SLIM mission in Moon: পঞ্চম দেশ হিসেবে চাঁদে পাড়ি, জাক্সার স্লিম ল্যান্ডার চাঁদের মাটিতে পৌঁছবে কত দিনে?
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা চাঁদের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে। ইসরোর চন্দ্রযান ৩ বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে নেমেছে চাঁদের মাটিতে। এরপর জাপান পঞ্চম দেশ হিসেবে চাঁদে নামতে চায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই তৃতীয়বারের চেষ্টায় চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে জাক্সার স্লিম ল্যান্ডার।
কিন্তু কতদিন চাঁদে পৌঁছবে স্লিম ল্যান্ডার? নাসা সাধারণত চাঁদে মহাকাশযান পাঠাতে সময় নেয় চার থেকে পাঁচদিন। আর রাশিয়া এবার ১২ দিনে চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ভারতকে টেক্কা দিতে চেয়েছিল। তাঁর কোনও কারণে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত সেখানে ৪১ দিনের মিশনে চাঁদের মাটিতে নেমেছে।

চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে নামার গৌরব অর্জনের পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয় করেছে। এই কৃতিত্ব আবার নাসারও নেই। এই অবস্থায় ভারতের পর জাপান চাঁদে পাড়ি দিয়েছে স্লিম মিশনে। এই স্লিম মিশনে জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাক্তা, তাদের মহাকাশ যান চাঁদের কক্ষপথে নিয়ে যাবে সময় নিয়েই।
ভারতের পন্থা অনুসরণ করেই এগোচ্ছেন জাপানের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। জাক্সা স্থির করেছে তারা চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছবে আরও ধীর পদক্ষেপে। চারমাস সময় নিয়ে জাক্সার স্লিম ল্যান্ডার নামবে চাঁদে। পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে চাঁদের কক্ষপথ হ্রাস কৌশল সম্পাদন করে চাঁদের দেশে পৌঁছতে তারা চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন সময় নেবে।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি বা জাক্সা চন্দ্র অন্বেষণে স্লিম ল্যান্ডার উৎক্ষেপণে করেছে ৭ সেপ্টেম্বর। আবহাওয়ার বিভ্রাটে দু-বার তারা ব্যর্থ হয় উৎক্ষেপণে। প্রথমবার চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের লক্ষ্যে এবং চাঁদের শিলা বিশ্লেষণের লক্ষ্যে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে বাধার মুখে পড়লেও, জাক্সা সফল উৎক্ষপেন করে।
এই চন্দ্র মিশনটি যেমন জাপানকে বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসেবে চাঁদে অবতরণের গরিমা এনে দিতে পারবে, তেমনই নাসার আর্টেমিস মিশনে মূল্যবান ডেটাও দেবে। নাসা সম্প্রতি ক্রুড চন্দ্র মিশনে নামতে চলেছে। সেই মিশনকে সহজতর করতে নাসা নানারকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাপানের এই মিশনের মাধ্যমে তারা চাইছিল ডেটা সংগ্রহ করতে।
জাক্সা ও নাসার সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টায় স্লিম এগিয়ে চলেছে চাঁদের দিকে। আরও একটি চন্দ্র মিশনে নজর গোটা বিশ্বের। ইসরোর সাফল্যের আবহেই জাক্সা এই মিশনটির পরিকল্পনা করে নাসার সহায়তায়। তারপর আবার ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ২০২৭ সালে চন্দ্রযান ৪ বা লুপেক্স মিশনে নামার পরিকল্পনা করেছে জাক্সা।
ভারতের সঙ্গে মিলে চন্দ্রযান ৪ বা লুপেক্স মিশন শুরুর আগে ভারতের মতো এলিট গ্রুপে উঠতে চাইছে জাপান। তাই জাপান উচ্চাভিলাষী হয়ে স্মার্ট ল্যান্ডার ফর ইনভেস্টিগেটিং মুন বা স্লিম ল্যান্ডার উৎক্ষেপণের তোড়জোড় করে। এই মিশনটির নাম দেওয়া হয়েছিল মুন স্নাইপার। জাক্সার লক্ষ ছোটো ও হালকা একটি মহাকাশযান নিখুঁতভাবে চাঁদে নামানো।
জাক্সার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের যে জায়গায় এটি অবতরণ করবে, সেখানেই থাকবে। সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাবে। কোনও রোভার এর সঙ্গে যাবে না। স্লিম মিশনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল অবতরণে নির্ভুলতা অর্জন করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা জাক্সার স্লিম ল্যান্ডারের। এখন দেখার কবে চাঁদের মাটিতে নাম স্লিম ল্যান্ডার।












Click it and Unblock the Notifications