আদালতে যাওয়ার পথে জখম শাহজাহান মামলার সাক্ষী! জেলে বসেই খুনের ছক? ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য
শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছিলেন অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষ। পথেই ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। তাঁর গাড়িটিকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে একটি দশচাকার লরি। ধাক্কা মারার ফলে গাড়িটি রাস্তার ধারে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ভোলানাথের ছোট ছেলে ও গাড়ির চালক। ভোলানাথ আঘাত পেলেও তিনি বেঁচে যান। তবে ছেলের মৃত্যুর খবরে অসুস্থ হয়ে গেলে তাঁকে তড়িঘড়ি করে কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবে দেখলে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ দুর্ঘটনাই মনে হতে পারে। কিন্তু ভোলানাথের পরিবার ও গ্রামবাসীদের মধ্যে একাধিক মানুষের সন্দেহ যে, এর পিছনে বড় কোনও চক্রান্ত লুকিয়ে আছে। কারণ, ঘটনাটির আগে ও পরে যা যা ঘটেছে তা সবটাই বেশ সন্দেহজনক।
বাসন্তী হাইওয়ের বয়ারমারি পেট্রল পাম্পের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জায়গাটি কোনওভাবেই দুর্ঘটনাপ্রবণ নয়। রাস্তা চওড়া এবং সোজা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন যে, লরিটি পিছন থেকে দ্রুতগতিতে এসে গাড়িটিকে পাশ দিয়ে ধাক্কা মারে। তারপরে আরও দূর পর্যন্ত গাড়িটিকে ঠেলে নিয়ে যায় এবং খাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়। ধাক্কার পরই লরির চালক নেমে পালিয়ে যায়। ঠিক সেই সময়ই একটি বাইক আসে। আর সেই বাইকে উঠেই ওই লরির চালক উধাও হয়ে যায়।
আরও একটা বিষয় বেশ সন্দেহ বাড়াচ্ছে। লরিটি ফাঁকা ছিল। সাধারণত মালভর্তি লরি এত জোরে চালানো যায় না। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি করছেন যে, তালতলা মোড় থেকেই লরিটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
ভোলানাথ ঘোষ একজন তৃণমূল কর্মী। আগে তিনি শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখন তিনি ইডি ও সিবিআই-এর খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী। এদিনও আদালতে শাহজাহানের বিরুদ্ধে তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। আর সেই সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ভোলানাথের পরিবার ও গ্রামের কিছু মানুষ মনে করছেন যে, এটা কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। এটা সম্পূর্ণ একটা চক্রান্ত। তাঁদের দাবি, জেলের মধ্যেই বসে শাহজাহান আগেও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁরা সন্দেহ করছেন যে, এই ঘটনাও পরিকল্পিত হতে পারে।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষও বলেছেন, "এটা খুনের চেষ্টা। দুর্ঘটনা পুরোটাই সাজানো হয়েছে। ধাক্কা মারার পরই বাইক এসে লরির চালককে তুলে নিয়ে গেল। এটা খুবই সন্দেহজনক।"
ভোলানাথের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ ঘোষও সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন যে, "বাবাকে মারার হুমকি অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। এটা ১০০ শতাংশ খুন। শাহজাহানের নির্দেশে সবিতা রায় এবং মোসলেম শেখ এই কাজ করেছে।"
তবে মোসলেম শেখ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, "সব মিথ্যে কথা।"












Click it and Unblock the Notifications