটা সময়ে নাকি এই ইয়কসামই ছিল সিকিমের রাজধানী। সেকারণে সিকিমের এইজায়গাটি বেশ সাদানো গোছানো। তার সঙ্গে এখানে সিকিমের পুরনো স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। একটা সময়ে এখানে বাণিজ্য থেকে জনসমাগম সবেতেই রমরমা ছিল। কিন্তু রাজধানী গ্যাংটকে চলে যাওয়ার পর ইয়াকসামের সেই ভিড় অনেকটাই কমে গিয়েছে।
সেকারণে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা এখানে কম। এখান থেকে পাহাড়ের ভিউ অসাধারণ। এখানকার বাসিন্দাদের এখন প্রধান জীবিকা চাষবাস। সিকিম অরগ্যানিক ফার্মিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তার সঙ্গে নার্সারি তো রয়েইছে। সিকিমে একাধিক জায়গায় নানারকমের গাছের নার্সারি দেখতে পাওয়া যায়।
ইয়াকসাম একবার গেলে তিনচার দিন থাকতে ইচ্ছে করবে। তার থেকে কম সময়ে মন ভরবে না ইয়কসাম ঘুরে। বেড়ানোর পক্ষে আদর্শ জায়গা এই ইয়কসাম। এখানে একটি মনেস্ট্রি রয়েছে। সেটি অনেক পুরনো। সিকিমের রাজার ইতিহাস রয়েছে ইয়কসামের সঙ্গে। এই মনেস্ট্রিকে মেডিটেশন সেন্টার হিসেবে মনে করেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা। সেকারণে দূরদূরান্ত থেকে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা আসেন মেডিটেশন করতে।
ইয়াকসামে একটি হেলিপ্যাডও রয়েছে। একটা সময় রাজধানী থাকায় ভিভিআইপিদের আনাগোনা ছিল। সেকারণে এই হেলিপ্যাডটি তৈরি করা হয়েছিল। এখান থেকে কাছেই রয়েছে কাথুক লেক। এই হ্রদের সঙ্গে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নাম জড়িয়ে রয়েছে। প্রচুর মাছ রয়েছে এখানে। বৌদ্ধরা এই হ্রদকে পবিত্র মনে করেন তাই এখানে স্নান করা যায় না। এখানে পাহাড়ের ছবি দেখা যায় হ্রদের জলে।
এই কাথুক লেকের একেবারে কাছেই রয়েছে সিকিমের রাজার করোনেশন। সেই স্মৃতি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিশাল এক পাথরের স্মৃতি সৌধ। ইয়াকসামকে হেরিটেজ ভিলেজও বলা হয়ে থাকে। এখানে চারশো বছরের প্রাচীন একটি পাইন গাছও রয়েছে। এই জায়গাটিকে পবিত্র বলে মনে করেন ইয়াকসামের বাসিন্দারা। এখান থেকে কাছেই রয়েছে গুরুং মনেস্ট্রি। এই সময় এখানে প্রচুর চেরি ফুলের গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ফুলে ভরে থাকে ইয়কসাম।












Click it and Unblock the Notifications