বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী থেকে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সরকারী, কে ছিলেন এই চন্দ্রনাথ রথ?
মধ্যমগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। সম্প্রতি সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে এই উভয় আসনেই জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

চন্দ্রনাথ রথ কেবল একজন সাধারণ সহকারী ছিলেন না। তিনি একসময় ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কাজ করেছেন এবং পরে শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকার এবং 'রাস্তায় বিষয় নিয়ে যাওয়ার’ চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই হত্যা রাজ্য জুড়ে চলমান উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত সোমবার, ৪ মে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে বাংলায় ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। রথের হত্যাকাণ্ড এমন এক সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই ঘটল।
চন্দ্রনাথ রথ (৪১) পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা ছিলেন। এই চণ্ডীপুরকে কেন্দ্র করেই বাংলার রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান ঘটেছিল।
অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অংশ হওয়া সত্ত্বেও রথ বহু বছর ধরেই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন। তিনি শান্ত স্বভাবের এবং লো-প্রোফাইলের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রথ তাঁর পড়াশোনা সম্পন্ন করেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের অধীনে এবং প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কাজ করেছেন। রামকৃষ্ণ মিশনের সময়কালে তিনি প্রতিষ্ঠানের আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং একবার আধ্যাত্মিক জীবন যাপনের কথাও ভেবেছিলেন বলে রথ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জানা গেছে, বিমান বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর তিনি স্বল্প সময়ের জন্য কর্পোরেট সেক্টরে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি রাজনৈতিক সাংগঠনিক কাজে, যেমন সমন্বয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে যুক্ত হতে শুরু করেন।
রথের রাজনৈতিক জগতে প্রবেশ আকস্মিক ছিল না। তাঁর পরিবারের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক যোগ ছিল, যা পরে বিজেপি-তে স্থানান্তরিত হয়। তাঁর মা হাসি রথ তৃণমূল জমানায় পূর্ব মেদিনীপুরের একটি স্থানীয় পঞ্চায়েত সংস্থায় পদাধিকারী ছিলেন, যিনি ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন।
পরিবারের পরিচিতদের উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, রথ পরিবার এবং অধিকারীর মধ্যে দুই দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক রয়েছে, যা পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের বিস্তারের প্রাথমিক বছরগুলি থেকে শুরু হয়েছিল।
চন্দ্রনাথ রথ আনুমানিক ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর দলে যোগ দেন, যখন বর্তমান বিজেপি নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই সময় রথ অধিকারীর মন্ত্রীর কার্যালয় সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করতেন এবং পরে বিজেপিতে যোগদানের পরেও একই ধরনের ভূমিকা পালন করে গেছেন।
গত বছরগুলিতে, চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর রাজনৈতিক কাজের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ নেপথ্য ব্যক্তি হিসাবে নিজের কাজ করেছিলেন। সাংগঠনিক কাজ থেকে শুরু করে লজিস্টিক্যাল বিষয়, সবক্ষেত্রেই তিনি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতেন।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলি রথকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছে, যিনি অধিকারীর সম্পূর্ণ আস্থা উপভোগ করতেন এবং প্রায়শই প্রচার ও রাজনৈতিক সমন্বয় সম্পর্কিত সংবেদনশীল কার্যকলাপে জড়িত থাকতেন।
বিজেপি সংগঠনের মধ্যে এমন গুজবও ছিল যে, বিধানসভা নির্বাচনের পর যদি শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরও বড় কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেন, তবে রথের একটি বড় প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।












Click it and Unblock the Notifications