পৃথিবী ধ্বংস হবে কীভাবে? গুগুল এআই-এর ভবিষ্যদ্বাণীতে চারটি ঘটনার উল্লেখ, জানেন কী কী
পৃথিবী কবে ধ্বংস হবে, কীভাবে ধ্বংস হবে, তা নিয়ে নানা সময়ে নানা ভবিষ্যদ্বাণী হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই সঠিক প্রমাণিত হয়নি। এবার ভবিষ্যদ্বাণী করল খোদ এআই। গুগলের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের করা ভবিষ্যদ্বাণীতে চারটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গুগুল এআই-এর ভবিষ্যদ্বাণী যে চার কারণে পৃথিবী ধ্বংসের কথা বলেছে, তা জানলে আঁতকে উঠবেন আপনিও। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কীভাবে এবং কখন পৃথিবী ধ্বংস হবে। গুগলের বার্ড সফ্টওয়্যার তা নিয়ে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করে।

এআই-চালিত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গুগল জানিয়েছে কীভাবে এবং কখন বিশ্ব ধ্বংস হবে। এআই তার ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পারমাণবিক যুদ্ধের কথা। পরামাণিক যুদ্ধের ফলে পৃথিবী ধ্বংস হতে পারে বলে জানানো হয়েছে এই ভবিষ্যদ্বাণীতে।
কিন্তু তা শুনে ভয় পাবেন না। এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিশ্বের ধ্ব্ংস নাও হতে পারে। মানুষ সমস্ত সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জকে পরাস্ত করতেও পারে। তবে এটি সতর্কতামূলক ভবিষ্যদ্বাণী বলা যায়। বলা যায়, বিশ্বের ভাগ্য মানুষের হাতে। বা মানবতাই রক্ষা করতে পারে বিশ্বকে। আমরাই আমাদের নিজেদের ধ্বংস করতে পারি বা রক্ষা করতেও পারি।
- প্রাকৃতিক বিপর্যয়
এআই জানিয়েছে, বিশাল গ্রহাণুর প্রভাবে সুপার-আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বিশ্বব্যাপী মহামারী মানবতাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। বড় গ্রহাণুর প্রভাবে ব্যাপক ধ্বংস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে এবং তার ফলে মানুষের বিলুপ্তি ঘটাতে পারে। ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে চিকক্সুলুব গ্রহাণুর প্রভাবে ডাইনোসর যেভাবে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, এক্ষেত্রেও তেমন ঘটতে পারে।
একটি সুপার-আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে ছাই এবং ধূলিকণা ছেড়ে দিতে পারে। তার ফলে সূর্য অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী আগ্নেয়গিরির প্রভাব শীতের কারণ হতে পারে। ফসল নষ্ট হতে পরে, দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে গোটা বিশ্বকে। তার ফলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আবার মারাত্মক রোগের কারণে বিশ্বব্যাপী মহামারী লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করতে পারে এবং বিশ্ব সমাজকে ব্যাহত করতে পারে। করোনা মহামারী দেখিয়েছে যে একটি রোগ কত দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমনটাও ভবষ্যদ্বাণী করেছে এআই।
- পারমাণবিক যুদ্ধ
বিশ্বের দুই বা ততোধিক বড় শক্তির মধ্যে একটি পারমাণবিক যুদ্ধ বাধতে পারে। তার ফলে পারমাণবিক শক্তি বিশ্বের শেষের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র খুবই শক্তিশালী এবং ব্যাপক ধ্বংস ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। বৃহৎ পারমাণবিক যুদ্ধ লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা করতে পারে। পারমাণবিক বিকিরণ, বিষাক্ততা আরও অনেককে হত্যা করতে পারে।
- জলবায়ু পরিবর্তন
এআই সেইসঙ্গে জানিয়েছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া না হয়, তাহলে এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি হতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিপর্যয় ঘটতে পারে। এই নির্দিষ্ট প্রভাবগুলি ছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন স্বাভাবিক কাজ ব্যহত করবে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে সভ্যতাকে পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আমরা যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করি, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সবথেকে খারাপ প্রভাবগুলি এড়ানো যেতে পারে। যদি আমরা পদক্ষেপ না নিই, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলি ক্রমশ গুরুতর হয়ে উঠবে এবং মানুষের পক্ষে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা খুব কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
"কিছু লোক বিশ্বাস করে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত এত বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে যে এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং মানবতাকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এআইও পৃথিবী ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে মানু,সের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে এবার।












Click it and Unblock the Notifications