চাঁদে মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস! বিক্রম-প্রজ্ঞানের ডিজাইনের গলদেই পথ চলা শেষ ১৪ দিনে
মাত্র ১৪ দিনে শেষ হল পথ চলা! চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার ও রোভারকে জাগানোর সমস্তরকম চেষ্টা করা হলেও, এখনও তারা জাগল না। আরও একটা চান্দ্র দিবস প্রায় শেষের পথে। আবার রাত্রি নামবে চাঁদে। তার আগে বিক্রম ও প্রজ্ঞানকে জাগানোর সম্ভাবনা ক্ষুবই ক্ষীণ।
চাঁদের মাটিতে শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে বিক্রম আর প্রজ্ঞান। দীর্ঘ যাত্রার ধকলের পর মাইনাস ২০০ ডিগ্রির কামড় ভেদ করে তাদের আর সক্রিয় হয়ে ওঠা হয়নি। দিনের বেলায় ৮০ থেকে ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রা আর রাত নামলেই মাইনাস ২০০ ডিগ্রিতে নেমে যায় তা। এই অবস্থায় বিক্রম ও প্রজ্ঞান-দুই-ই বিকল।

আসলে ইসরো চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞানকে ডিজাইন করেছিল এক চান্দ্র-দিবস কাজের জন্য। এক চান্দ্র দিবস অর্থাৎ পার্থিব ১৪ দিন কাজ করতে সক্ষম হবে প্রজ্ঞান ও বিক্রম। তারপর চাঁদের বুকে রাত নামলেই তাঁরা যে ঘুমিয়ে পড়বে, তাদের আবার জেগে ওঠার সম্ভাবনা দুরুহ।
সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। আসলে প্রজ্ঞান ও বিক্রমের ইলেকট্রনিক্সগুলি চাঁদে তরম পরিস্থিতি সহ্য করার মতো তৈরি করা হয়নি। চাঁদের রাত নামলে সেই ১৪ দিন মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সৌর-চালিত মডিউলগুলি কাজ করার মতো কোনও বিকল্প উপায় ছিল না।
তার ফলে সেই যে স্লিপ মোডে পাঠানো হয়েছে বিক্রম ও প্রজ্ঞানকে তাদের আর ঘুম ভাঙেনি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার লুনা-২৫ যদি চাঁদের মাটিতে নামতে পারত, তাহলে আরও ভালো পারফর্ম করতে পারত। কারণ লুনা-২৫ তৈরি করা হয়েছিল রেডিও আইসোটোপ ডিভাইস দিয়ে। এই রেডিও আইসোটোপ ডিভাইস পারমাণবিক ব্যাটারির মতো।
চন্দ্রযান ৩ মিশনে তেমন কোনও সুবিধা ছিল না। তা সত্ত্বেও ইসরো আশাবাদী, বিক্রম ও প্রজ্ঞান ফের জেগে উঠবে। ফের সৌরচালিত যান সক্রিয় হবে। তবে চাঁদে চান্দ্র দিবসের আয়ু আর সাকুল্যে ৫ দিন। এর মধ্যে সুখবর না এলে আবারও রাত্রি নেমে আসবে। তখন সমস্ত আশার পরিসমাপ্তি ঘটবে চাঁদের মাটিতে।
ইসরো আশাবাদী ছিল, চাঁদের মাটিতে বিক্রম ও প্রজ্ঞানের কাজের মেয়াদ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। সূর্যের আলো পড়লে সৌরচালিত ব্যাটারিগুলি সম্পূর্ণরূপে চার্জ হলে সক্রিয় হবে তারা। কিন্তু ডিভাইসগুলি সক্রিয় হল না এতদিনেও। তবু আশা ছাড়তে নারাজ ইসরো। শেষ দিনেও কামাল দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।












Click it and Unblock the Notifications