Travel: জমিদারি জলসাঘর, ওপারে বাংলাদেশ, বছরের প্রথম দিন কাটিয়ে আসুন কলকাতার কাছেই অফবিট এই লোকেশনে
নতুন বছরের উইকেন্ড ট্রিপ। একেবারেই অন্যরকম একটা জায়গায় অনেকেই কাটাতে চান। কলকাতার কাছাকাছি যাঁরা এরকম কোনও জায়গা খুঁজছেন তাঁরা চলে আসতে পারেন নিমতিতা জমিদারবাড়িতে। একেবারে অফবিট ডেস্টিনেশন।
এই জায়গাটি পর্যটকরা খুব বেশি এক্সপ্লোর করেননি। অথচ এই জমিদার বাড়িতে নাকি সত্যজিৎ রায়ের তিন তিনটে ছবির শ্যুটিং হয়েছিল। জলসাঘর, দেবী এবং তিনকন্যা। মুর্শিদাবাদের এই নিমতিতা জমিদারবাড়িকেই হয়েছিল কালজয়ী এই তিনটি ছবির শ্যুটিং। গঙ্গা নদী এখান থেকেই পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এমনিতে মুর্শিদাবাদ জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। নবাবী ইতিহাজ জড়িয়ে রয়েছে এই জায়গায়। বাংলার শেষ নবাব সিরজউদদৌলার স্মৃতি বিজরিত মুর্শিদাবাদ দেখতে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন। কিন্তু নিমতিতা জমিদার বাড়ির কথা অনেকেই জানেন না।
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান থেকে কিছুটা দক্ষিণে গেলেই পড়বে নিমতিতা গ্রাম। মুর্শিদাবাদের সুতি থানার মধ্যে পড়ে গ্রামটি। সেই নিমতিতা গ্রামেই একেবারে পদ্মা নদীর ধারে রয়েছে প্রাচীন নিমতিতা জমিদারবাড়ি। নদীর ওপারেই বাংলাদেশ। সত্যজিৎ রায় নাকি এই বাড়িটির অবস্থান দেখে মুগ্ধ হয়ে একসঙ্গে তিনটি ছবির স্পট হিসেবে বাছাই করেছিলে তিনি।
গ্রামবাসীদের কাছে শোনা যায় কবি নজরুল ইসলামও নাকি এই বাড়িটিতে এসেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে এই জমিদারবাড়ি গান বাজনা, নাট্য চর্চার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল। মুর্শিদাবাদ জেলার সবচেয়ে বড় দুর্গাপুজোও হতো এই জমিদার বাড়িতেই।
এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের পাবনার চৌধুরীরা। প্রায় ২৫০ বছর আগে এই পরিবারের দুই ভাই দ্বারকানাথ চৌধুরী, গৌরসুন্দর চৌধুরী বাড়িটি তৈরি করিয়েছিলেন। তাতে ১৫০টি ঘর রয়েছে। এবং ৫টি উঠোন রয়েছে। এই বাড়িটি থেকে গঙ্গা এবং পদ্মা নদীকে একসঙ্গে দেখা যায়।
ট্রেনে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে নামতে হবে। তারপরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সলড়ক ধরে ধুলিয়ানে দিকে যেতে হবে। সাজুর মোড় থেকে বাঁ দিকে টোটো করে পৌঁছতে হবে এই জমিদারবাড়ি। কাজেই একসঙ্গে হাজার দুয়ারি এবং জমিদারবাড়ি দুটিই দেখা হয়ে যাবে।












Click it and Unblock the Notifications