শুভেন্দুদের দলবদল ভৌগলিক অবস্থানের ভোট-অঙ্কে বিজেপিকে কোন সুবিধা দেবে! কিছু পরিসংখ্যান একনজরে
শুভেন্দুদের দলবদল ভৌগলিক অবস্থানের ভোট-অঙ্কে বিজেপিকে কোন সুবিধা দেবে! কিছু পরিসংখ্যান একনজরে
অত্যন্ত সন্তর্পণে বাংলার বুকে একে একে ঘুঁটি সাজিয়ে নিজের মতো ছকে এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। ২০২১ কে পাখির চোখ করে একের পর এক ঘুঁটি সাজিয়ে এগোচ্ছে বিজেপি। আর সেই চলার পথে শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের বিজেপিতে যোগদান রীতিমতো প্রাসঙ্গিক। শক্তি বৃদ্ধিই শুধু নয়, শুভেন্দু সহ বাকি নেতাদের বিজেপি যোগদানের নেপথ্যে রয়েছে ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কিয় কিছু তাৎপর্যও!

বিজেপির সাপোর্ট বেস ও বাংলা
বাংলায় বিজেপির সাপোর্ট বেস তৈরি হয়েছে দুটি ভিন পর্যায়ে। একটি হল ২০১৪ সালে। যখন বামেদের সমর্থকরা বিজেপিতে যেতে শুরু করে মমতা বিরোধিতার সুর ধরে, আর তারপর ২০১৯ সালে গোটা দেশে মোদী সুনামি ও বাংলায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দি বলয় সংযুক্ত হতে থাকে বিজেপির সঙ্গে। আসে হিন্দু ভোটাররা। সেই সূত্র ধরে ফুলে ফেঁপে ওঠে বিজেপি।

বিজেপির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
তবে ২০২১ এ ২৯৪ আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ১৪৭ আসন পেতে এই সাপোর্ট বেস খুব একটা বড় নয়। ফলে শক্তি বৃদ্ধি করতে বিজেপিকে তেমন জায়গায় মাটি পোক্ত করতে হত, যেখানে তারা এখনও দুর্বল। আর সেই দুর্বলতার প্রশ্নেই আসে বাংলার মাটিতে কিছু ভৌগলিক অবস্থানের পরিস্থিতি। আর সেই সূত্র ধরেই তাৎপর্য পেয়েছেন শুভেন্দুর মতো নেতারা।

চাণক্য নীতি ও শুভেন্দুদের গুরুত্ব
২০১৯ সালের আগে মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদান বাংলার বুকে সংগঠনকে মজবুত করেছিল। তবে , শুভেন্দু ভৌগলিক ভোট অঙ্কের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায়, বাংলায় যে বিধানসভা আসন রয়েছে তার ৫৭ শতাংশই দক্ষিণবঙ্গ। আর সেই দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গে তৃণমূলের দখল বেশ পোক্ত। ফলে বিজেপি দেখেছে, বাংলা দখল করতে হলে দক্ষিণবঙ্গ দখল জরুরি। সেক্ষেত্রে শুভেন্দুর দক্ষিণবঙ্গ থেকে মধ্যবঙ্গে 'সমর্থক বেস' বেশ পোক্ত।

দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির তুলনা মূলক পরিস্থিতি
২০০৯ সালে বিজেপি দক্ষিণবঙ্গ থেকে ৫ শতাংশ ভোট পায়। এরপর ২০১৯ সালের ভোটে তারা দক্ষিণবঙ্গ থেকে পায় ৪০ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, ২০০৯ সালে তৃণমূল দক্ষিণবঙ্গে ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে । আর ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে ২০১৯ সালের ভোটে। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের তরফে শুভেন্দু অধিকারীকে মমতা মুর্শিদাবাদ, সহ জঙ্গলমহলের একাধিক এলাকার পর্যবেক্ষকের আসনে তখন বসিয়েছিলেন।ফলে এই সমস্ত এলাকার পোক্ত জমি শুভেন্দুর জানা। শুভেন্দুর দখলে দক্ষিণবঙ্গের জেলা যেমন কিছু ছিল, তেমনই তাঁর দাপট মধ্যবঙ্গের জেলাগুলিতেও ছিল। যার প্রমাণ মৌসমের মতো হেভিওয়েটের তৎকালীন তৃণমূলে যোগদান। ফলে সেই সাপোর্ট বেসকে বিজেপি কাজে লাগিয়ে এই দুই এলাকা দখলে কার্যকরী হবে বলে মনে করছে। এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, মধ্যবঙ্গ ২০১৯ ভোটে বিজেপিকে ২৫.১ শতাংশ ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে জঙ্গলমহল ২০১৯ ভোটে বিজেপিকে সদ্য লোকসভা ভোটে ৪৬.৫ শতাংশ ভোট দিয়েছে।

জঙ্গলমহল থেকে দক্ষিণবঙ্গ কেন দামী?
জঙ্গলমহল ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে বাংলায় ৭০ শতাংশ বিধানসভা আছে। আর সেখানেই বহু এলাকায় তৃণমূলের প্রাক্তন পর্যবেক্ষক হওয়ার কারণে শুভেন্দুর গুরুত্ব অপরিসীম। এদিকে, মেদিনীপুর তাঁর নিজের জায়গা।এদিকে, গত শনিবার শুভেন্দুর সঙ্গে যে নেতারা বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই মেদিনীপুর, হুগলি, ২৪ পরগনা, মালদা, দিনাজপুর এলাকার প্রতিনিধি। ফলে বিজেপি যে দক্ষিণবঙ্গ ও জঙ্গলমহলকে টার্গেটে রেখেছে তা স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে ১৯ এর মেগা যোগদান।












Click it and Unblock the Notifications