অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ মৃত্যু! প্রয়াত ইন্ডিয়ান আইডল জয়ী প্রশান্ত তামাং, ঠিক কী হয়েছিল গায়কের?
সংগীত জগতে ফের নক্ষত্রপতন! ইন্ডিয়ান আইডলের তৃতীয় সিজন জিতে যিনি ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন, সেই গায়ক এবং অভিনেতা প্রশান্ত তামাং আর নেই। অরুণাচল প্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠান শেষ করার পরে নয়াদিল্লিতে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। বাড়িতেই স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর।

দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা প্রশান্ত তামাংয়ের জন্ম হয়েছিল ১৯৮৩ সালের ৪ জানুয়ারি। খুব অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। জীবিকার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে। পুলিশে চাকরি করলেও গানের প্রতি তিনি তাঁর ভালোবাসা ছাড়েননি। পুলিশের কাজে যুক্ত থেকেই সংগীতচর্চা চালিয়ে যান তিনি।
২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান আইডল জেতার পর রাতারাতি জাতীয় স্তরে পরিচিত হয়ে ওঠেন প্রশান্ত। সেই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি শুধুমাত্র একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, গোর্খা সম্প্রদায়ের গর্ব হিসেবেও উঠে আসেন। তাঁর জয়ের পর নেপালি গান নতুন করে গোটা দেশে পরিচিতি পায়।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ এবং বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা প্রশান্ত তামাং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, "প্রশান্ত তামাংয়ের অকাল প্রয়াণ গোর্খা সমাজের পাশাপাশি গোটা শিল্প এবং সংগীত জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।" তাঁর কথায়, ইন্ডিয়ান আইডল জিতে প্রশান্ত গোটা গোর্খা সমাজকে এক সূত্রে বেঁধেছিলেন। দার্জিলিং, তেরাই, ডুয়ার্স, সিকিম থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব এবং বিদেশে থাকা গোর্খাদের মধ্যেও ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করেছিলেন তামাং।
ইন্ডিয়ান আইডলের পর প্রশান্তর প্রথম অ্যালবাম 'ধন্যবাদ (Dhanyavad)' প্রকাশিত হয়। দেশ থেকে বিদেশে একাধিক মঞ্চে অনুষ্ঠান করেন তিনি। ২০১০ সালে নেপালি ছবি 'গোর্খা পাল্টন (Gorkha Paltan)'-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপরে 'আঁগালো ইয়ো মায়া কো (Angalo Yo Maya Ko)', 'কিনা মায়া মা (Kina Maya Ma)', 'নিশানি (Nishani)', 'পরদেশি (Pardesi)' সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন।
টেলিভিশনেও অতিথি শিল্পী হিসেবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ 'পাতাল লোক (Paatal Lok)'-এর দ্বিতীয় সিজনে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।
তবে মঞ্চ অথবা পর্দার সাফল্যের বাইরেও প্রশান্ত তামাং গোর্খা সমাজের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর জয় বহু মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। আর এই কারণেই তাঁর মৃত্যু শুধুই এক শিল্পীর প্রয়াণ নয়, একটি আবেগের বিদায়।












Click it and Unblock the Notifications